وَٱجۡعَل لِّي لِسَانَ صِدۡقٖ فِي ٱلۡأٓخِرِينَ

ওয়াজ‘আললী লিছা-না সিদকিন ফিল আ-খিরীন।উচ্চারণ

আর পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে আমার সত্যিকার খ্যাতি ছড়িয়ে দিও ৬২ তাফহীমুল কুরআন

এবং পরবর্তীকালীন লোকদের মধ্যে আমার পক্ষে এমন রসনা সৃষ্টি করুন, যা আমার সততার সাক্ষ্য দেবে। #%২৬%#মুফতী তাকী উসমানী

আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী করুন!মুজিবুর রহমান

এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে যশস্বী কর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং পরবর্তীদের মধ্যে আমার সুনাম-সুখ্যাতি অব্যাহত রাখুন’,আল-বায়ান

এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর।তাইসিরুল

"আর আমার জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সদালাপন সৃষ্টি করো।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬২

অর্থাৎ ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন মর্যাদা ও শুভেচ্ছা সহকারে আমার নাম স্মরণ করে। দুনিয়ায় যেন আমি এমন কাজ না করে যাই যার ফলে ভবিষ্যত বংশধররা আমার পরে আমাকে এমন সব জালেমদের দলভুক্ত করে যারা নিজেরাও ছিল অসৎ ও বিকৃত চরিত্রের অধিকারী এবং দুনিয়াকেও অসৎ ও বিকৃতির পথে চালিয়ে গেছে। বরং আমি যেন এমন সব কাজ করে যাই যার ফলে কিয়ামত পর্যন্ত আমার জীবন মানুষের জন্য আলোকবর্তিকার কাজ করে এবং আমাকে মানব হিতৈষী ও মানবজাতির সেবক গণ্য করা হয়। এটি নিছক লোক দেখানো খ্যাতি ও সুনাম অর্জনের দোয়া নয় বরং প্রকৃত সুখ্যাতি ও যথার্থ সুনাম অর্জনের দোয়া। নিশ্চিত খাঁটি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ও সেবাকর্মের ফলে এ সুখ্যাতি অর্জিত হয়। কোন ব্যক্তির এ জিনিস অর্জিত হলে দু’টো লাভ ও উপকার হয়। দুনিয়ায় এর ফলে মানবজাতির ভবিষ্যত বংশধররা খারাপ আদর্শের পরিবর্তে একটি ভালো আদর্শ পেয়ে যায়। এ থেকে তারা ভালো দৃষ্টান্ত লাভ করে এবং ভালো দৃষ্টান্ত থেকে পায় ভালো হবার শিক্ষা। প্রত্যেক সৎব্যক্তি এর মাধ্যমে সত্য-সঠিক পথে চলার প্রেরণা লাভ করে। আর আখেরাতে এর ফলে এক ব্যক্তির ভালো কর্মকাণ্ড অনুসরণ করে যত জন লোকই সৎপথের সন্ধান লাভ করে তাদের সওয়াব সেও লাভ করবে এবং কিয়ামতের দিন তার নিজের কর্মকাণ্ডের সাথে সাথে কোটি কোটি মানুষের সাক্ষ্যও তার স্বপক্ষে উপস্থিত থাকবে যাতে বলা হবে, সে দুনিয়ায় কল্যাণ ও সৎকর্মের এমন স্রোতধারা প্রবাহিত করে এসেছিল যে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যুগ যুগ ধরে সে ধারায় অবগাহন করেছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ এমন সৎকর্ম ও সুকীর্তির তাওফীক দান করুন, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম আমার সুখ্যাতি করে ও আমার অনুসরণ করতে আগ্রহী হয়। অথবা এর অর্থ, শেষ যমানায় যেন আমার বংশধরদের মধ্যে নবী ও আমার অনুসারী হয়, যারা আমার দীনকে নবজীবন দান করবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর এ দুআ এমনভাবে কবুল করেছেন যে, আজ সকল আসমানী ধর্মের অনুসারীরা এমনকি যারা তার আদর্শ হতে বিচ্যুত, তারা পর্যন্ত তার অকুণ্ঠ প্রশংসা করে এবং নিজেদেরকে তার দীনের পরিচয়ে পরিচিত করতে গর্ববোধ করে। শেষনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো নিজেকে তাঁরই দুআর ফসল বলে প্রকাশ করতেন এবং তিনি ও তার অনুসারীগণ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের এমনই স্মৃতিচারণকারী যে, পাঁচ ওয়াক্তের নামাযে তারা নিত্যদিন উচ্চারণ করেন كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ (-অনুবাদক, তাফসীরে উসমানী অবলম্বনে)

তাফসীরে জাকারিয়া

৮৪. আর আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে যশস্বী করুন(১),

(১) এ আয়াতের অর্থ এই যে, আল্লাহ আমাকে এমন সুন্দর তরিকা ও উত্তম নিদর্শন দান করুন, যা কেয়ামত পর্যন্ত মানবজাতি অনুসরণ করে এবং আমাকে উৎকৃষ্ট আলোচনা ও সদগুণাবলী দ্বারা স্মরণ করে। (ফাতহুল কাদীর, বাগভী, কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮৪) পরবর্তীদের মাঝে আমার সুনাম বজায় রাখ, (1)

(1) আমার পর কিয়ামত পর্যন্ত যারা পৃথিবীতে আসবে, তারা আমাকে উৎকৃষ্ট ভাষায় স্মরণ করবে। এখান থেকে বুঝা গেল যে, নেকীর বদলা দুনিয়াতে মহান আল্লাহ প্রশংসা, সুনাম ও সুখ্যাতির মাধ্যমে দিয়ে থাকেন। ইবরাহীম (আঃ)-কে প্রত্যেক জাতিই ভাল নামে স্মরণ করে থাকে। কেউ তার মহানুভবতা ও মর্যাদাকে অস্বীকার করে না।