قَالَتۡ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلۡمَلَؤُاْ أَفۡتُونِي فِيٓ أَمۡرِي مَا كُنتُ قَاطِعَةً أَمۡرًا حَتَّىٰ تَشۡهَدُونِ

ক-লাত ইয়াআইয়ুহাল মালাউ আফতূনী ফীআমরী মা-কুনতুক-তি‘আতান আমরন হাত্তা-তাশহাদূ ন।উচ্চারণ

(পত্র শুনিয়ে) রাণী বললো, “হে জাতীয় নেতৃবৃন্দ! আমার উদ্ভূত সমস্যায় তোমরা পরামর্শ দাও। তোমাদের বাদ দিয়ে তো আমি কোন বিষয়ের ফায়সালা করি না।” ৩৮ তাফহীমুল কুরআন

রাণী বলল, ওহে জাতির নেতৃবৃন্দ! যে সমস্যাটি আমার সামনে দেখা দিয়েছে, এ বিষয়ে তোমরা আমাকে সিদ্ধান্তমূলক পরামর্শ দাও। আমি কোন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না, যতক্ষণ না তোমরা আমার কাছে উপস্থিত থাক।মুফতী তাকী উসমানী

সেই নারী বললঃ হে পরিষদবর্গ! আমার এই সমস্যায় তোমাদের অভিমত দাও; আমি যা সিদ্ধান্ত নিই তাতো তোমাদের উপস্থিতিতেই নিই।মুজিবুর রহমান

বিলকীস বলল, হে পরিষদবর্গ, আমাকে আমার কাজে পরামর্শ দাও। তোমাদের উপস্থিতি ব্যতিরেকে আমি কোন কাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সেই নারী বলল, ‘হে পারিষদবর্গ! আমার এই সমস্যায় তোমাদের অভিমত দাও। আমি কোন ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না তোমাদের উপস্থিতি ব্যতীত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে (রাণী) বলল, ‘হে পারিষদবর্গ, তোমরা আমার ব্যাপারে আমাকে অভিমত দাও। তোমাদের উপস্থিতি ছাড়া আমি কোন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না।আল-বায়ান

সে বলল, ওহে সভাসদরা! তোমরা আমার কর্তব্য সম্পর্কে আমাকে সিদ্ধান্ত দাও। তোমাদের উপস্থিতি ব্যতীত আমি কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি।’তাইসিরুল

সে বললে -- "ওহে প্রধানগণ! আমার করণীয় সন্বন্ধে আমাকে উপদেশ দাও, আমি কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হই না যে পর্যন্ত না তোমরা আমার সাক্ষাতে থাকো।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৮

মূল শব্দ হচ্ছে حَتَّى تَشْهَدُونِ -যতক্ষণ না তোমরা উপস্থিত হও অথবা তোমরা সাক্ষী না হও। অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির ফায়সালা করার সময় আমার নিকট তোমাদের উপস্থিতি জরুরী হয়ে পড়ে। তাছাড়া আমি যে ফায়সালাই করি না কেন তার সঠিক হবার ব্যাপারে তোমাদের সাক্ষ্য দিতে হয়। এ থেকে যে কথা প্রকাশিত হয় তা হচ্ছে এই যে, সাবা জাতির মধ্যে রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রচলন থাকলেও তা কোন স্বৈরতান্ত্রিক মেজাজের ছিল না বরং তদানীন্তন শাসনকর্তা রাষ্ট্রের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের সাথে পরামর্শ করেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ে ফায়সালা করতেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৩২. সে নারী বলল, হে পরিষদবৰ্গা! আমার এ ব্যাপারে তোমাদের মতামত দাও।(১) আমি কোন ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ করি না তোমাদের উপস্থিতি ছাড়া।

(১) أَفْتُونِي শব্দটি فتوى শব্দ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ কোন বিশেষ প্রশ্নের জওয়াব দেয়া। এখানে পরামর্শ দেয়া এবং নিজের মত প্ৰকাশ করা বোঝানো হয়েছে। সম্রাজ্ঞী বিলকীসের কাছে যখন সুলাইমান আলাইহিস সালামের পত্র পৌছল তখন সে তার সভাসদদেরকে একত্রিত করে ঘটনা বর্ণনা করল এবং তাদের পরামর্শ তলব করল যে, এ ব্যাপারে কি করা উচিত। সে তাদের অভিমত জিজ্ঞাসা করার পূর্বে মনোরঞ্জনের জন্য একথাও বলল, আমি তোমাদের উপস্থিতি ব্যতীত কোন ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ করি না। (ফাতহুল কাদীর)

এর ফলেই সেনাধ্যক্ষগণ ও মন্ত্রীবর্গ এর জওয়াবে সম্পূর্ণ তৎপরতা সহকারে আদেশ পালনের জন্য সর্বপ্রকার ত্যাগ স্বীকারে সম্মতি জ্ঞাপন করল। এ থেকে বোঝা গেল যে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ গ্ৰহণ করার পদ্ধতি সুপ্রাচীন। ইসলাম পরামর্শকে বিশেষ গুরুত্ব দান করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং বিভিন্ন কাজে সাহাবায়ে কিরামের সাথে পরামর্শ করতেন এবং তাকে পরামর্শ করার নির্দেশও প্ৰদান করা হয়েছে। (বাগভী; কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩২) (বিলকীস) বলল, ‘হে পারিষদবর্গ! আমার এ সমস্যায় তোমাদের অভিমত দাও। আমি যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তা তো তোমাদের উপস্থিতিতেই করি।’