ওয়া আকছামূবিল্লা-হি জাহদা আইমা-নিহিম লাইন আমারতাহুম লাইয়াখরুজুন্না কুল লাতুকছিমূ তা-‘আতুম মা‘রূফাতুন ইন্নাল্লা-হা খাবীরুম বিমা-তা‘মালূন।উচ্চারণ
এ মুনাফিকরা আল্লাহর নামে শক্ত কসম খেয়ে বলে, “আপনি হুকুম দিলে আমরা অবশ্যই ঘর থেকে বের হয়ে পড়বো।” তাদেরকে বলো, “কসম খেয়ো না, তোমাদের আনুগত্যের অবস্থা জানা আছে। ৮১ তোমাদের কার্যকলাপ সম্বন্ধে আল্লাহ বেখবর নন। ৮২ তাফহীমুল কুরআন
তারা (অর্থাৎ মুনাফিকগণ)। অত্যন্ত জোরালোভাবে আল্লাহর নামে শপথ করে যে, (হে নবী!) তুমি নির্দেশ দিলে তারা অবশ্যই বের হবে। (তাদেরকে) বলে দাও, তোমরা শপথ করো না। (তোমাদের) আনুগত্য সকলের জানা। #%৪৩%# তোমরা যা-কিছু কর আল্লাহ নিশ্চয়ই তার পুরোপুরি খবর রাখেন।মুফতী তাকী উসমানী
তারা দৃঢ়ভাবে আল্লাহর শপথ করে বলে, তুমি তাদেরকে আদেশ করলে তারা বের হবেই; তুমি বলঃ শপথ করনা, যথার্থ আনুগত্যই কাম্য। তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।মুজিবুর রহমান
তারা দৃঢ়ভাবে আল্লাহর কসম খেয়ে বলে যে, আপনি তাদেরকে আদেশ করলে তারা সবকিছু ছেড়ে বের হবেই। বলুনঃ তোমরা কসম খেয়ো না। নিয়মানুযায়ী তোমাদের আনুগত্য, তোমরা যা কিছু কর নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে জ্ঞাত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরা দৃঢ়ভাবে আল্লাহ্ র শপথ করে বলে যে, তুমি এদেরকে আদেশ করলে এরা অবশ্যই বের হবে; তুমি বল, ‘শপথ কর না, যথার্থ আনুগত্যই কাম্য। তোমরা যা কর নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তারা তাদের সুদৃঢ় শপথের মাধ্যমে আল্লাহর নামে কসম করে বলে যে, ‘তুমি যদি তাদের আদেশ কর তবে তারা বের হবেই। তুমি বল, ‘তোমরা কসম করো না। [তোমাদের] আনুগত্য তো জানাই আছে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত’।আল-বায়ান
(হে নবী!) তারা শক্ত করে কসম খেয়ে বলে যে, তুমি তাদেরকে আদেশ করলে তারা অবশ্য অবশ্যই বের হবে, বল : তোমরা কসম খেয়ো না, স্বাভাবিক আনুগত্যই কাম্য, বস্তুতঃ তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত।তাইসিরুল
আর তারা তাদের সুদৃঢ় আস্থার সাথে আল্লাহ্র নামে কসম খায় যে যদি তুমি তাদের আদেশ করতে তাহলে তারা আলবৎ বেরিয়ে পড়ত। তুমি বলো, "শপথ করো না, আনুগত্য তো জানাই আছে! তোমরা যা কর আল্লাহ্ নিশ্চয়ই সে-বিষয়ে ওয়াকিফহাল।"মাওলানা জহুরুল হক
৮১
দ্বিতীয় অর্থ এও হতে পারে, মু’মিনদের থেকে কাংখিত আনুগত্য হচ্ছে এমন পরিচিত ধরনের আনুগত্য যা সকল প্রকার সন্দেহ-সংশয়ের ঊর্ধ্বে থাকে। তা এমন ধরনের আনুগত্য নয় যার নিশ্চয়তা দেবার জন্য কসম খাবার প্রয়োজন হয় এবং এরপরও তার প্রতি অবিশ্বাস থাকে। যারা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর আদেশের অনুগত হয় তাদের মনোভাব ও কর্মনীতি গোপন থাকে না। প্রত্যেক ব্যক্তি তাদের কার্যধারা দেখে অনুভব করে, এরা আনুগত্যশীল লোক। তাদের ব্যাপারে এমন কোন সন্দেহ-সংশয়ের অবকাশই নেই যে, তা দূর করার জন্য কসম খাবার প্রয়োজন দেখা দেবে।
৮২
অর্থাৎ সৃষ্টির মোকাবিলায় এ প্রতারণা হয়তো সফল হয়ে যেতে পারে কিন্তু আল্লাহর মোকাবিলায় কেমন করে সফল হতে পারে? তিনি তো প্রকাশ্য ও গোপন সকল অবস্থা বরং মনের প্রচ্ছন্ন ইচ্ছা, চিন্তা ও আশা-আকাংখাও জানেন।
যখন জিহাদ থাকত না, মুনাফিকরা তখন কসম করে বড় মুখে বলত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলে তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে জিহাদে বের হয়ে পড়বে। কিন্তু জিহাদের ঘোষণা এসে গেলে তারা নানা ছলছুতা দেখিয়ে গা বাঁচাত। এজন্যই বলা হয়েছে, তোমাদের আনুগত্যের স্বরূপ সকলেরই জানা আছে। বহুবার পরীক্ষা হয়ে গেছে সময়কালে তোমরা কেমন আনুগত্য দেখাও। তখন আর কসমের কথা মনে থাকে না।
৫৩. আর তারা দৃঢ়ভাবে আল্লাহর শপথ করে বলে যে, আপনি তাদেরকে আদেশ করলে তারা অবশ্যই বের হবে; আপনি বলুন, শপথ করো না, আনুগত্যের ব্যাপারটি জানাই আছে। তোমরা যা কর নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।
(৫৩) ওরা দৃঢ়ভাবে আল্লাহর শপথ করে বলে যে,(1) তুমি ওদেরকে আদেশ করলে ওরা জিহাদের জন্য অবশ্যই বের হবে। তুমি বল, ‘শপথ করো না। তোমাদের আনুগত্য তো জানাই আছে।(2) তোমরা যা কর, আল্লাহ অবশ্যই সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।’(3)
(1) جَهدَ أَيمَانِهِم এর মধ্যে جَهدَ ঊহ্য ক্রিয়ার ক্রিয়ামূল, যা তাকীদের অর্থে ব্যবহূত হয়েছে। আসল বাক্য এইরূপঃ يَجهَدُونَ أَيمَانَهُم جَهدًا কিম্বা হাল (ক্রিয়া-বিশেষণ; অবস্থা) বর্ণনার জন্য جَهدَ শব্দটিতে যবর হয়েছে। অর্থাৎ, مُجتَهدِينَ فِي أَيمَانِهِم যার অর্থ হল তারা সমস্ত শক্তি দিয়ে (দৃঢ়ভাবে) শপথ করে বলে থাকে। (ফাতহুল কাদীর)
(2) আর তা হল এই যে, যেরূপ তোমরা মিথ্যা শপথ করছ, অনুরূপ তোমাদের আনুগত্যও মুনাফিক্বীর উপর নির্ভরশীল। কেউ কেউ এই অর্থ ব্যক্ত করে আর তা হল এই যে, যেরূপ তোমরা মিথ্যা শপথ করছ, অনুরূপ তোমাদের আনুগত্যও মুনাফিক্বীর উপর নির্ভরশীল। কেউ কেউ এই অর্থ ব্যক্ত করেছেন যে, তোমাদের আচরণ সৎকর্মে আনুগত্য হওয়া উচিত। আর সৎকর্মে আনুগত্যের জন্য শপথের প্রয়োজন নেই। যেমন মুসলিমরা বিনা শপথে আনুগত্য ক'রে থাকে, তেমনি তোমরাও তাদের মত হয়ে যাও। (ইবনে কাসীর)
(3) অর্থাৎ, তিনি তোমাদের সকলের অবস্থা সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত; কে অনুগত এবং কে অবাধ্য? অতএব শপথ করে আনুগত্য প্রকাশ করে এবং তোমাদের অন্তরে তার বিপরীত সংকল্প রেখে তোমরা আল্লাহকে ধোঁকা দিতে পারবে না। কারণ, তিনি গোপন থেকে গোপনতর সব কিছুর ব্যাপারে অবহিত। এমন কি তোমাদের অন্তরের গুপ্ত রহস্য সম্পর্কেও অবগত; যদিও তোমরা জিহ্বা দ্বারা তার বিপরীত প্রকাশ কর।