۞وَقَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَرۡجُونَ لِقَآءَنَا لَوۡلَآ أُنزِلَ عَلَيۡنَا ٱلۡمَلَـٰٓئِكَةُ أَوۡ نَرَىٰ رَبَّنَاۗ لَقَدِ ٱسۡتَكۡبَرُواْ فِيٓ أَنفُسِهِمۡ وَعَتَوۡ عُتُوّٗا كَبِيرٗا

ওয়া কালাল্লাযীনা লা-ইয়ারজূনা লিকাআনা-লাওলাউনঝিলা ‘আলাইনাল মালাইকাতু আও নার-রব্বানা- লাকাদিছতাকবারূফীআনফুছিহিম ওয়া‘আতাওঁ‘উতুওয়ান কাবীর-।উচ্চারণ

যারা আমার সামনে হাজির হবার আশা করে না তারা বলে, “কেন আমাদের কাছে ফেরেশতা পাঠানো হয় না? ৩৩ অথবা আমরা আমাদের রবকে দেখি না কেন? ৩৪ বড়ই অহংকার করে তারা নিজেদের মনে মনে ৩৫ এবং সীমা অতিক্রম করে গেছে তারা অবাধ্যতায়। তাফহীমুল কুরআন

যারা আমার সঙ্গে সাক্ষাতের আশাই করে না, তারা বলে, আমাদের প্রতি ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হয় না কেন? কিংবা আমরা আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাই না কেন? বস্তুত তারা আপন মনে নিজেদেরকে অনেক বড় গণ্য করে এবং তারা গুরুতর অবাধ্যতায় লিপ্ত রয়েছে।মুফতী তাকী উসমানী

যারা আমার সাক্ষাৎ কামনা করেনা তারা বলেঃ আমাদের নিকট মালাক/ফেরেশতা অবতীর্ণ করা হয়না কেন? অথবা আমরা আমাদের রাব্বকে প্রত্যক্ষ করি না কেন? তারা তাদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে এবং তারা সীমালংঘন করেছে গুরুতর রূপে।মুজিবুর রহমান

যারা আমার সাক্ষাৎ আশা করে না, তারা বলে, আমাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ করা হল না কেন? অথবা আমরা আমাদের পালনকর্তাকে দেখি না কেন? তারা নিজেদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে এবং গুরুতর অবাধ্যতায় মেতে উঠেছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা আমার সাক্ষাৎ কামনা করে না তারা বলে, ‘আমাদের নিকট ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হয় না কেন ? বা আমরা আমাদের প্রতিপালককে প্রত্যক্ষ করি না কেন ? এরা তো এদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে এবং এরা সীমালংঘন করেছে গুরুতররূপে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যারা আমার সাক্ষাৎ প্রত্যাশা করে না, তারা বলে, ‘আমাদের নিকট ফেরেশতা নাযিল হয় না কেন? অথবা আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাই না কেন’? অবশ্যই তারা তো তাদের অন্তরে অহঙ্কার পোষণ করেছে এবং তারা গুরুতর সীমালংঘন করেছে।আল-বায়ান

যারা আমার সাক্ষাৎ আশা করে না তারা বলে, আমাদের কাছে ফেরেশতা নাযিল করা হয় না কেন? অথবা আমরা আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাই না কেন? তারা নিজেদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে আর তারা মেতে উঠেছে গুরুতর অবাধ্যতায়।তাইসিরুল

আর যারা আমাদের সাথে মোলাকাতের কামনা করে না তারা বলে -- "কেন আমাদের কাছে ফিরিশ্‌তাদের পাঠানো হয় না, অথবা আমাদের প্রভুকেই বা কেন আমরা দেখতে পাই না?" তারা তাদের নিজেদের সন্বন্ধে নিশ্চয়ই বড়াই করছে, আর বড় বাড় বেড়েছে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৩

অর্থাৎ যদি সত্যিই আল্লাহর ইচ্ছা হয়ে থাকে আমাদের কাছে তাঁর পয়গাম পৌঁছাবেন, তাহলে একজন নবীকে মাধ্যমে পরিণত করে তার কাছে ফেরেশতা পাঠানো যথেষ্ট নয় বরং প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে একজন করে ফেরেশতা পাঠানো উচিত। ফেরেশতা এসে বলবে, তোমার রব তোমার কাছে এ পয়গাম পাঠাচ্ছেন। অথবা ফেরেশতাদের একটি প্রতিনিধদল প্রকাশ্যে জনসমাবেশে সবার সামনে এসে যাবে এবং সবাইকে আল্লাহর পয়গাম শুনিয়ে দেবে। সূরা আন’আমেও তাদের এ আপত্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে এভাবেঃ

وَإِذَا جَاءَتْهُمْ آيَةٌ قَالُوا لَنْ نُؤْمِنَ حَتَّى نُؤْتَى مِثْلَ مَا أُوتِيَ رُسُلُ اللَّهِ اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ

“যখন কোন আয়াত তাদের সামনে পেশ হতো, তারা বলতো আমরা কখনো মেনে নেবো না যতক্ষণ না আমাদের সেসব কিছু দেয়া হবে যা আল্লাহর রসূলদের দেয়া হয়েছে। অথচ আল্লাহই ভালো জানেন কিভাবে তাঁর পয়গাম পৌঁছাবার ব্যবস্থা করবেন।” (১২৪ আয়াত)

৩৪

অর্থাৎ আল্লাহ‌ নিজে আসবেন এবং বলবেন, হে আমার বান্দারা! তোমাদের কাছে এ হচ্ছে আমার অনুরোধ।

৩৫

অন্য অনুবাদ এও হতে পারেঃ “নিজেদের জ্ঞানে তারা নিজেদেরকে অনেক বড় কিছু মনে করে নিয়েছে।”

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ, তারা অহমিকার বশবর্তী হয়েই এসব কথা বলছে। তারা নিজেদেরকে এতটাই বড় মনে করে যে, নিজেদের হেদায়াতের জন্য কোন নবী-রাসূলের কথা মেনে চলাকে আত্মসম্মানের পরিপন্থী মনে করে। তাদের দাবি হল, আল্লাহ তাআলা নিজে এসে তাদেরকে তাঁর দীন বুঝিয়ে দিন কিংবা এ কাজের জন্য অন্ততপক্ষে কোন ফিরিশতাকেই পাঠিয়ে দিন।

তাফসীরে জাকারিয়া

২১. আর যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করে না তারা বলে, আমাদের কাছে ফিরিশতা নাযিল করা হয় না কেন? অথবা আমরা আমাদের রবকে দেখি না কেন? তারা তো তাদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে(১) এবং তারা গুরুতর অবাধ্যতায় মেতে উঠেছে।

(১) অর্থাৎ তারা নিজেদের মনে মনে নিজেদের নিয়ে বড়ই অহংকার করে। (দেখুন: ফাতহুল কাদীর, আয়সারুত-তাফাসির)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২১) যারা আমার সাক্ষাৎ কামনা করে না, তারা বলে, ‘আমাদের নিকট ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হয় না কেন?(1) অথবা আমরা আমাদের প্রতিপালককে দেখি না কেন?’ (2) ওরা ওদের অন্তরে অহংকার পোষণ করেছে এবং ওরা গুরুতররূপে সীমালংঘন করেছে। (3)

(1) অর্থাৎ, কোন মানুষকে রসূল হিসাবে না পাঠিয়ে কোন ফিরিশতাকে রসূল হিসাবে পাঠানো হয় না কেন? অথবা এর অর্থ এই যে, নবীর সঙ্গে ফিরিশতাগণও অবতীর্ণ হতেন; যাঁদেরকে আমরা স্বচক্ষে দেখতাম এবং তাঁরা মানুষ রসূলের সত্যায়ন করতেন।

(2) অর্থাৎ, প্রভু এসে বলতেন যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) আমার প্রেরিত রসূল, সুতরাং তার উপর ঈমান আনা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য।

(3) এটি অহংকার ও সীমালঙ্ঘনের পরিণাম যে, তারা এই ধরনের দাবী করছে, যা আল্লাহর ইচ্ছার বিরোধী। আল্লাহ অদেখা বিষয়ের উপর ঈমানের মাধ্যমে মানুষের পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। যদি তিনি ফিরিশতাদের তাদের চোখের সামনে অবতীর্ণ করেন বা তিনি স্বয়ং পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তাহলে এরপর তো পরীক্ষার দিকটাই অবশিষ্ট থাকে না। অতএব আল্লাহ তাআলা এমন কাজ কেন করবেন, যা তাঁর বিশ্ব রচনার যৌক্তিকতা ও সৃষ্টিগত ইচ্ছার পরিপন্থী?