ওয়া তাত্তাখিযূনা মাসা-নি‘আ লা‘আল্লাকুম তাখলুদূন।উচ্চারণ
এবং বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছো, যেন তোমরা চিরকাল থাকবে? ৯১ তাফহীমুল কুরআন
আর তোমরা এমন শিল্পমণ্ডিত ইমারত নির্মাণ করছ, যেন তোমরা চিরজীবী হয়ে থাকবে। #%৩৬%#মুফতী তাকী উসমানী
আর তোমরা প্রাসাদ নির্মাণ করছ এই মনে করে যে, তোমরা চিরস্থায়ী হবে?মুজিবুর রহমান
এবং বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন তোমরা চিরকাল থাকবে?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘আর তোমরা প্রাসাদ নির্মাণ করছো এই মনে করে যে, তোমরা চিরস্থায়ী হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আর তোমরা সুদৃঢ় প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন তোমরা স্থায়ী হবে’।আল-বায়ান
আর বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ. যেন তোমরা চিরদিন থাকবে?তাইসিরুল
আর দুর্গ তৈরি করছ যেন তোমরা চিরস্থায়ী হবে?মাওলানা জহুরুল হক
৯১
অর্থাৎ তোমাদের অন্যান্য ইমারতগুলো ব্যবহারের জন্য নির্মিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেগুলোকে সুরম্য, কারুকার্যময় ও সুদৃঢ় করার ব্যাপারে তোমরা এতবেশী অর্থ, শ্রম ও যোগ্যতা নিয়োগ করছো যেন তোমরা এ দুনিয়ায় চিরকাল বসবাস করার ব্যবস্থা করছো, যেন শুধুমাত্র এখানকার আয়েশ-আরামের ব্যবস্থা করাই তোমাদের জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবং এছাড়া আর কোন কথাই চিন্তা করার নেই।
এ প্রসঙ্গে একথাও মনে রাখতে হবে যে, অপ্রয়োজনে বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণ করা এমন কোন বিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ড নয়, যার প্রকাশ কোন জাতির মধ্যে এভাবে পারে যে, তার অন্য সমস্ত কাজ কারবার তো ভালোই শুধুমাত্র এ একটি খারাপ ও ভুল কাজ সে করেছে। এ অবস্থা একটি জাতির মধ্যে সৃষ্টিই হয় এমন এক সময় যখন একদিকে তার মধ্যে দেখা দেয় সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে প্রবৃত্তি পূজা ও বৈষয়িক স্বার্থপরতা প্রবল হতে হতে উন্মত্ততার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। যখন কোন জাতির মধ্যে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়ে যায় তখন তার সভ্যতা-সংস্কৃতির সমগ্র ব্যবস্থাটিই পচে দুর্গন্ধময় হয়ে পড়ে। হূদ (আ) তাঁর জাতির ইমারত নির্মাণের যে সমালোচনা করেন তার উদ্দেশ্য এ ছিল না যে, তিনি শুধুমাত্র তাদের এ ইমারত নির্মাণকেই আপত্তিকর মনে করতেন বরং তিনি সামগ্রিকভাবে তাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকৃতির সমালোচনা করছিলেন এবং এ ইমারতগুলোর কথা তিনি এমন ভাবে উচ্চারণ করেছিলেন যেন সারা দেশে সর্বত্র এ বড় বড় ফোড়াগুলো সেই বিকৃতির সবচেয়ে সুস্পষ্ট আলামত হিসেবে পরিদৃষ্ট হচ্ছে।
আয়াতে ব্যবহৃত مَصَانِعَ শব্দটির মূল অর্থ এমন সব জিনিস, যা শৈল্পিক দক্ষতার প্রদর্শনীস্বরূপ নির্মাণ করা হয়। কাজেই শান-শওকত ও জাকজমকপূর্ণ ঘর-বাড়ি, দালান-কোঠা, দুর্গ, দীঘি, রাস্তাঘাট ইত্যাদি সবই এর অন্তর্ভুক্ত; যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে দর্প দেখানো ও বাহাদুরি ফলানো। আদ জাতি এসব করত বলে হযরত হুদ আলাইহিস সালাম আপত্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বোঝাচ্ছিলেন যে, এটা কেমন কথা তোমরা নাম-ডাক কামানো ও বড়ত্ব ফলানোকেই জীবনের উদ্দেশ্য বানিয়ে নিয়েছ এবং যত দৌড়-ঝাঁপ, তা একে কেন্দ্র করেই করছ। ভাবখানা এই, যেন তোমরা চিরকাল এই দুনিয়ায় থাকবে। কখনও তোমাদের মৃত্যু হবে না এবং আল্লাহ তাআলার সামনে তোমাদের কখনও দাঁড়াতে হবে না।
১২৯. আর তোমরা প্রাসাদসমূহ(১) নির্মাণ করছ যেন তোমরা স্থায়ী হবে।(২)
(১) مَصَانِعَ শব্দটি مَصْنَعٌ এর বহুবচন। কাতাদাহ বলেনঃ مَصَانِعَ বলে পানির চৌবাচ্চা বোঝানো হয়েছে; কিন্তু মুজাহিদ বলেন যে, এখানে সুদৃঢ় প্রাসাদ বোঝানো হয়েছে। (ইবন কাসীর)
(২) (لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ) ইমাম বুখারী সহীহ বুখারীতে বর্ণনা করেন যে, এখানে لعل শব্দটি تشبيه অর্থাৎ উদাহরণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ইবনে আব্বাস এর অনুবাদে বলেনঃ كَأنَّهُمْ تَخْلُدُونَ অর্থাৎ যেন তোমরা চিরকাল থাকবে। (কুরতুবী)
(১২৯) তোমরা প্রাসাদ নির্মাণ করছ এ মনে করে যে, তোমরা (পৃথিবীতে) চিরস্থায়ী হবে। (1)
(1) অনুরূপ তারা বিশাল বিশাল মজবুত প্রাসাদ নির্মাণ করত, যেন তারা সেখানে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস করবে।