ফাকাদ কাযযাবূফাছাইয়া’তীহিম আমবাউ মা-ক-নূবিহী ইয়াছতাহঝিউন।উচ্চারণ
এখন যখন তারা মিথ্যা আরোপ করেছে, তখন তারা যে জিনিসের প্রতি বিদ্রূপ করে চলেছে, অচিরেই তার প্রকৃত স্বরূপ (বিভিন্ন পদ্ধতিতে) তারা অবগত হবে। ৪ তাফহীমুল কুরআন
এভাবে তারা তো সত্য প্রত্যাখ্যান করেছে। সুতরাং তারা যে বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, অচিরেই তার প্রকৃত সংবাদ তাদের কাছে এসে যাবে ।মুফতী তাকী উসমানী
তারাতো মিথ্যা জেনেছে, সুতরাং তারা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করত তার প্রকৃত বার্তা তাদের নিকট শীঘ্রই এসে পড়বে।মুজিবুর রহমান
অতএব তারা তো মিথ্যারোপ করেছেই; সুতরাং যে বিষয় নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত, তার যথার্থ স্বরূপ শীঘ্রই তাদের কাছে পৌছবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরা তো অস্বীকার করেছে। সুতরাং এরা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত তার প্রকৃত বার্তা তাদের নিকট শীঘ্রই এসে পড়বে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতএব অবশ্যই তারা অস্বীকার করেছে। কাজেই তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তার সংবাদ অচিরেই তাদের কাছে এসে পড়বে।আল-বায়ান
তারা (আল্লাহর বাণীকে) অস্বীকারই করেছে, শীঘ্রই তাদের কাছে তার সত্য উদঘাটিত হবে যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।তাইসিরুল
তাহলে তারা প্রত্যাখ্যান করেই ফেলেছে, সুতরাং যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রপ করত তার সংবাদ তাদের কাছে শীঘ্রই আসছে।মাওলানা জহুরুল হক
৪
অর্থাৎ যাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, যুক্তি সহকারে তাদেরকে কিছু বুঝাবার ও সঠিক পথ দেখাবার যে কোন চেষ্টাই করা হলে তারা প্রত্যাখ্যান ও অনাগ্রহের মাধ্যমে তার জবাব দেয়, তাদের অন্তরে জোরপূর্বক ঈমান স্থাপন করার জন্য আকাশ থেকে নিদর্শন অবতীর্ণ করে তাদের চিকিৎসা করানো যায় না বরং এ ধরণের লোকদের যখন একদিকে পুরোপুরি বুঝানো হয়ে গিয়ে থাকে এবং অন্যদিকে তারা প্রত্যাখ্যানের পর্যায় অতিক্রম করে চূড়ান্ত ও প্রকাশ্য মিথ্যা আরোপ করতে এবং সেখান থেকেও অগ্রসর হয়ে প্রকৃত সত্যের প্রতি বিদ্রূপ করতে শুরু করে তখন তাদের পরিণাম দেখিয়ে দেয়াই উচিত। এ অশুভ পরিণাম তাদেরকে এভাবেও দেখানো যেতে পারে যে, তাদের ওপর একটি যন্ত্রণাদায়ক আযাব নাযিল হবে এবং তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হবে। এ পরিণাম এভাবেও তাদের সামনে আসতে পারে যে, কয়েক বছর নিজেদের ভ্রান্ত ধারণায় নিমজ্জিত থাকার পর তারা অনিবার্য মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে এবং অবশেষে তাদের কাছে এ কথা প্রমাণিত হয়ে যাবে যে, যে পথে তারা নিজেদের জীবনের সমস্ত পুঁজি নিয়োগ করেছিল সেটি ছিল পুরোপুরি মিথ্যা এবং নবীগণ যে পথ পেশ করতেন এবং যার প্রতি তারা সারা জীবন ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে এসেছে সেটিই ছিল সত্য। এ অশুভ পরিণাম সামনে আসার যেহেতু অনেকগুলো পথ ছিল এবং বিভিন্ন লোকের সামনে তা বিভিন্ন আকারে আসতে পারে এবং চিরকালই এসেছে। তাই আয়াতে একবচনে نباء এর পরিবর্তে বহুবচনে انباء শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ যে জিনিসের প্রতি এরা বিদ্রূপ করছে তার প্রকৃত অবস্থা বিভিন্ন আকারে তারা জানতে পারবে।
‘সংবাদ’ বলে ঠাট্টা-বিদ্রূপের শাস্তি বোঝানো হয়েছে, যা তাদেরকে নগদ দুনিয়াতেই কিংবা আখিরাতে দেওয়া হবে। শাস্তিকে ‘সংবাদ’ বলা হয়েছে এ কারণে যে, কুরআন সে সম্পর্কে সংবাদ দান করেছে। অথবা সংবাদ দ্বারা যেমন অজ্ঞাত বিষয়ে জ্ঞান লাভ হয়, তেমনি সেই শাস্তি দ্বারা কুরআনের সত্যতা সম্পর্কে চাক্ষুষ জ্ঞান লাভ হবে বলে তাকে ‘সংবাদ’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। -অনুবাদক
৬. অতএব তারা তো মিথ্যারোপ করেছে। কাজেই তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তার প্রকৃত বার্তা তাদের কাছে শীঘ্রই এসে পড়বে।
(৬) ওরা অবশ্যই মিথ্যাজ্ঞান করেছে। সুতরাং ওরা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তার বার্তা শীঘ্রই এসে পড়বে। (1)
(1) অর্থাৎ, মিথ্যাজ্ঞান করার পরিণামস্বরূপ আমার শাস্তি অবশ্যই তাদেরকে পাকড়াও করবে, যাকে তারা অসম্ভব মনে করে ঠাট্টা ও উপহাস করছে। এ শাস্তি পৃথিবীতেও সম্ভব, যেমন বহু জাতি ধ্বংস হয়েছে। অন্যথা আখেরাতে তা থেকে বাঁচার কোন রাস্তা নেই। ঠাট্টা-বিদ্রূপের বার্তা আসার কথা বলা হয়েছে, মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়নি। কারণ প্রথমতঃ ঠাট্টা-বিদ্রূপে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ও মিথ্যা ভাবা দুই শামিল। আর দ্বিতীয়তঃ ঠাট্টা-বিদ্রূপ মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ও মিথ্যাজ্ঞান করার চাইতে বড় অপরাধ। (ফাতহুল কাদীর)