وَٱلَّذِينَ لَا يَشۡهَدُونَ ٱلزُّورَ وَإِذَا مَرُّواْ بِٱللَّغۡوِ مَرُّواْ كِرَامٗا

ওয়াল্লাযীনা লা-ইয়াশহাদূ নাঝঝূর ওয়া ইযা-মাররূবিল্লাগবিমাররূকির-মা-।উচ্চারণ

---(আর রহমানের বান্দা হচ্ছে তারা) যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না ৮৯ এবং কোন বাজে জিনিসের কাছ দিয়ে পথ অতিক্রম করতে থাকলে ভদ্রলোকের মত অতিক্রম করে যায়। ৯০ তাফহীমুল কুরআন

এবং (রহমানের বান্দা তারা) যারা অন্যায় কাজে শামিল হয় না #%৩৩%# এবং যখন কোন বেহুদা কার্যকলাপের নিকট দিয়ে যায়, তখন আত্মসম্মান বাঁচিয়ে যায়। #%৩৪%#মুফতী তাকী উসমানী

আর যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়না এবং যখন তারা অসার ক্রিয়া-কলাপের সম্মুখীন হয় তখন স্বীয় মর্যাদার সাথে তা পরিহার করে চলে –মুজিবুর রহমান

এবং যারা মিথ্যা কাজে যোগদান করে না এবং যখন অসার ক্রিয়াকর্মের সম্মুখীন হয়, তখন মান রক্ষার্থে ভদ্রভাবে চলে যায়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না এবং অসার ক্রিয়াকলাপের সম্মুখীন হলে স্বীয় মর্যাদার সঙ্গে তা পরিহার করে চলে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যারা মিথ্যার সাক্ষ্য হয় না এবং যখন তারা অনর্থক কথা-কর্মের পাশ দিয়ে চলে তখন সসম্মানে চলে যায়।আল-বায়ান

আর যারা মিথ্যে সাক্ষ্য দেয় না, আর বেহুদা কর্মকান্ডের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে সসম্মানে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।তাইসিরুল

আর যারা মিথ্যা ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয় না, আব যখন তারা খেলো পরিবেশের পাশ দিয়ে যায় তখন তারা মর্যাদার সাথে পাশ কেটে যায়।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৮৯

এরও দু’টি অর্থ হয়। এক, তারা কোন মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না এবং এমন কোন জিনিসকে প্রকৃত ঘটনা ও সত্য হিসেবে গণ্য করে না যাকে প্রকৃত ঘটনা ও সত্য বলে তারা জানে না। অথবা তারা যাকে প্রকৃত ঘটনা ও সত্যের বিরোধী ও বিপরীত বলে নিশ্চিতভাবে জানে। দুই, তারা মিথ্যা প্রত্যক্ষ করে না, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার দেখে না এবং তা দেখার সংকল্প করে না। এ দ্বিতীয় অর্থের দিক দিয়ে মিথ্যা শব্দটি বাতিল ও অকল্যাণের সমার্থক। খারাপ কাজের গায়ে শয়তান যে বাহ্যিক স্বাদ চাকচিক্য ও লাভের প্রলেপ লাগিয়ে রেখেছে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়েই মানুষ সেদিকে যায়। এ প্রলেপ অপসৃত হলে প্রত্যেকটি অসৎ কাজ মিথ্যা ও কৃত্রিমতায় পরিপূর্ণ দেখা যায়। এ ধরনের মিথ্যার জন্য মানুষ কখনো প্রাণপাত করতে পারে না। কাজেই প্রত্যেকটি বাতিল, গোনাহ ও খারাপ কাজ এদিক দিয়ে মিথ্যা যে, তা মিথ্যা চাকচিক্যের কারণে মানুষকে নিজের দিকে টেনে নেয়। মু'মিন যেহেতু সত্যের পরিচয় লাভ করে তাই এ মিথ্যা যতই হৃদয়গ্রাহী যুক্তি অথবা দৃষ্টিনন্দন শিল্পকারিতা কিংবা শ্রুতিমধুর সুকণ্ঠের পোষাক পরিহিত হয়ে আসুক না কেন এসব যে তার নকল রূপ, তা সে চিনে ফেলে।

৯০

এখানে মূলে لغو শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। উপরে যে মিথ্যার ব্যাখ্যা করা হয়েছে لغو শব্দটি তার উপরও প্রযুক্ত হয় এবং এই সঙ্গে সমস্ত অর্থহীন, আজেবাজে ফালতু কথাবার্তা ও কাজও এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। আল্লাহর সৎ বান্দাদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা জেনে শুনে এ ধরনের কথা ও কাজ দেখতে বা শুনতে অথবা তাতে অংশ গ্রহণ করতে যায় না। আর যদি কখনো তাদের পথে এমন কোন জিনিস এসে যায়, তাহলে তার প্রতি একটা উড়ো নজর না দিয়েও তারা এভাবে সে জায়গা অতিক্রম করে যেমন একজন অত্যন্ত সুরুচিসম্পন্ন ব্যক্তি কোন ময়লার স্তূপ অতিক্রম করে চলে যায়। ময়লা ও পচা দুর্গন্ধের ব্যাপারে একজন কুরুচিসম্পন্ন ও নোংরা ব্যক্তিই আগ্রহ পোষণ করতে পারে কিন্তু একজন সুরুচিসম্পন্ন ভদ্রলোক বাধ্যতামূলক পরিস্থিতির শিকার হওয়া ছাড়া কখনো তার ধারে কাছে যাওয়াও বরদাশত করতে পারে না। দুর্গন্ধের স্তূপের কাছে বসে আনন্দ পাওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না। (আরো বেশি ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা আল মূ’মিনূন ৪ টীকা।)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কুরআন মাজীদে এস্থলে শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে زور (যূর), যার আভিধানিক অর্থ মিথ্যা। তাছাড়া যে-কোন ভ্রান্ত ও অন্যায় কাজকেও ‘যূর’ বলে। এ হিসেবে আয়াতের অর্থ হচ্ছে, সেখানে কোন অন্যায় ও অবৈধ কাজ হয়, আল্লাহর নেক বান্দাগণ তাতে জড়িত হয় না। আবার এ অর্থও করা যেতে পারে যে, তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭২. আর যারা মিথ্যার সাক্ষ্য হয় না এবং অসার কার্যকলাপের সম্মুখীন হলে আপন মর্যাদা রক্ষার্থে তা পরিহার করে চলে।(১)

(১) অর্থাৎ আল্লাহর সৎ বান্দাদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা জেনে শুনে আজে-বাজে কথা ও কাজ দেখতে বা শুনতে অথবা তাতে অংশ গ্রহণ করে না। আর যদি কখনো তাদের পথে এমন কোন জিনিস এসে যায়, তাহলে তার প্রতি একটা উড়ো নজর না দিয়েও তারা এভাবে সে জায়গা অতিক্রম করে যেমন একজন অত্যন্ত সুরুচিসম্পন্ন ব্যক্তি কোন ময়লার স্তুপ অতিক্রম করে চলে যায়। (দেখুন: ফাতহুল কাদীর, কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭২) এবং (তারাই পরম দয়াময়ের দাস) যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না(1) এবং অসার ক্রিয়াকলাপের সম্মুখীন হলে স্বীয় মর্যাদা রক্ষার্থে তা পরিহার করে চলে। (2)

(1) زور এর অর্থ মিথ্যা। আর প্রত্যেক বাতিল জিনিসই হল মিথ্যা। সেই কারণে মিথ্যা সাক্ষ্য থেকে নিয়ে কুফর, শিরক ও প্রত্যেকটি অন্যায় ও অবৈধ কাজ যেমন (অবৈধ) মেলা-খেলা, গান-বাজনা এবং অন্যান্য জাহেলী কর্মকান্ড সবই এর অন্তর্ভুক্ত। রহমানের বান্দাদের গুণ এই যে, তারা উক্ত সকল প্রকার মিথ্যা কথা বা মিথ্যা অনুষ্ঠান ও মজলিসে উপস্থিত হয় না। يَشهَدُون এর দ্বিতীয় অর্থ উপস্থিত হওয়া।

(2) لَغو এমন প্রত্যেক কথা ও কাজকে বলা হয়, যাতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন উপকার নেই। অর্থাৎ এমন কাজে ও কথায় তারা অংশগ্রহণ করে না; বরং চুপচাপ নিজ সম্মান বাঁচিয়ে পাশ কাটিয়ে যায়।