আন আরছিল মা‘আনা-বানীইছরঈল।উচ্চারণ
যাতে তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দাও সে জন্য।” ১৩ তাফহীমুল কুরআন
(আমরা এই বার্তা নিয়ে এসেছি যে,) তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সঙ্গে যেতে দাও। মুফতী তাকী উসমানী
আমাদের সাথে যেতে দাও বানী ইসরাঈলকে।মুজিবুর রহমান
যাতে তুমি বনী-ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘আমাদের সঙ্গে যেতে দাও বনী ইসরাঈলকে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘যাতে তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠাও’।আল-বায়ান
বানী ইসরাঈলকে আমাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দাও।’তাইসিরুল
যে ইসরাইলের বংশধরদের আমাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দাও’।মাওলানা জহুরুল হক
১৩
হযরত মূসা ও হারুনের দাওয়াতের দু’টি অংশ ছিল। একটি ছিল ফেরাউনকে আল্লাহর বন্দেগীর দিকে আহ্বান করা। সকল নবীর দাওয়াতের আসল উদ্দেশ্য ছিল এটিই। দ্বিতীয়টি ছিল বনী ইসরাঈলকে ফেরাউনের গোলামীর বন্ধন মুক্ত করা। এটি ছিল বিশেষভাবে কেবলমাত্র তাঁদের দু’জনেরই আল্লাহর পক্ষ হতে অর্পিত দায়িত্ব। কুরআন মজীদে কোথাও শুধুমাত্র প্রথম অংশটির উল্লেখ করা হয়েছে (যেমন সূরা নাযি’আতে) আবার কোথাও শুধুমাত্র দ্বিতীয় অংশটির।
বনী ইসরাঈল অর্থ ইসরাঈলের বংশধর। ইসরাঈল হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের আরেক নাম। তাঁর বংশধরগণকেই বনী ইসরাঈল বলা হয়। তারা ফিলিস্তিনের কানআন এলাকায় বাস করত। কিন্তু হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন মিসরের শাসনক্ষমতা লাভ করেন, তখন তিনি তাঁর খান্দান তথা বনী ইসরাঈলের সকলকে মিসরে নিয়ে যান। সেখানে তারা দীর্ঘকাল বসবাস করে। সূরা ইউসুফে এ ঘটনা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। প্রথম দিকে তো তারা সম্মান ও শান্তির সাথেই বসবাস করছিল। কিন্তু হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের পর পরিস্থিতির ক্রম অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে মিসরের রাজাগণ, যাদেরকে ফির‘আউন বলা হত, তাদেরকে দাসরূপে ব্যবহার করতে শুরু করে এবং তাদের প্রতি নানা রকম জুলুম-নির্যাতন চালাতে থাকে।
১৭. যাতে তুমি আমাদেরকে সাথে যেতে দাও বনী ইসরাঈলকে।(১)
(১) বনী ইসরাঈল ছিল শাম দেশের বাসিন্দা। তাদেরকে স্বদেশে যেতে ফিরআউন বাধা দিত। এভাবে চার শত বছর ধরে তারা ফিরআউনের বন্দীশালায় গোলামীর জীবন যাপন করছিল। (দেখুন: বাগভী, কুরতুবী)
(১৭) সুতরাং আমাদের সঙ্গে বনী-ইস্রাঈলকে যেতে দাও।’ (1)
(1) অর্থাৎ, একটি কথা তুমি এই বল যে, আমি তোমার কাছে নিজের ইচ্ছায় আসিনি; বরং আল্লাহর প্রতিনিধি ও রসূল হিসাবে এসেছি। আর দ্বিতীয় কথা, তুমি (চারশ’ বছর ধরে) বনী-ইস্রাঈলকে দাসত্বের শৃংখলে আবদ্ধ রেখেছ, তাদেরকে মুক্ত ও স্বাধীন করে দাও; আমি তাদেরকে শাম দেশে নিয়ে যাব। যেহেতু এ বিষয়ে আল্লাহ তাদের সঙ্গে ওয়াদা করেছেন।