أَلَّا تَعۡلُواْ عَلَيَّ وَأۡتُونِي مُسۡلِمِينَ

আল্লা-তা‘লূ‘আলাইইয়া ওয়া’তূনী মুছলিমীন।উচ্চারণ

বিষয়বস্তু হচ্ছেঃ “আমার অবাধ্য হয়ো না এবং মুসলিম হয়ে আমার কাছে হাজির হয়ে যাও।” ৩৭ তাফহীমুল কুরআন

(তাতে সে লিখেছে) আমার উপর অহমিকা দেখিও না। বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে চলে এসো। #%১৫%#মুফতী তাকী উসমানী

অহমিকা বশে আমাকে অমান্য করনা, এবং আনুগত্য স্বীকার করে আমার নিকট উপস্থিত হও।মুজিবুর রহমান

আমার মোকাবেলায় শক্তি প্রদর্শন করো না এবং বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘অহমিকাবশে আমাকে অমান্য কর না, এবং আনুগত্য স্বীকার করে আমার নিকট উপস্থিত হও।’ইসলামিক ফাউন্ডেশন

'যাতে তোমরা আমার প্রতি উদ্ধত না হও এবং অনুগত হয়ে আমার কাছে আস'।আল-বায়ান

আমার প্রতি উদ্ধত হয়ো না, অনুগত হয়ে আমার কাছে হাজির হও।তাইসিরুল

আমার বিরুদ্ধে যেন হামবড়াই কর না, আর আমার কাছে এস মুসলিম হয়ে’।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৭

অর্থাৎ কয়েকটি কারণে পত্রটি গুরুত্বপূর্ণ। এক, পত্রটি এসেছে অদ্ভূত ও অস্বাভাবিক পথে। কোন রাষ্ট্রদূত এসে দেয়নি। বরং তার পরিবর্তে এসেছে একটি পাখি। সে পত্রটি আমার কাছে ফেলে দিয়েছে। দুই, পত্রটি হচ্ছে, ফিলিস্তীন ও সিরিয়ার মহান শাসক সুলাইমানের (আ) পক্ষ থেকে। তিন, এটি শুরু করা হয়েছে আল্লাহ রহমানুর রহীমের নামে। অথচ দুনিয়ার কোথাও চিঠিপত্র লেখার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় না। তারপর সকল দেবতাকে বাদ দিয়ে একমাত্র মহান ও শ্রেষ্ট আল্লাহর নামে পত্র লেখাও আমাদের দুনিয়ায় একটি অস্বাভাবিক ও অভিনব ব্যাপার। সর্বোপরি যে বিষয়টি এর গুরুত্ব আরো বেশী বাড়িয়ে দিয়েছে তা হচ্ছে এই যে, পত্রে আমাকে একেবারে পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাওয়াত দেয়া হয়েছে, আমি যেন অবাধ্যতার পথ পরিহার করে আনুগত্যের পথ অবলম্বন করি এবং হুকুমের অনুগত বা মুসলমান হয়ে সুলাইমানের সামনে হাজির হয়ে যাই।

“মুসলিম” হয়ে হাজির হবার দু’টি অর্থ হতে পারে। এক, অনুগত হয়ে হাজির হয়ে যাও। দুই, দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে হাজির হয়ে যাও। প্রথম হুকুমটি হযরত সুলাইমানের শাসকসুলভ মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্য রাখে। দ্বিতীয় হুকুমটি সামঞ্জস্য রাখে তাঁর নবীসুলভ মর্যাদার সাথে। সম্ভবত এই ব্যাপক অর্থবোধক শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে পত্রে উভয় উদ্দেশ্য অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে। ইসলামের পক্ষ থেকে স্বাধীন জাতি ও সরকারদেরকে সবসময় এ মর্মে দাওয়াত দেয়া হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর সত্য দ্বীন গ্রহণ করো এবং আমাদের সাথে ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় সমান অংশীদার হয়ে যাও অথবা নিজেদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা পরিত্যাগ করে ইসলামী জীবন ব্যবস্থার অধীনতা গ্রহণ করো এবং নিঃসংকোচে জিযিয়া দাও।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অনুমান করা যায়, ইয়ামানের এ অঞ্চলটিও হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল। কিন্তু কোনও এক সময়ে এ নারী সেখানে নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য গোপন চেষ্টা চালান এবং তাতে সফলতাও লাভ করেন। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম হুদহুদের মাধ্যমে এ খবর জানতে পেরে, যেমনটা কুরআন মাজীদ বলছে, এই সংক্ষিপ্ত অথচ দ্ব্যর্থহীন ও দৃঢ়ভাষ পত্রখানি লেখেন। বিস্তারিত কোন বক্তব্য নয়; বরং এতে তিনি বিলকীস ও তাঁর সম্প্রদায়কে অবাধ্যতা পরিহার করে আনুগত্য স্বীকার করার হুকুম দিয়েছেন। [এমন সংক্ষিপ্ত অথচ পূর্ণাঙ্গ ও তেজস্বী পত্র কদাচ কেউ লিখে থাকবে তাফসীরে উছমানী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৩১. যাতে তোমরা আমার বিরোধিতার ঔদ্ধত্য প্রকাশ না করো এবং আনুগত্য স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।(১)

(১) ‘মুসলিম’ হয়ে হাযির হবার দুটি অর্থ হতে পারে। এক, অনুগত হয়ে হাযির হয়ে যাও। দুই, তাওহীদবাদী হয়ে যাও বা দ্বীন ইসলাম গ্ৰহণ করে হাযির হয়ে যাও। প্রথম হুকুমটি সুলাইমানের শাসকসুলভ মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্য রাখে। দ্বিতীয় হুকুমটি সামঞ্জস্য রাখে তার নবীসুলভ মর্যাদার সাথে। (বাগভী; ইবন কাসীর) সম্ভবত এই ব্যাপক অৰ্থবোধক শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে পত্রে উভয় উদ্দেশ্য অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩১) তোমরা অহমিকাবশে আমাকে অমান্য করো না এবং আত্মসমর্পণ করে (মুসলমান হয়ে) আমার নিকট উপস্থিত হও।’(1)

(1) যেমন, নবী (সাঃ) বিভিন্ন রাজা-বাদশাহদেরকে পত্র দিয়েছিলেন, যাতে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। অনুরূপ সুলাইমান (সাঃ) বিলকীসকে পত্র দ্বারা ইসলামের দাওয়াত দিলেন। আজ-কাল প্রাপকের নাম আগে লেখা হয়। কিন্তু সালাফদের নিয়ম ছিল, প্রেরকের নাম আগে লেখা; যেমন সুলাইমান (আঃ) লিখলেন।