وَمَآ أَرۡسَلۡنَا قَبۡلَكَ مِنَ ٱلۡمُرۡسَلِينَ إِلَّآ إِنَّهُمۡ لَيَأۡكُلُونَ ٱلطَّعَامَ وَيَمۡشُونَ فِي ٱلۡأَسۡوَاقِۗ وَجَعَلۡنَا بَعۡضَكُمۡ لِبَعۡضٖ فِتۡنَةً أَتَصۡبِرُونَۗ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرٗا

ওয়ামাআরছালনা-কাবলাকা মিনাল মুরছালীনা ইল্লাইন্নাহুম লাইয়া’কুলূনাততা‘আ-মা ওয়া ইয়ামশূনা ফিল আছওয়া-কি ওয়াজা‘আলনা-বা‘দাকুম লিবা‘দিন ফিতনাতান আতাসবিরূনা ওয়া ক-না রব্বুকা বাসীর।উচ্চারণ

হে মুহাম্মাদ! তোমার পূর্বে যে রসূলই আমি পাঠিয়েছি তারা সবাই আহার করতো ও বাজারে চলাফেরা করতো। ২৯ আসলে আমি তোমাদের পরস্পরকে পরস্পরের জন্য পরীক্ষার মাধ্যমে পরিণত করেছি। ৩০ তোমরা কি সবর করবে? ৩১ তোমাদের রব সবকিছু দেখেন। ৩২ তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী!) তোমার পূর্বে যত রাসূলই পাঠিয়েছি, তারা সকলে খাবার খেত ও বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের একজনকে অন্যজনের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। বল, তোমরা কি সবর করবে? তোমার প্রতিপালক সবকিছুই দেখছেন।মুফতী তাকী উসমানী

তোমার পূর্বে আমি যে সব রাসূল প্রেরণ করেছি তারা সবাই আহার করত ও হাটে-বাজারে চলাফিরা করত। হে লোক সকল! আমি তোমাদের মধ্যে এককে অপরের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করেছি। তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে কি? তোমার রাব্ব সব কিছু দেখেন।মুজিবুর রহমান

আপনার পূর্বে যত রসূল প্রেরণ করেছি, তারা সবাই খাদ্য গ্রহণ করত এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের এককে অপরের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। দেখি, তোমরা সবর কর কিনা। আপনার পালনকর্তা সব কিছু দেখেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমার পূর্বে আমি যে সকল রাসূল প্রেরণ করেছি তারা সকলেই তো আহার করত ও হাটে বাজারে চলাফেরা করত। হে মানুষ ! আমি তোমাদের মধ্যে এক-কে অপরের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে কি ? তোমার প্রতিপালক সমস্ত কিছু দেখেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তোমার পূর্বে যত নবী আমি পাঠিয়েছি, তারা সবাই আহার করত এবং হাট-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের একজনকে অপরজনের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। তোমরা কি ধৈর্যধারণ করবে? আর তোমার রব সর্বদ্রষ্টা।আল-বায়ান

আমি তোমার পূর্বে যে সব রসূল পাঠিয়েছিলাম তারা সবাই খাদ্য গ্রহণ করত, আর হাট-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের এককে অপরের জন্য করেছি পরীক্ষাস্বরূপ (কাউকে করেছি ধনী, কাউকে গরীব, কাউকে সবল, কাউকে দুর্বল, কাউকে রুগ্ন, কাউকে সুস্থ), দেখি, তোমরা (নিজ নিজ অবস্থার উপর) ধৈর্য ধারণ কর কিনা। তোমার প্রতিপালক সব কিছু দেখেন।তাইসিরুল

আর তোমার আগে আমরা এমন কোনো রসূল পাঠাই নি যাঁরা নিঃসন্দেহ খাবার না খেয়েছেন ও হাটে-বাজারে চলাফেরা না করেছেন। আর আমরা তোমাদের কাউকে অপরদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ দাঁড় করিয়েছি। তোমরা কি অধ্যবসায় চালিয়ে যাবে? আর তোমার প্রভু সর্বদ্রষ্টা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৯

মক্কার কাফেরদের এ বক্তব্য যে, এ কেমন রসূল যে আহার করে এবং বাজারে চলাফেরা করে, এর জবাবে একথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে, মক্কার কাফেররা নূহ (আ), ইবরাহীম (আ), ইসমাঈল (আ), মূসা (আ) এবং অন্যান্য বহু নবী সম্পর্কে কেবল যে জানতো তা নয় বরং তাদের রিসালাতও স্বীকার করতো। তাই বলা হয়েছে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে এ অভিনব আপত্তি জানানো হচ্ছে কেন? ইতিপূর্বে এমন কোন নবী এসেছেন যিনি আহার করতেন না ও বাজারে চলাফেরা করতেন না? অন্যদের কথা দূরে থাক, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম, যাকে খৃস্টানরা আল্লাহর পুত্রে পরিণত করেছে (এবং যার মূর্তি মক্কার কাফেররাও কাবাগৃহের মধ্যে স্থাপন করেছিল) তিনিও ইনজীলের বর্ণনা অনুযায়ী আহারও করতেন এবং বাজারে চলাফেরাও করতেন।

৩০

অর্থাৎ অস্বীকারকারীরা রসূল ও মু’মিনদের জন্য পরীক্ষা এবং রসূল ও মু’মিনরা অস্বীকারকারীদের জন্য। অস্বীকারকারীরা জুলুম, নিপীড়ন ও জাহেলী শত্রুতার যে আগুনের কুণ্ড জ্বালিয়ে রেখেছে সেটিই এমন একটি মাধ্যম যা থেকে প্রমাণ হবে রসূল ও তাঁর সাচ্চা ঈমানদার অনুসারীরা খাঁটি সোনা। যার মধ্যে ভেজাল থাকবে সে সেই আগুনের কুণ্ড নিরাপদে অতিক্রম করতে পারবে না। এভাবে নির্ভেজাল ঈমানদারদের একটি ছাঁটাই বাছাই করা গ্রুপ বের হয়ে আসবে। তাদের মোকাবিলায় এরপর দুনিয়ার আর কোন শক্তিই দাঁড়াতে পারবে না। এ আগুনের কুণ্ড জ্বলতে না থাকলে সব রকমের খাঁটি ও ভেজাল লোক নবীর চারদিকে জমা হতে থাকবে এবং দ্বীনের সূচনাই হবে একটি অপরিপক্ক দল থেকে। অন্যদিকে অস্বীকারকারীদের জন্যও রসূল ও রসূলের সাহাবীগণ হবেন একটি পরীক্ষা। নিজেদেরই বংশ-গোত্রের মধ্য থেকে একজন সাধারণ লোককে হঠাৎ নবী বানিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয়া, তাঁর অধীনে কোন বিরাট সেনাদল ও ধন-সম্পদ না থাকা, আল্লাহর বাণী ও নির্মল চরিত্র ছাড়া তাঁর কাছে বিস্ময়কর কিছু না থাকা, বেশীরভাগ গরীব-মিসকীন, গোলাম ও নব্য কিশোর যুবাদের তাঁর প্রাথমিক অনুসারী দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং আল্লাহর এ মুষ্টিমেয় কয়েকজন লোককে যেন নেকড়ে ও হায়েনাদের মধ্যে অসহায়ভাবে ছেড়ে দেয়া---এ সবই হচ্ছে এমন একটি ছাঁকনি যা অসৎ ও অনভিপ্রেত লোকদের দ্বীনের দিকে আসতে বাঁধা দেয় এবং কেবলমাত্র এমন সব লোককে ছাঁটাই বাছাই করে সামনের দিকে নিয়ে চলে যারা সত্যকে জানে, চেনে ও মেনে চলে। এ ছাঁকনি যদি না বসানো হতো এবং রসূল বিরাট শান-শওকতের সাথে এসে সিংহাসনে বসে যেতেন, অর্থভাণ্ডারের মুখ তাঁর অনুসারীদের জন্য খুলে দেয়া হতো এবং সবার আগে বড় বড় সরদার ও সমাজপতির অগ্রসর হয়ে তাঁর আনুগত্য গ্রহণ করতো, তাহলে দুনিয়া পূজারী ও স্বার্থবাদী মানুষদের মধ্যে তাঁর প্রতি ঈমান এনে তাঁর অনুগত ভক্তের দলে শামিল হতো না এমন নির্বোধ কোন লোক পাওয়া সম্ভব ছিল কি? এ অবস্থায় তো সত্যপ্রিয় লোকেরা সবার পেছনে থেকে যেতো এবং বৈষয়িক স্বার্থ পূজারীরা এগিয়ে যেতো।

৩১

অর্থাৎ এ কল্যাণকর উপযোগিতাটি উপলব্ধি করার পর এখন কি তোমরা ধৈর্য ধারণ করতে পারছো? যে কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যে তোমরা কাজ করছো তার জন্য পরীক্ষার এ অবস্থার অতীব প্রয়োজন বলে কি তোমরা মরে করছো? এ পরীক্ষার সময় যেসব অবধারিত আঘাত লাগবে সেগুলোর মুখোমুখি হতে কি এখন তোমরা প্রস্তুত?

৩২

এর দু’টি অর্থ এবং সম্ভবত এখানে দু’টিই প্রযোজ্য। এক, তোমাদের রব যা কিছু করছেন দেখে-শুনে করছেন। তাঁর দেখাশুনা ও রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যে কোন অন্যায়, বেইনসাফী ও গাফলতি নেই। দুই, যে ধরনের আন্তরিকতা ও সত্যনিষ্ঠা নিয়ে তোমরা এ কঠিন কাজটি করছো তাও তোমাদের রবের চোখের সামনে আছে এবং যে ধরনের জুলুম, নির্যাতন ও বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে তোমাদের কল্যাণ প্রচেষ্টার মোকাবিলা করা হচ্ছে তাও তাঁর অগোচরে নেই। কাজেই তোমাদের নিজেদের কাজের মর্যাদালাভ থেকে তোমরা বঞ্চিত হবে না এবং নিজেদের জুলুম ও বাড়াবাড়ির বিপদ থেকেও নিস্কৃতি পাবে না, এ ব্যাপারে তোমরা পূর্ণ নিশ্চিত থাকো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কাফেরদের বিভিন্ন আপত্তির উত্তর দেওয়ার পর এবার মুমিনদেরকে লক্ষ করে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন, তোমাদের বিরুদ্ধবাদীরা নানা রকমের আপত্তি তুলে তোমাদেরকে যে উত্যক্ত করছে, এর কারণ আল্লাহ তাআলা তোমাদের মাধ্যমে তাদেরকে এবং তাদের মাধ্যমে তোমাদেরকে পরীক্ষা করছেন। তাদেরকে পরীক্ষা করছেন তো এভাবে যে, আল্লাহ তাআলা দেখছেন, সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তারা তা স্বীকার করে নিচ্ছে কি না। আর তোমাদেরকে পরীক্ষা করে দেখছেন, তাদের দেওয়া কষ্ট-ক্লেশে তোমরা সবর করছ কি না। তোমাদের সবর দ্বারাই প্রমাণ হবে সত্য গ্রহণে তোমরা কতটুকু আন্তরিক।

তাফসীরে জাকারিয়া

২০. আর আপনার আগে আমরা যে সকল রাসূল পাঠিয়েছি তারা সকলেই তো খাওয়া-দাওয়া করত ও হাটে-বাজারে চলাফেরা করত।(১) এবং (হে মানুষ!) আমরা তোমাদের এক-কে অন্যের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে কি? আর আপনার রব তো সর্বদ্ৰষ্টা।

(১) কাফেরদের দ্বিতীয় কথা ছিল এই যে, তিনি নবী হলে সাধারণ মানুষের মতই পানাহার করতেন না এবং জীবিকা উপার্জনের জন্য হাটবাজারে চলাফেরা করতেন না। এই আপত্তির ভিত্তি, অনেক কাফেরের এই ধারণা যে, আল্লাহর রাসূল মানব হতে পারেন না- ফিরিশতাই রাসূল হওয়ার যোগ্য। কুরআনুল করীমের বিভিন্ন স্থানে এর উত্তর দেয়া হয়েছে। আলোচ্য আয়াতে এই উত্তর দেয়া হয়েছে যে, যেসব নবীকে তোমরা নবী ও রাসূল বলে স্বীকার কর, তারাও তো মানুষই ছিলেন; তারা মানুষের মত পানাহার করতেন এবং হাটে বাজারে চলাফেরা করতেন। (কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২০) তোমার পূর্বে আমি যে সব রসূল প্রেরণ করেছি তারা সকলেই তো আহার করত(1) ও হাটে-বাজারে চলাফেরা করত।(2) আমি তোমাদের মধ্যে এককে অপরের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি।(3) তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে কি? তোমার প্রতিপালক সমস্ত কিছুর সম্যক দ্রষ্টা। (4)

(1) অর্থাৎ, তাঁরা মানুষ ছিলেন এবং খাদ্যের মুখাপেক্ষী ছিলেন।

(2) অর্থাৎ, হালাল রুযী সংগ্রহ করার মানসে উপার্জন ও বাণিজ্য করতেন। যার অর্থ হল এসব বিষয় নবুঅতী মর্যাদার পরিপন্থী নয়, যেমন কিছু লোক মনে করে।

(3) অর্থাৎ, আমি ঐসব নবীদের এবং তাদের মাধ্যমে তাদের অনুসারীদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যাতে আসল ও নকলের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। অতএব যারা পরীক্ষায় ধৈর্য ও সহনশীলতাকে আঁকড়ে ধরে থেকেছে, তারা হয়েছে সফলকাম এবং অন্যরা হয়েছে অসফল। সেই জন্য পরে বলা হয়েছে, তোমরা ধৈর্যধারণ করবে কি?

(4) অর্থাৎ, তিনি জানেন, অহী ও রিসালাতের উপযুক্ত ও অনুপযুক্ত কে? {اللهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} (124) سورة الأنعام আর হাদীসে এসেছে, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘‘আল্লাহ আমাকে এই এখতিয়ার দিয়েছিলেন যে, আমি বাদশাহ নবী হব অথবা দাস রসূল? আমি দাস রসূল হওয়া পছন্দ করেছি। (ইবনে কাসীর)