ওয়াগফির লিআবী ইন্নাহূক-না মিনাদ্দাল্লীন,উচ্চারণ
আর আমার বাপকে মাফ করে দিও, নিঃসন্দেহে তিনি পথভ্রষ্টদের দলভুক্ত ৬৩ ছিলেন তাফহীমুল কুরআন
এবং আমার পিতাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই তিনি পথভ্রষ্টদের একজন। #%২৭%#মুফতী তাকী উসমানী
আর আমার পিতাকে ক্ষমা করুন, সেতো পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত।মুজিবুর রহমান
এবং আমার পিতাকে ক্ষমা কর। সে তো পথভ্রষ্টদের অন্যতম।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘আর আমার পিতাকে ক্ষমা কর, তিনি তো পথভ্রষ্টদের শামিল ছিলেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আর আমার পিতাকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিল’।আল-বায়ান
আর তুমি আমার পিতাকে ক্ষমা কর, তিনি তো গুমরাহদের অর্ন্তভুক্ত।তাইসিরুল
"আর আমার পিতৃপুরুষকে পরিত্রাণ করো, কেননা সে তো পথভ্রান্তদের মধ্যেকার হয়ে গেছে।মাওলানা জহুরুল হক
৬৩
কোন কোন মুফাসসির হযরত ইব্রাহীমের মাগফেরাতের দোয়ার ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, তাঁর এ মাগফেরাত কামনা ছিল ইসলামের শর্ত সাপেক্ষ। কাজেই তাঁর নিজের পিতার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করাটা ছিল যেন আল্লাহ তাঁকে ইসলাম গ্রহণ করার তাওফীক দান করেন, এ ধরণের একটি দোয়া। কিন্তু কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে এ সম্পর্কে যে ব্যাখ্যা পাওয়া যায় তা সংশ্লিষ্ট মুফাসসিরগণের এ ব্যাখ্যার সাথে মেলে না। কুরআন বলছে, হযরত ইব্রাহীম নিজের পিতার জুলুম সইতে না পেরে যখন ঘর থেকে বের হচ্ছিলেন তখন বলেনঃ
سَلَامٌ عَلَيْكَ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّي إِنَّهُ كَانَ بِي حَفِيًّا
“আপনাকে সালাম, আমি আপনাকে ক্ষমা করার জন্য নিজের রবের কাছে দোয়া করবো। তিনি আমার প্রতি বড়ই মেহেরবান।” (মারয়াম, ৪৭ আয়াত)
এ প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তিনি এ মাগফেরাতের দোয়া করেন কেবলমাত্র নিজের পিতার জন্য নয় বরং অন্য এক স্থানে বলা হয়েছে মাতা ও পিতা উভয়ের জন্য করেনঃ رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ “হে আমাদের রব! আমার গোনাহ মাফ করো এবং আমার মাতা-পিতারও।” (ইবরাহীম, ৪১ আয়াত) কিন্তু পরে তিনি নিজেই অনুভব করেন যে, একজন সত্যের দুশমন একজন মু’মিনের পিতা হলেও মাগফেরাতের দোয়ার হকদার হয় না।
وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَنْ مَوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ
“ইব্রাহীমের নিজের পিতার জন্য মাগফেরাতের দোয়া করা নিছক তাঁর প্রতিশ্রুতির কারণে ছিল, যা সে করেছিল। কিন্তু সে যে আল্লাহর দুশমন, একথা যখন তাঁর কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল তখন সে তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করলো।” (আত্ তাওবা, ১১৪ আয়াত)
সূরা মারয়ামে (১৯ : ৪৭) গেছে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম পিতার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলেন, তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে তার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করবেন। কিন্তু যখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসল এবং তিনি জানতে পারলেন, পিতা কখনও ঈমান আনবে না, তখন তিনি ক্ষান্ত হয়ে গেলেন এবং তার সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কচ্ছেদ ঘোষণা করলেন। যেমন সূরা তাওবায় বলা হয়েছে (৯ : ১১৪)।
৮৬. আর আমার পিতাকে ক্ষমা করুন, তিনি তো পথভ্রষ্টদের শামিল ছিলেন।(১)
(১) পবিত্র কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে, (مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَىٰ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ) “আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মুমিনদের জন্য সংগত নয় যখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, নিশ্চিতই ওরা জাহান্নামী”। (সূরা আত্-তাওবাঃ ১১৩) কুরআনুল করীমের এই ফরমান জারি হওয়ার পর এখন যার মৃত্যু কুফরের উপর নিশ্চিত ও অবধারিত; তার জন্য মাগফেরাতের দো'আ করা অবৈধ ও হারাম। কিন্তু এ আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা। ইবরাহীম'আলাইহিস সালাম-এরদো আউল্লেখ করে বলেছেনঃ (وَاغْفِرْ لِأَبِي إِنَّهُ كَانَ مِنَ الضَّالِّينَ) “আর আমার পিতাকে ক্ষমা করে দিন তিনি তো পথভ্রষ্টদের শামিল ছিলেন”। তা থেকে প্রশ্ন দেখা দেয় যে, উপরোক্ত নিষেধাজ্ঞার পর ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তার মুশরিক পিতার জন্য কেন মাগফেরাতের দো'আ করলেন? আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন নিজেই কুরআনুল করীমে এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ (وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَنْ مَوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهٌ حَلِيمٌ) (সূরা আত্-তাওবাঃ ১১৪) অর্থাৎ “ইবরাহীম তাঁর পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন, তাকে এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে; তারপর যখন এটা তার কাছে সুস্পষ্ট হল যে, সে আল্লাহর শত্রু তখন ইবরাহীম তার থেকে নিজেকে বিমুক্ত ঘোষণা করলেন। ইবরাহীম তো কোমল হৃদয় ও সহনশীল।”(সূরা আত-তাওবা: ১১৪)
(৮৬) আর আমার পিতাকে ক্ষমা কর, সে তো একজন পথভ্রষ্ট। (1)
(1) এই দু’আ ঐ সময়কার যখন তাঁর নিকট স্পষ্ট ছিল না যে, মুশরিক (আল্লাহর শত্রু)-দের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা বৈধ নয়। অতঃপর যখন মহান আল্লাহ একথা পরিষ্কার করে দিলেন, তখন তিনি নিজ পিতা হতে সম্পূর্ণরূপে পৃথক হয়ে গেলেন। (সূরা তাওবাহ ১১৪ আয়াত)