هُوَ ٱلَّذِي يُصَوِّرُكُمۡ فِي ٱلۡأَرۡحَامِ كَيۡفَ يَشَآءُۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ

হুওয়াল্লাযী ইউসাওবিরুকুম ফিল আরহা-মি কাইফা ইয়াশাউ লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।উচ্চারণ

তিনি মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি গঠন করেন। এই প্রবল পরাক্রান্ত মহাজ্ঞানের অধিকারী সত্ত্বা ছাড়া আর কোন ইলাহ্‌ নেই। তাফহীমুল কুরআন

তিনিই সেই সত্তা, যিনি মায়ের পেটে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি দান করেন। তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি পরম পরাক্রান্ত এবং সমুচ্চ প্রজ্ঞারও অধিকারী। মুফতী তাকী উসমানী

তিনিই স্বীয় ইচ্ছানুযায়ী জরায়ুর মধ্যে তোমাদের আকৃতি গঠন করেছেন। তিনি ব্যতীত অন্য কোনই উপাস্য নেই, তিনি পরাক্রান্তশালী, বিজ্ঞানময় ।মুজিবুর রহমান

তিনিই সেই আল্লাহ, যিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করেন মায়ের গর্ভে, যেমন তিনি চেয়েছেন। তিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। তিনি প্রবল পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনিই মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি গঠন করেন। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নেই; তিনি প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই মাতৃগর্ভে তোমাদেরকে আকৃতি দান করেন যেভাবে তিনি চান। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই; তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।আল-বায়ান

তিনিই তোমাদেরকে মায়ের পেটে যেভাবে ইচ্ছে আকৃতি দেন, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, তিনি মহাশক্তিমান ও প্রজ্ঞাশীল।তাইসিরুল

তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের গড়ে তোলেন জঠরের ভেতরে যেমন তিনি চান। তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, -- মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

এখানে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এক, তোমাদের প্রকৃতিকে তাঁর মতো করে কেউ জানতে পারে না, এমনকি তোমরা নিজেরাও জানতে পারো না। কাজেই তার পথপ্রদর্শন ও পথনির্দেশনার ওপর আস্থা স্থাপন করা ছাড়া তোমাদের গত্যন্তর নেই। দুই, যিনি গর্ভাশয়ে তোমাদের উৎপত্তি থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল পর্যায়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে তোমাদের ছোট ছোট প্রয়োজনগুলোও পূর্ণ করার ব্যবস্থা করেছেন, তিনি দুনিয়ার জীবনে তোমাদের হিদায়াত ও পথ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবেন না, এটা কেমন করে সম্ভব হতে পারে? অথচ তোমরা সবচেয়ে বেশী এ জিনিসটিরই মুখাপেক্ষী।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

মানুষ যদি তার সৃষ্টির পর্যায়ক্রমিক স্তরসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করে ও চিন্তা করে যে, সে মাতৃগর্ভে কিভাবে প্রতিপালিত হয় এবং কিভাবে অপরাপর অগণ্য মানুষ থেকে তার আকৃতিকে এমন পৃথকভাবে তৈরি করা হয় যে, অন্য কারও সাথে সে শতভাগ মিলে যায় না, তবে এসব যে এক আল্লাহর কুদরত ও হিকমতের অধীনেই হচ্ছে, এটা মানতে তার এক মুহূর্ত দেরী হবে না। এ আয়াতে এই বাস্তবতাকে তুলে ধরার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব, তাঁর একত্ব ও হিকমতের প্রতি ইশারা করা উদ্দেশ্য। সেই সঙ্গে এর দ্বারা আরও একটি দিক স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রিওয়ায়াত দ্বারা জানা যায়, একবার নাজরান থেকে খ্রিস্টানদের একটি প্রতিনিধিদল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসেছিল এবং তারা তাঁর সঙ্গে নিজেদের আকীদা-বিশ্বাস সম্পর্কে কথা বলেছিল। সূরা আলে-ইমরানের কয়েকটি আয়াত সেই প্রেক্ষাপটেই নাযিল হয়েছে। প্রতিনিধিদলটির দাবী ছিল ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর পুত্র। এর সপক্ষে তাদের দলীল ছিল যে, তিনি পিতা ছাড়া জন্ম লাভ করেছিলেন। এ আয়াত তাদের সে দলীল খণ্ডন করছে। ইশারা করা হচ্ছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তিরই সৃজন ও আকৃতি দানের কাজ আল্লাহ তাআলাই করেন। যদিও তিনি এই নিয়ম চালু করে দিয়েছেন যে, প্রত্যেক শিশু পিতার মাধ্যমে জন্ম লাভ করে, কিন্তু তিনি এ নিয়মের অধীন ও মুখাপেক্ষী নন। সুতরাং যখন চান এবং যাকে চান, পিতা ছাড়া সৃষ্টি করেন ও করতে পারেন। কাজেই পিতা ছাড়া কারও জন্মগ্রহণ দ্বারা তার ঈশ্বর বা ঈশ্বর-পুত্র হওয়া প্রমাণ হয় না।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬. তিনিই মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছে তোমাদের আকৃতি গঠন করেন।(১) তিনি ছাড়া অন্য কোন সত্য ইলাহ নেই; (তিনি) প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

(১) কাতাদা বলেন, আল্লাহর শপথ, আমাদের রব তার বান্দাদেরকে মায়ের গর্ভে যেভাবে ইচ্ছা গঠন করতে পারেন। ছেলে বা মেয়ে, কালো বা গৌরবর্ণ, পূর্ণসৃষ্টি অথবা অপূর্ণসৃষ্টি। (আত-তাফসীরুস সহীহ)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬) তিনিই মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি গঠন করেন। তিনি ব্যতীত অন্য কোন (সত্যিকার) উপাস্য নেই। (1) তিনি প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

(1) সুশ্রী অথবা কুশ্রী, ছেলে অথবা মেয়ে, সৌভাগ্যবান অথবা দুর্ভাগ্যবান এবং পূর্ণাঙ্গ অথবা বিকলাঙ্গ ইত্যাদি বিচিত্রময়তা মায়ের গর্ভে যখন এককভাবে আল্লাহই সৃষ্টি করেন, তখন ঈসা (আঃ) ইলাহ কিভাবে হতে পারেন? তিনি নিজেও তো সৃষ্টির নানা পর্যায় অতিক্রম করে দুনিয়াতে এসেছেন। মহান আল্লাহ তাঁরও সৃষ্টি সম্পাদন করেছেন তাঁর মায়ের গর্ভে।