إِنَّهُمۡ عَنِ ٱلسَّمۡعِ لَمَعۡزُولُونَ

ইন্নাহুম ‘আনিছছাম‘ই লামা‘ঝূলূন।উচ্চারণ

তাদেরকে তো এর শ্রবণ থেকেও দূরে রাখা হয়েছে। ১৩৩ তাফহীমুল কুরআন

তাদেরকে তো (ওহী) শোনা থেকেও দূরে রাখা হয়েছে।মুফতী তাকী উসমানী

তাদেরকে শ্রবণের সুযোগ হতে দূরে রাখা হয়েছে।মুজিবুর রহমান

তাদেরকে তো শ্রবণের জায়গা থেকে দূরে রাখা রয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এদেরকে তো শ্রবণের সুযোগ হতে দূরে রাখা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই তাদেরকে এর শ্রবণ থেকে আড়ালে রাখা হয়েছে।আল-বায়ান

তাদেরকে এটা শোনা থেকে অবশ্যই দূরে রাখা হয়েছে।তাইসিরুল

নিঃসন্দেহ শুনবার ক্ষেত্রে তারা তো অপারগ।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৩৩

অর্থাৎ কুরআনের বাণী হৃদয়ে সঞ্চার করার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা তো দূরের কথা যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে রুহুল আমীন তা নিয়ে চলতে থাকেন এবং যখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মনোরাজ্যে তিনি তা নাযিল করেন তখন এ সমগ্র ধারাবাহিক কার্যক্রমের কোন এক জায়গায়ও শয়তানদের কান লাগিয়ে শোনারও কোন সুযোগ মেলে না। আশেপাশে কোথাও তাদের ঘুরে বেড়াবার কোন অবকাশই দেয়া হয় না। কোথাও থেকে কোনভাবে কিছু শুনে টুনে দু’একটি কথা চুরি করে নিয়ে গিয়ে তারা নিজেদের বন্ধু বান্ধবদের বলতে পারতো না যে, আজ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বাণী শুনাবেন অথবা তাঁর ভাষণে অমুক কথা বলা হবে। (ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন আল হিজর ৮-১২ ও আস্ সাফফাত ৫-৭ টীকা, সূরা আল জিন ৮-৯ ও ২৭ আয়াত)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

২১২. তাদেরকে তো শোনার সুযোগ হতে দূরে রাখা হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২১২) অবশ্যই ওদেরকে শ্রবণ থেকে দূরে রাখা হয়েছে। (1)

(1) এই আয়াতসমূহে কুরআন যে শয়তানের হস্তক্ষেপ হতে সংরক্ষিত, তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমতঃ শয়তানের কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হওয়ার যোগ্যতাই নেই। কারণ তার উদ্দেশ্য হল, ফিৎনা-ফাসাদ ও নোংরামী প্রচার-প্রসার করা। পক্ষান্তরে কুরআনের উদ্দেশ্য হল কল্যাণ ও পুণ্যের আদেশ ও তার প্রচার-প্রসার করা এবং পাপ ও অন্যায়ের দরজা চিরতরে বন্ধ করা। অর্থাৎ, উভয়ের উদ্দেশ্য এক অপরের বিপরীত ও পরস্পর-বিরোধী। দ্বিতীয়তঃ শয়তান এর শক্তি রাখে না। তৃতীয়তঃ কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় শয়তানকে তা শোনা হতে দূরে ও বঞ্চিত রাখা হয়। আকাশে উল্কাসমূহকে তার প্রহরী হিসাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। যখনই কোন শয়তান উপরে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখনই এ সব উল্কা তার উপর বজ্রের ন্যায় আচমকা আঘাত হানে এবং তাকে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলে। এভাবে মহান আল্লাহ কুরআন সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।