কুল আতী‘উল্লা-হা ওয়া আতী‘উররছূলা ফাইন তাওয়াল্লাও ফাইন্নামা -‘আলাইহি মাহুম্মিলা ওয়া ‘আলাইকুম মা-হুম্মিলতুম ওয়া ইন তুতী‘ঊহু তাহতাদূ ওয়ামা‘আলার রছূলি ইল্লাল বালা-গুল মুবীন।উচ্চারণ
বলো, “আল্লাহর অনুগত হও এবং রসূলের হুকুম মেনে চলো। কিন্তু যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও। তাহলো ভালোভাবে জেনে রাখো, রসূলের ওপর যে দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে সেজন্য রসূলই দায়ী এবং তোমাদের ওপর যে দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে সেজন্য তোমরাই দায়ী। তাঁর আনুগত্য করলে তোমরা নিজেরাই সৎ পথ পেয়ে যাবে, অন্যথায় পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন হুকুম শুনিয়ে দেয়া ছাড়া রসূলের আর কোন দায়িত্ব নেই।” তাফহীমুল কুরআন
(তাদেরকে) বলে দাও, আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর রাসূলের। তথাপি যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে রাখ, তবে রাসূলের দায় ততটুকুই, যতটুকুর দায়িত্ব তার উপর অর্পণ করা হয়েছে। আর তোমাদের উপর যে ভার অর্পিত হয়েছে, তার দায় তোমাদেরই উপর। তোমরা তাঁর আনুগত্য করলে হেদায়াত পেয়ে যাবে। রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়া।মুফতী তাকী উসমানী
বলঃ তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর; অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে তার উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য সে দায়ী এবং তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরা দায়ী; এবং তোমরা তার আনুগত্য করলে সৎ পথ পাবে, রাসূলের দায়িত্বতো শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।মুজিবুর রহমান
বলুনঃ আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে সে দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে তোমরা দায়ী। তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে। রসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌছে দেয়া।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
বল, ‘আল্লাহ্ র আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর।’ এরপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে লও, তবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্যে সে-ই দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্যে তোমরাই দায়ী; এবং তোমরা তার আনুগত্য করলে সৎপথ পাবে, আর রাসূলের কাজ তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর।’ তারপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে সে শুধু তার উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য দায়ী এবং তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তার আনুগত্য কর তবে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে। আর রাসূলের দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।আল-বায়ান
বল : আল্লাহর আনুগত্য ও রসূলের আনুগত্য কর, অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে লও তাহলে তার (অর্থাৎ রসূলের) উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য সে দায়ী, আর তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী, তোমরা যদি তার আনুগত্য কর তবে সঠিক পথ পাবে, রসূলের দায়িত্ব হচ্ছে স্পষ্টভাবে (বাণী) পৌঁছে দেয়া।তাইসিরুল
বলো -- "আল্লাহ্র আনুগত্য কর ও রসূলেরও আজ্ঞাপালন কর।" কিন্ত যদি তোমরা ফিরে যাও, তাহলে নিঃসন্দেহ তাঁর উপরে রয়েছে শুধু তাঁকে যে ভার দেওয়া হয়েছে, আর তোমাদের উপরে রয়েছে তোমাদের যে ভার দেওয়া হয়েছে। আর যদি তোমরা তাঁর আজ্ঞাপালন কর তবে তোমরা সৎপথ পাবে। আর রসূলের উপরে কোনো দায়িত্ব নেই সুস্পষ্টভাবে পৌঁছানো ছাড়া।মাওলানা জহুরুল হক
মক্কা মুকাররমায় সাহাবায়ে কেরামকে অশেষ জুলুম-নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল। হিজরত করে মদীনা মুনাওয়ারায় আসার পরও তারা স্বস্তি পাননি। কাফেরদের পক্ষ থেকে সব সময়ই হামলার আশঙ্কা ছিল। সেই পরিস্থিতিতে জনৈক সাহাবী জিজ্ঞেস করেছিলেন, এমন কোনও দিন কি আসবে, যখন আমরা অস্ত্র রেখে শান্তিতে সময় কাটাতে পারব? তার উত্তরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, হাঁ, অচিরেই সে দিন আসছে। এ আয়াত সেই প্রেক্ষাপটেই নাযিল হয়েছে। এতে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, আল্লাহর যমীনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের জন্য একদিন পরিবেশ সম্পূর্ণ অনুকূল হয়ে যাবে। তখন তাদের কোন ভয় থাকবে না। চারদিকে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। পৃথিবীর ক্ষমতা তখন তাদেরই হাতে থাকবে। তারা অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির অধিকারী হয়ে যাবে। ফলে তারা নির্বিঘ্নে আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগী করতে থাকবে। আল্লাহ তাআলার এ ওয়াদা পূর্ণ হতে বেশি দিন লাগেনি। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায়ই সমগ্র জাযীরাতুল আরব ইসলামের ঝাণ্ডাতলে এসে গিয়েছিল। আর খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা অর্ধজাহানে বিস্তার লাভ করেছিল।
৫৪. বলুন, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করা এবং রাসূলের আনুগত্য কর। তারপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তিনিই দায়ী এবং তোমাদের উপর অৰ্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী; আর তোমরা তার আনুগত্য করলে সৎপথ পাবে, মূলত: রাসূলের দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে পৌছে দেয়া।
(৫৪) বল, ‘আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলের আনুগত্য কর।’ অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য সে দায়ী(1) এবং তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরা দায়ী।(2) তোমরা তার আনুগত্য করলে সৎপথ পাবে।(3) আর রসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া। (4)
(1) অর্থাৎ, তাবলীগ ও দাওয়াতের দায়িত্ব, যা তিনি পালন করে যাচ্ছেন।
(2) অর্থাৎ, তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে আল্লাহ ও রসূলের প্রতি ঈমান আনা এবং আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য করা।
(3) এই জন্য যে, তিনি সরল পথের প্রতি আহবান জানান।
(4) কেউ তাঁর আহবানে সাড়া দিক বা না দিক। যেমন অন্যত্র বলা হয়েছে, {فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلاَغُ وَعَلَيْنَا الْحِسَابُ} অর্থাৎ, তোমার কাজ কেবল পৌঁছে দেওয়া (কেউ মান্য করুক বা না করুক)। আর হিসাবের দায়িত্ব আমার উপর। (সূরা রা’দ ৪০ আয়াত)