وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمۡ رَبُّكُم مِّنۡ أَزۡوَٰجِكُمۚ بَلۡ أَنتُمۡ قَوۡمٌ عَادُونَ

ওয়া তাযারূনা মা-খালাকা লাকুম রব্বুকুম মিন আঝওয়া-জিকুম বাল আনতুম কাওমুন ‘আ-দূ ন।উচ্চারণ

এবং তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে তোমাদের রব তোমাদের জন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা পরিহার করে থাকো? ১০৯ বরং তোমরা তো সীমা-ই অতিক্রম করে গেছো।” ১১০ তাফহীমুল কুরআন

আর বর্জন করে থাক তোমাদের স্ত্রীগণকে, যাদেরকে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন? প্রকৃতপক্ষে তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।মুফতী তাকী উসমানী

আর তোমাদের রাব্ব তোমাদের জন্য যে স্ত্রীলোক সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে তোমরা বর্জন করে থাক, বরং তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।মুজিবুর রহমান

এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগনকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে তোমরা বর্জন করে থাক। তোমরা তো সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর তোমাদের রব তোমাদের জন্য যে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে তোমরা ত্যাগ কর, বরং তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়’।আল-বায়ান

এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে ত্যাগ কর? রবং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’তাইসিরুল

আর পরিত্যাগ করছ তোমাদের স্ত্রীদের যাদের তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন? না, তোমরা তো সীমালংঘনকারী জাতি।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০৯

এরও দু’টি অর্থ হতে পারে। এক, এ ক্ষুধা পরিতৃপ্তির জন্য আল্লাহ‌ যে স্ত্রী জাতির সৃষ্টি করেছিলেন তাদেরকে বাদ দিয়ে তোমরা অস্বাভাবিক উপায়ে অর্থাৎ পুরুষদেরকে এ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছো। দুই, আল্লাহ‌ এ স্ত্রীদের মধ্যে এ ক্ষুধা পরিতৃপ্তির যে স্বাভাবিক পথ রেখেছিলেন তা বাদ দিয়ে তোমরা অস্বাভাবিক পথ অবলম্বন করছো। এই দ্বিতীয় অর্থটি থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এ জালেমরা নিজেদের স্ত্রীদেরকেও প্রকৃতি বিরোধী পথে ব্যবহার করতো। হতে পারে পরিবার পরিকল্পনার উদ্দেশ্য নিয়ে তারা এ কাজ করেছে।

১১০

অর্থাৎ তোমাদের কেবলমাত্র এ একটিই অপরাধ নয়। তোমাদের জীবনের সমস্ত রীতিই সীমাতিরিক্ত ভাবে বিগড়ে গেছে। কুরআন মজীদের অন্যান্য স্থানে তাদের এ সাধারণ অবস্থা এভাবে বর্ণনা করা হয়েছেঃ

أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ وَأَنْتُمْ تُبْصِرُونَ

“তোমাদের অবস্থা কি এমন হয়ে গেছে যে, চোখে দেখে অশ্লীল কাজ করছো?” (আন্ নামলঃ ৫৪ আয়াত)

أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ وَتَقْطَعُونَ السَّبِيلَ وَتَأْتُونَ فِي نَادِيكُمُ الْمُنْكَرَ

“তোমরা কি এমনই বিকৃত হয়ে গেছো যে, পুরুষদের সাথে সঙ্গম করছো, রাজপথে দস্যূতা করছো এবং নিজেদের মজলিসে প্রকাশ্যে খারাপ কাজ করছো?” (আল আনকাবুতঃ ২৯ আয়াত)

[আরো বেশী বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, আল হিজর, ৩৯ টীকা।]

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১৬৬. আর তোমাদের রব তোমাদের জন্য যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে তোমরা বর্জন করে থাক। বরং তোমরা তো এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৬৬) এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে তোমরা বর্জন করে থাক; (1) বরং তোমরা তো সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’ (2)

(1) এটি ছিল লূত জাতির সব থেকে বড় কুঅভ্যাস। পৃথিবীর ইতিহাসে যার প্রথম সূত্রপাত হয়েছিল এদেরই নিকট হতে। সেই জন্য এই কুকাজকে আরবীতে ‘লূত্বিয়্যাহ’ এবং উর্দুতে ‘লেওয়াত্বাত’ বলা হয়। অর্থাৎ, এমন পাপকর্ম যার সূত্রপাত লূত নবীর সম্প্রদায় দ্বারা হয়েছে। কিন্তু এখন এই পাপ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেছে। বরং ইউরোপে একে আইনতঃ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এখন তাদের নিকট এটা কোন পাপ বলেই গণ্য নয়। যে জাতির নৈতিক চরিত্র এত বিগড়ে গেছে যে, নারী-পুরুষের (পরস্পর সম্মতিক্রমে) অবৈধ যৌন-মিলন তাদের নিকট অন্যায় নয়, পাপ নয়, সে জাতির নিকট দুই পুরুষের আপোসের যৌন-মিলন (সমকামিতা) কিভাবে পাপ ও অন্যায়রূপে গণ্য হতে পারে? (আল্লাহ আমাদেরকে উক্ত প্রকার নৈতিক অবক্ষয় হতে রক্ষা করুন।)

(2) عَادُون শব্দটি عَادٍ শব্দের বহুবচন। আরবীতে عَادٍ শব্দের অর্থ সীমা অতিক্রমকারী। অর্থাৎ, সত্যকে ছেড়ে অসত্য ও হালালকে ছেড়ে হারাম এখতিয়ারকারী। মহান আল্লাহ শরয়ী বিবাহ-বন্ধন দ্বারা নারীর লজ্জাস্থানকে ব্যবহার করে নিজ যৌন-বাসনা পূর্ণ করা হালাল করেছেন এবং এ কাজের জন্য পুরুষ (তথা স্ত্রীর) পায়খানা-দ্বারকে ব্যবহার করা হারাম করেছেন। লূত-সম্প্রদায় স্ত্রীর যোনিপথ বর্জন করে পুরুষদের পায়ুদ্বার ব্যবহার করত বলে তারা সীমা অতিক্রমকারীরূপে গণ্য হয়েছে।