وَقَالُواْ مَالِ هَٰذَا ٱلرَّسُولِ يَأۡكُلُ ٱلطَّعَامَ وَيَمۡشِي فِي ٱلۡأَسۡوَاقِ لَوۡلَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مَلَكٞ فَيَكُونَ مَعَهُۥ نَذِيرًا

ওয়া ক-লূমা-লি হা-যার রছূলি ইয়া’কুলুততা‘আমা ওয়া ইয়ামশী ফিল আছওয়া-কি লাওলাউনঝিলা ইলাইহি মালাকুন ফাইয়াকূনা মা‘আহূনাযীর-।উচ্চারণ

তার বলে, “এ কেমন রসূল, যে খাবার খায় এবং হাটে বাজারে ঘুরে বেড়ায়? ১৪ কেন তার কাছে কোন ফেরেশতা পাঠানো হয়নি, যে তার সাথে থাকতো এবং (অস্বীকারকারীদেরকে) ১৫ ধমক দিতো? তাফহীমুল কুরআন

এবং তারা বলে, এ কেমন রাসূল, যে খাবার খায় এবং হাটে-বাজারেও চলাফেরা করে? তার কাছে কোন ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হল না কেন, যে তার সঙ্গে থাকত একজন সতর্ককারীরূপে?মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলেঃ এ কেমন রাসূল যে আহার করে এবং হাটে বাজারে চলাফিরা করে? তার কাছে কোন মালাক/ফেরেশতা কেন অবতীর্ণ করা হলনা যে তার সাথে থাকত সতর্ককারী রূপে?মুজিবুর রহমান

তারা বলে, এ কেমন রসূল যে, খাদ্য আহার করে এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করে? তাঁর কাছে কেন কোন ফেরেশতা নাযিল করা হল না যে, তাঁর সাথে সতর্ককারী হয়ে থাকত?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা বলে, ‘এ কেমন রাসূল’ যে আহার করে এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করে ; তার নিকট কোন ফেরেশতা কেন অবতীর্ণ করা হল না, যে তার সঙ্গে থাকত সতর্ককারীরূপে ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তারা বলে, ‘এ রাসূলের কী হল, সে আহার করে এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করে; তার কাছে একজন ফেরেশতা পাঠানো হল না কেন, যে তাঁর সাথে সতর্ককারী হত’?আল-বায়ান

তারা বলে- ‘এ কেমন রসূল যে খাবার খায়, আর হাট-বাজারে চলাফেরা করে? তার কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় না কেন যে তার সঙ্গে থাকত সতর্ককারী হয়ে?তাইসিরুল

আর তারা বলে -- "এ কেমন ধরনের রসূল, সে খাবার খায় ও হাটে-বাজারে চলাফেরা করে? তার কাছে কেন একজন ফিরিশতা পাঠানো হ’ল না, যাতে সে তার সঙ্গে সতর্ককারী হতে পারতো?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৪

অর্থাৎ প্রথমত মানুষের রসূল হওয়াটাই তো অদ্ভূত ব্যাপার। আল্লাহর পয়গাম নিয়ে যদি কোন ফেরেশতা আসতো তাহলে না হয় বুঝতাম। কিন্তু একজন রক্ত-মাংসের মানুষ জীবিত থাকার জন্য যে খাদ্যের মুখাপেক্ষী সে কেমন করে আল্লাহর পয়গাম নিয়ে আসে! যাহোক তবুও যদি মানুষকেই রসূল করা হয়ে থাকে তবে তাকে তো অন্তত বাদশাহ ও দুনিয়ার বড় লোকদের মতো উন্নত পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব হওয়া উচিত ছিল। তাকে দেখার জন্য চোখ উন্মুখ হয়ে থাকতো এবং তার দরবারে হাজির হবার সৌভাগ্য হতো অনেক দেন-দরবার ও সাধ্য-সাধনার পর। কিন্তু তা না হয়ে এমন একজন সাধারণ লোককে কিভাবে পয়গম্বর করে দেয়া হয়, যে বাজারের মধ্যে ঘুরে ঘুরে জুতোর তলা ক্ষয় করতে থাকে? পথ চলতে মানুষ যাকে প্রতিদিন দেখে এবং কোন দিক দিয়েই যার মধ্যে কোন অসাধারণত্বের সন্ধান পায় না, কে তাকে গ্রাহ্য করবে? অন্য কথায় রসুলের প্রয়োজন থাকলে তা সাধারণ মানুষকে পথনির্দেশনা দেবার জন্য ছিল না বরং ছিল বিস্ময়কর ব্যাপার ঘটাবার এবং ঠাটবাট দেখাবার ও ভীতি প্রদর্শন করার জন্য।

(আরো বেশি ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কোরআন, আল মু’মিনূন, ২৬ টীকা)

১৫

অর্থাৎ যদি মানুষকেই নবী করা হয়ে থাকে তাহলে একজন ফেরেশতাকে তার সঙ্গে দেয়া হতো। তিনি সব সময় একটি চাবুক হাতে নিয়ে ঘুরতেন এবং লোকদের বলতেন “এ ব্যক্তির কথা মেনে নাও, নয়তো এখনই আল্লাহর আযাব বর্ষণ করার ব্যবস্থা করছি।” বিশ্ব-জাহানের সর্বময় কর্তৃত্বের মালিক এক ব্যক্তিকে নবুওয়াতের মহান মর্যাদাসম্পন্ন দায়িত্ব প্রদান করে এমনি একাকী ছেড়ে দেবেন লোকদের গালিগালাজ ও দ্বারে দ্বারে ধাক্কা খাবার এটা তো বড়ই অদ্ভূত ব্যাপার।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৭. আরও তারা বলে, এ কেমন রাসূল যে খাওয়া-দাওয়া করে এবং হাটেবাজারে চলাফেরা করে; তার কাছে কোন ফিরিশতা কেন নাযিল করা হল না, যে তার সঙ্গে থাকত সতর্ককারীরূপে?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭) ওরা বলে, ‘এ কেমন রসূল, যে আহার করে এবং হাটে বাজারে চলাফেরা করে!(1) তার নিকট কোন ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হল না কেন; যে সতর্ককারীরূপে তার সঙ্গে থাকত? (2)

(1) কুরআনের উপর আঘাত হানার পর রাসূলের উপর আঘাত হানা হচ্ছে এবং তা রাসূলের মানুষ হওয়ার জন্য। তাদের ধারণা ছিল মানুষ রিসালাত ও নবুঅতের যোগ্য নয়। সেই জন্য তারা বলত, এ কেমন রাসূল, যে খায়-পান করে, বাজারে আসে-যায়! আমাদেরই মত মানুষ! রসূলের তো মানুষ হওয়ার কথা নয়।

(2) উপরোক্ত আপত্তি হতে এক ধাপ নিচে নেমে বলা হচ্ছে, আর কিছু না হোক, কমসে কম একজন ফিরিশতাই তার সহায়ক ও সত্যায়নকারীরূপে থাকতে পারত।