وَقَالَ ٱلرَّسُولُ يَٰرَبِّ إِنَّ قَوۡمِي ٱتَّخَذُواْ هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانَ مَهۡجُورٗا

ওয়া ক-লাররছূলুইয়া-রব্বি ইন্না কাওমিততাখাযূহা-যাল কুরআ-না মাহজূর-।উচ্চারণ

আর রসূল বলবে, “হে আমার রব! আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা এ কুরআনকে হাসি-ঠাট্টার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল।” ৪১ তাফহীমুল কুরআন

আর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় এ কুরআনকে বিলকুল পরিত্যাগ করেছিল। #%১৬%#মুফতী তাকী উসমানী

তখন রাসূল বলবেঃ হে আমার রাব্ব! আমার সম্প্রদায়তো এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করেছিল।মুজিবুর রহমান

রসূল বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় এই কোরআনকে প্রলাপ সাব্যস্ত করেছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

রাসূল বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর রাসূল বলবে, ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমার কওম এ কুরআনকে পরিত্যাজ্য গণ্য করেছে।আল-বায়ান

রসূল বলবে- ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার জাতির লোকেরা এ কুরআনকে পরিত্যক্ত গণ্য করেছিল।’তাইসিরুল

আর রসূল বলছেন -- "হে আমার প্রভু! নিঃসন্দেহ আমার স্বজাতি এই কুরআনকে পরিত্যজ্য বলে ধরে নিয়েছিল। "মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪১

মূল শব্দ مَهْجُورًا ---এর কয়েকটি অর্থ হয়। যদি একে هجر থেকে গঠিত ধরা হয় তাহলে অর্থ হবে পরিত্যক্ত। অর্থাৎ তারা কুরআনের প্রতি দৃষ্টি দেয়া যেতে পারে বলে মনেই করেনি, তাকে গ্রহণ করেনি এবং তার থেকে কোনভাবে প্রভাবিতও হয়নি। আর যদি একে هجر থেকে গঠিত ধরা হয় তাহলে এর দু’টি অর্থ হতে পারেঃ এক, তারা একে প্রলাপ ও অর্থহীন বাক্য মনে করেছে। দুই, তারা একে নিজেদের প্রলাপ ও অর্থহীন বাক্য প্রয়োগের লক্ষ্যস্থলে পরিণত করেছে এবং একে নানান ধরনের বাক্যবাণে বিদ্ধ করতে থেকেছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আলোচনার ধারাবাহিকতার প্রতি লক্ষ করলে যদিও বোঝা যায়, এখানে ‘সম্প্রদায়’ বলে কাফেরদের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে, কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে বক্তব্য আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলিমদের জন্যও তা ভয়ের কারণ। কেননা মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও যদি কুরআন মাজীদকে অবহেলা করা হয় এবং জীবনের পথ চলায় তার হেদায়াত ও নির্দেশনাকে আমলে নেওয়া না হয়, তবে এ কঠিন বাক্যটির আওতায় তাদেরও পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এমনও হতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুপারিশ না করে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়েই দাঁড়িয়ে যাবেন। (আল্লাহ তাআলা তা থেকে রক্ষা করুন)।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩০. আর রাসূল বললেন, হে আমার রব! আমার সম্প্রদায় তো এ কুরআনকে পরিত্যাজ্য সাব্যস্ত করেছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩০) রসূল বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো এ কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করেছে।’(1)

(1) মুশরিকরা কুরআন পাঠের সময় খুব হৈ-হল্লা করত, যাতে কুরআন না শোনা যায়। এটাও এক ধরনের কুরআন পরিত্যাগ করার নামান্তর। কুরআনের প্রতি ঈমান না আনা এবং সেই মত আমল না করাও কুরআন বর্জন করার নামান্তর। কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা না করা, তার আদেশাবলী পালন না করা ও তাঁর নিষেধাজ্ঞাবলী হতে বিরত না থাকাও এক প্রকার কুরআন ছেড়ে দেওয়ার নামান্তর। অনুরূপ তার উপর অন্য কোন কিতাবকে অগ্রাধিকার দেওয়াও তা পরিত্যাজ্য মনে করার মধ্যে গণ্য। উক্ত সকল লোকদের বিরুদ্ধে কিয়ামত দিবসে রসূল (সাঃ) বিচার প্রার্থনা করবেন।