أَفِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ أَمِ ٱرۡتَابُوٓاْ أَمۡ يَخَافُونَ أَن يَحِيفَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِمۡ وَرَسُولُهُۥۚ بَلۡ أُوْلَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّـٰلِمُونَ

আফী কুলূবিহিম মারদুন আমিরতা-বূআম ইয়াখা-ফূনা আইঁ ইয়াহীফাল্লা-হু ‘আলাইহিম ওয়া রছূলুহূ বাল উলাইকা হুমুজ্জা-লিমূন।উচ্চারণ

তাদের মনে কি (মুনাফিকীর) রোগ আছে? না তারা সন্দেহের শিকার হয়েছে? না তারা ভয় করছে আল্লাহ ও তাঁর রসূল তাদের প্রতি যুলুম করবেন? আসলে তারা নিজেরাই যালেম। ৮০ তাফহীমুল কুরআন

তবে কি তাদের অন্তরে কোন ব্যাধি আছে, না কি তারা সন্দেহে নিপতিত, না তারা আশঙ্কাবোধ করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের প্রতি জুলুম করবেন? না, বরং তারা নিজেরাই জুলুমকারী। #%৪২%#মুফতী তাকী উসমানী

তাদের অন্তরে কি ব্যাধি আছে, না তারা সংশয় পোষণ করে, না কি তারা ভয় করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের প্রতি যুল্‌ম করবেন? বরং তারাইতো যালিম।মুজিবুর রহমান

তাদের অন্তরে কি রোগ আছে, না তারা ধোঁকায় পড়ে আছে; না তারা ভয় করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের প্রতি অবিচার করবেন? বরং তারাই তো অবিচারকারী ?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এদের অন্তরে কি ব্যাধি আছে, না এরা সংশয় পোষণ করে ? না এরা ভয় করে যে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল এদের প্রতি জুলুম করবেন ? বরং এরাই তো জালিম।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাদের অন্তরে কি ব্যাধি রয়েছে? নাকি তারা সন্দেহ পোষণ করে, না তারা ভয় করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের উপর যুলম করবেন? বরং তারাই তো যালিম।আল-বায়ান

তাদের অন্তরে কি রোগ আছে, না তারা সন্দেহ পোষণ করে? না তারা এই ভয়ের মধ্যে আছে যে আল্লাহ ও তাঁর রসূল তাদের প্রতি অন্যায় করবেন? তা নয়, আসলে তারা নিজেরাই অন্যায়কারী।তাইসিরুল

ওদের হৃদয়ে কি ব্যাধি আছে, না তারা সন্দেহ পোষণ করে, না তারা আশংকা করে যে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল তাদের প্রতি অন্যায় আচরণ করবেন? বস্তুতঃ তারা স্বয়ং অন্যায়াচারী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৮০

অর্থাৎ মানুষের এ কর্মনীতি অবলম্বনের পেছনে তিনটি সম্ভাব্য কারণই থাকতে পারে। এক, যে মানুষটি ঈমানের দাবীদার সে আসলে ঈমানই আনেনি এবং মুনাফিকী পদ্ধতিতে নিছক ধোঁকা দেবার এবং মুসলিম সমাজে প্রবেশ করে অবৈধ স্বার্থলাভের জন্য মুসলমান হয়েছে। দুই, ঈমান আনা সত্ত্বেও তার মনে এ মর্মে সন্দেহ রয়ে গেছে যে, রসূল আসলে আল্লাহর রসূল কি না, কুরআন আল্লাহর কিতাব কি না এবং কেয়ামত সত্যি সত্যিই অনুষ্ঠিত হবে কি না অথবা এগুলো সবই নিছক মুখরোচক গালপল্প বরং আসলে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে কি অথবা এটাও নিছক একটা কল্পনা, কোন বিশেষ স্বার্থোদ্বারের উদ্দেশ্যে এ কাল্পনিক বিষয়টি তৈরী করে নেয়া হয়েছে। তিন, সে আল্লাহকে আল্লাহ এবং রসূলকে রসূল বলে মেনে নেবার পরও তাঁদের পক্ষ থেকে জুলুমের আশঙ্কা করে। সে মনে করে আল্লাহর কিতাব অমুক হুকুমটি দিয়ে তো আমাদের বিপদে ফেলে দিয়েছে এবং আল্লাহর রসূলের অমুক উক্তি বা অমুক পদ্ধতি আমাদের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। এ তিনটি কারণের মধ্যে যেটিই সত্য হোক না কেন, মোটকথা এ ধরনের লোকদের জালেম হবার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। এ ধরনের চিন্তা সহকারে যে ব্যক্তি মুসলমানদের দলভুক্ত হয়, ঈমানের দাবী করে এবং মুসলিম সমাজের একজন সদস্য সেজে এ সমাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ স্বার্থ হাসিল করতে থাকে, সে একজন বড় দাগাবাজ, বিশ্বাসঘাতক, খেয়ানতকারী ও জালিয়াত। সে নিজের ওপরও জুলুম করে। রাত-দিন মিথ্যাচারের মাধ্যমে নিজেকে সে সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্বভাবের মানুষে পরিণত করতে থাকে। সে এমন ধরনের মুসলমানদের প্রতিও যুলুম করে যারা তার বাহ্যিক কালেমায়ে শাহাদাত পাঠের ওপর নির্ভর করে তাকে এ মিল্লাতের এটি অংশ বলে মেনে নেয় এবং তারপর তার সাথে নানান ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

শরীআতী বিচার-ব্যবস্থায় যাদের আস্থা নেই, যারা তা গ্রহণে প্রস্তত নয় বা তার যথার্থতা ও উপযোগিতায় সন্দেহ পোষণ করে এসব আয়াত তাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্কবাণী। বলা হচ্ছে, তাদের অন্তরে কি মুনাফিকীর ব্যাধি আছে, না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা সম্পর্কে তারা সন্দিহান, নাকি মনে করে আল্লাহ ও তার রাসূলের বিচার ইনসাফভিত্তিক নয়? বলা বাহুল্য এরূপ কোন কারণে কেউ ইসলামী বিচারব্যবস্থাকে অপছন্দ করলে তার ঈমান ও ইসলামের দাবিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা এরূপ লোকদেরকে জালিম সাব্যস্ত করেছেন। তারা আল্লাহ ও রাসূলের বিচারকে উপেক্ষা করে কেবল নিজেদের প্রতিই জুলুম করে না, অনৈসলামিক বিচার-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখে সমাজেও জুলুম-নির্যাতন বিস্তারের পথ করে দেয়। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৫০. তাদের অন্তরে কি রোগ আছে, না তারা সংশয় পোষণ করে? না তারা ভয় করে যে, আল্লাহ ও তার রাসূল তাদের প্রতি যুলুম করবেন? বরং তারাই তো যালিম।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫০) ওদের অন্তরে কি ব্যাধি আছে, না ওরা সংশয় পোষণ করে? না ওরা ভয় করে যে, আল্লাহও তাঁর রসূল ওদের প্রতি অবিচার করবেন? (1) বরং ওরাই তো সীমালংঘনকারী।

(1) আর যখন ফায়সালা তাদের বিরুদ্ধে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তখন তাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ও দূরে থাকার কারণ বর্ণনা করা হচ্ছে যে, হয় তাদের অন্তরে কুফরী ও মুনাফিক্বীর রোগ আছে, নতুবা নবীর নবুঅতে সন্দেহ আছে, নতুবা তাদের আশঙ্কা হয় যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূল তাদের প্রতি অবিচার করবেন! অথচ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে অবিচারের কোন সম্ভাবনাই নেই। বরং আসল কথা এই যে, তারা নিজেরাই অনাচারী। ইমাম শাওকানী (রঃ) বলেন, বিচার ও ফায়সালার জন্য যদি এমন বিচারক বা শাসকের দিকে আহবান করা হয়, যিনি ন্যায়পরায়ণ ও কুরআন-হাদীসের অভিজ্ঞ, তাহলে তাঁর নিকট মুকাদ্দামা পেশ করা আবশ্যক। অবশ্য যদি বিচারক কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান ও প্রমাণাদি সম্পর্কে অনভিজ্ঞ হন, তাহলে তাঁর নিকট ফায়সালার জন্য যাওয়া জরুরী নয়।