وَعَادٗا وَثَمُودَاْ وَأَصۡحَٰبَ ٱلرَّسِّ وَقُرُونَۢا بَيۡنَ ذَٰلِكَ كَثِيرٗا

ওয়া-‘আদাওঁ ওয়া ছামূদা ওয়া আসহা-বার রছছি ওয়া কুরূনাম বাইনা যা-লিকা কাছীর-।উচ্চারণ

এভাবে আদ ও সামূদ এবং আসহাবুর রস্ ৫২ ও মাঝখানের শতাব্দীগুলোর বহু লোককে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তাফহীমুল কুরআন

এভাবেই আমি আদ, ছামুদ ও আসহাবুর রাসস্ #%২০%# এবং তাদের মাঝখানে বহু সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি।মুফতী তাকী উসমানী

আমি ধ্বংস করেছিলাম ‘আদ, ছামূদ, রা’স্ এবং তাদের অর্ন্তবর্তী কালের বহু সম্প্রদায়কেও।মুজিবুর রহমান

আমি ধ্বংস করেছি আদ, সামুদ, কপবাসী এবং তাদের মধ্যবর্তী অনেক সম্প্রদায়কে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি ধ্বংস করেছিলাম ‘আদ, সামূদ ও ‘রাস্’-এর অধিবাসীকে এবং এদের অন্তর্বর্তীকালের বহু সম্প্রদায়কেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর ধ্বংস ‘আদ, সামূদ, ‘রাস’ এর অধিবাসী এবং তাদের মধ্যবর্তী কালের বহু প্রজন্মের উপরও।আল-বায়ান

সে রকমই আমি ধ্বংস করেছি ‘আদ, সামূদ, কূপবাসী আর তাদের মধ্যবর্তী বহু বহু বংশধরকে।তাইসিরুল

আর 'আদ ও ছামূদ ও রস-এর অধিবাসীদের, আর তাদের মধ্যেকার বহুসংখ্যক বংশকেও।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫২

আসহাবুর রস্ কারা ছিল, এ সম্পর্কে অনুসন্ধান করা সম্ভব হয়নি। তাফসীরকারগণ এ সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনার উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তাদের কোন বর্ণনাই সন্তোষজনক নয়। বড় জোর এতটুকু বলা যেতে পারে, তারা এমন এক সম্প্রদায় ছিল যারা তাদের নবীকে কূয়ার মধ্যে ফেলে দিয়ে বা ঝুলিয়ে রেখে হত্যা করেছিল। আরবী ভাষায় “রাসস” বলা হয় পুরাতন বা অন্ধ কূপকে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

সূরা আরাফে (৭ : ৬৫-৮৪) আদ ও ছামুদ জাতির বৃত্তান্ত চলে গেছে। ‘আসহাবুর রাস্স’-এর শাব্দিক অর্থ ‘কুয়াওয়ালাগণ’। অনুমান করা যায়, তারা কোন কুয়ার আশেপাশে বাস করত। কুরআন মাজীদে তাদের সম্পর্কে কেবল এতটুকুই বলা হয়েছে যে, নাফরমানীর কারণে তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল। এর বেশি তাদের বিস্তারিত বৃত্তান্ত না কুরআন মাজীদে বর্ণিত হয়েছে, না সহীহ হাদীসে। ইতিহাসের বর্ণনায় তাদের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়, কিন্তু তা এতটা নির্ভরযোগ্য নয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। তবে এতটুকু বিষয় স্পষ্ট যে, তাদের কাছে কোন একজন নবীকে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তারা সে নবীর কথায় কর্ণপাত করেনি; বরং উপর্যুপরি তাঁর অবাধ্যতা ও তাঁর সঙ্গে শত্রুতা করেছে। পরিণামে তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। কোন কোন বর্ণনায় আছে, তারা তাদের নবীকে একটি কুয়ার ভেতর ঝুলিয়ে ফাঁসি দিয়েছিল আর সে কারণেই তাদের নাম পড়ে গেছে আসহাবুর রাস্স বা কুয়াওয়ালা।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৮. আর আমরা ধ্বংস করেছিলাম ‘আদ, সামুদ, রাস’(১) এর অধিবাসীকে এবং তাদের অন্তর্বর্তীকালের বহু প্ৰজন্মকেও৷

(১) (أَصْحَابَ الرَّسِّ) অভিধানে رَسّ শব্দের অর্থ কাঁচা কুপ। তারা ছিল সামূদ গোত্রের অবশিষ্ট জনসমষ্টি এবং তারা কোন একটি কুপের ধারে বাস করত। (দেখুন: আদওয়াউল বায়ান, বাগভী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৮) আমি আদ, সামূদ, রাসবাসী(1) এবং ওদের অন্তর্বর্তীকালের বহু সম্প্রদায়কেও ধ্বংস করেছিলাম।(2)

(1) ‘রাসস্’ অর্থ কুয়া ‘আসহাবুর রাসস্’ অর্থাৎ, কুয়া-ওয়ালা। উক্ত জাতি সম্পর্কে মুফাসসিরগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ইমাম ইবনে জারীর তাবারী বলেছেন, এর দ্বারা ‘আসহাবুল উখদূদ’কে বুঝানো হয়েছে; যার বর্ণনা সূরা বুরুজে এসেছে। (ইবনে কাসীর)

(2) ‘قرن’ এর সঠিক অর্থ সমসাময়িক কালের লোকদের একটি দল। যখন একটি জাতি শেষ হয়ে যায় ও অন্য এক জাতির সৃষ্টি হয়, তখন তাকেও ‘ক্বার্‌ন’ বলা হয়। (ইবনে কাসীর) এই অর্থে প্রত্যেক নবীর উম্মত এক একটি ‘ক্বার্‌ন’ হতে পারে। (বাংলায় প্রজন্ম, জাতি বা সম্প্রদায় বলা যায়।)