ওয়াল্লাযীনা ইযা-যুক্কিরূবিআ-য়া-তি রব্বিহিম লাম ইয়াখিররূ‘আলাইহা-সুম্মাওঁ ওয়া ‘উমইয়া-না-।উচ্চারণ
তাদের যদি তাদের রবের আয়াত শুনিয়ে উপদেশ দেয়া হয় তাহলে তারা তার প্রতি অন্ধ বধির হয়ে থাকে না। ৯১ তাফহীমুল কুরআন
এবং যখন তাদের প্রতিপালকের আয়াত দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয়, তখন তারা বধির ও অন্ধরূপে তার উপর পতিত হয় না। #%৩৫%#মুফতী তাকী উসমানী
এবং যারা তাদের রবের আয়াত স্মরণ করিয়ে দিলে ওর প্রতি অন্ধ এবং বধির সদৃশ আচরণ করেনা –মুজিবুর রহমান
এবং যাদেরকে তাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ বোঝানো হলে তাতে অন্ধ ও বধির সদৃশ আচরণ করে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং যারা তাদের প্রতিপালকের আয়াত স্মরণ করিয়ে দিলে এর প্রতি অন্ধ এবং বধিরসদৃশ আচরণ করে না, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দিলে অন্ধ ও বধিরদের মত পড়ে থাকে না।আল-বায়ান
আর তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের আয়াত স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে যারা তার প্রতি বধির ও অন্ধের ন্যায় আচরণ করে না (শুনেও শুনে না, দেখেও দেখে না- এমন করে না)।তাইসিরুল
আর যারা যখন তাদের প্রভুর নির্দেশসমূহ তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় তখন তারা তার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে না বধির ও অন্ধ হয়ে।মাওলানা জহুরুল হক
৯১
মূল শব্দগুলো হচ্ছে لَمْ يَخِرُّوا عَلَيْهَا صُمًّا وَعُمْيَانًا এর শাব্দিক তরজমা হচ্ছে, “তারা তার ওপর অন্ধ ও বোবা হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে না। কিন্তু এখানে “ঝাঁপিয়ে পড়া আভিধানিক অর্থে নয় বরং পারিভাষিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আমরা কথায় বলি, “জিহাদের হুকুম শুনে বসে রইলো।” এখানে বসে থাকা শব্দটি আভিধানিক অর্থে নয় বরং জিহাদের জন্য না ওঠা ও নড়াচড়া না করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কাজেই আয়াতের অর্থ হচ্ছে, তারা এমন লোক নয় যারা আল্লাহর আয়াত শুনে একটুও নড়ে না বরং তারা তার দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়। সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোতে যেসব নির্দেশ দেয়া হয়েছে তারা সেগুলো মেনে চলে। যেটি ফরয করা হয়েছে তা অবশ্য পালন করে। যে কাজের নিন্দা করা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকে। যে আযাবের ভয় দেখানো হয়েছে তার কল্পনা করতেই তাদের হৃদয় কেঁপে ওঠে।
এর দ্বারা মুনাফিকদেরকে কটাক্ষ করা হয়েছে। তারা আল্লাহ তাআলার আয়াত শুনে বাহ্যত তার প্রতি আগ্রহ প্রদর্শন করত এবং তার সামনে এমন বিনীত ভাব দেখাত, মনে হত যেন উপুড় হয়ে পড়ে যাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সত্য কথা শুনতে তারা মোটেই আগ্রহী ছিল না। সে দিক থেকে তারা চোখণ্ডকান বন্ধ করে অন্ধ ও বধির সদৃশ হয়ে যেত। ফলে কুরআনের আয়াত দ্বারা তারা উপকৃত হতে পারত না। পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলার নেক বান্দাগণ কুরআনের আয়াতসমূহকে আন্তরিক আগ্রহের সাথে গ্রহণ করে নেয়। তার বিষয়বস্তু মন দিয়ে শোনে এবং তা যে সত্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে চোখণ্ডকান খোলা রেখে তা বোঝার ও হৃদয়ঙ্গম করার চেষ্টা করে।
৭৩. এবং যারা তাদের রব-এর আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দিলে তার উপর অন্ধ এবং বধিরের মত পড়ে থাকে না।(১)।
(১) অর্থাৎ এই প্রিয় বান্দাগণকে যখন আল্লাহর আয়াত ও আখেরাতের কথা স্মরণ করানো হয়, তখন তারা এসব আয়াতের প্রতি অন্ধ ও বধিরদের ন্যায় মনোযোগ দেয় না; বরং শ্রবণশক্তি ও অন্তদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের ন্যায় এগুলো সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে ও তদনুযায়ী আমল করে। (তাবারী)
(৭৩) এবং যারা তাদের প্রতিপালকের আয়াত স্মরণ করিয়ে দিলে অন্ধ এবং বধির সদৃশ আচরণ করে না। (1)
(1) অর্থাৎ, তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় না ও অমনোযোগী হয় না। এমন নয় যে, তারা কানে কালা; শুনতে পায় না অথবা চোখে কানা; দেখতে পায় না। বরং তারা ধ্যান দিয়ে শোনে।