আলাম তার আন্নাল্লা-হা ইউঝজী ছাহা-বান ছুম্মা ইউআলিলফুবাইনাহূছু ম্মা ইয়াজ‘আলুহূ রুক-মান ফাতারল ওয়াদকা ইয়াখরুজুমিন খিলা-লিহী ওয়া ইউনাঝঝিলুমিনাছছামাই মিন জিবা-লিন ফীহা-মিম বারদিন ফাইউসীবুবিহী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াসরিফুহূ‘আম মাইঁ ইয়াশাউ ইয়াক-দুছানা-বারকিহী ইয়াযহাবুবিলআবসা-র।উচ্চারণ
তুমি কি দেখ না, আল্লাহ মেঘমালাকে ধীর গতিতে সঞ্চালন করেন, তারপর তার খণ্ডগুলোকে পরস্পর সংযুক্ত করেন, তারপর তাকে একত্র করে একটি ঘন মেঘে পরিণত করেন, তারপর তুমি দেখতে পাও তার খোল থেকে বৃষ্টি বিন্দু একাধারে ঝরে পড়ছে। আর তিনি আকাশ থেকে তার মধ্যে সমুন্নত পাহাড়গুলোর বদৌলতে ৭৫ শিলা বর্ষণ করেন, তারপর যাকে চান এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত করেন এবং যাকে চান এর হাত থেকে বাঁচিয়ে নেন। তার বিদ্যুৎ চমক চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। তাফহীমুল কুরআন
তোমরা কি দেখনি আল্লাহ মেঘমালা হাঁকিয়ে নেন, তারপর তাকে পরস্পর জুড়ে দেন, তারপর তাকে পুঞ্জীভূত ঘনঘটায় পরিণত করেন। তারপর তোমরা তার ভেতর থেকে বৃষ্টি নির্গত হতে দেখ। তিনি আকাশে (মেঘরূপে) যে পর্বতমালা আছে, তা থেকে শিলা বর্ষণ করেন। তারপর তা দ্বারা যাকে চান বিপন্ন করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা হয়, তা অন্য দিকে ফিরিয়ে দেন। তার বিদ্যুতের ঝলক দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেওয়ার উপক্রম করে।মুফতী তাকী উসমানী
তুমি কি দেখনা আল্লাহ সঞ্চালিত করেন মেঘমালাকে, অতঃপর তাদেরকে একত্রিত করেন এবং পরে পুঞ্জীভূত করেন? অতঃপর তুমি দেখতে পাও, ওর মধ্য হতে নির্গত হয় বারিধারা। আকাশস্থিত শিলাস্তুপ হতে তিনি শিলা বর্ষণ করেন এবং এর দ্বারা তিনি যাকে ইচ্ছা তার উপর হতে এটা অন্য দিকে ফিরিয়ে দেন; মেঘের বিদ্যুৎঝলক দৃষ্টিশক্তি প্রায় কেড়ে নেয়।মুজিবুর রহমান
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন, অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর তাকে স্তরে স্তরে রাখেন; অতঃপর তুমি দেখ যে, তার মধ্য থেকে বারিধারা নির্গত হয়। তিনি আকাশস্থিত শিলাস্তুপ থেকে শিলাবর্ষণ করেন এবং তা দ্বারা যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা, তা অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। তার বিদ্যুৎঝলক দৃষ্টিশক্তি যেন বিলীন করে দিতে চায়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তুমি কি দেখ না, আল্লাহ্ সঞ্চালিত করেন মেঘমালাকে, তৎপর তাদেরকে একত্র করেন এবং পরে পুঞ্জীভূত করেন, এরপর তুমি দেখতে পাও, এর মধ্য হতে নির্গত হয় বারিধারা; আকাশস্থিত শিলাস্তূপ হতে তিনি বর্ষণ করেন শিলা এবং এটা দিয়ে তিনি যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন এবং যাকে ইচ্ছা তার ওপর হতে এটা অন্য দিকে ফিরিয়ে দেন। মেঘের বিদ্যুৎ ঝলক দৃষ্টিশক্তি প্রায় কেড়ে নেয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ মেঘমালাকে পরিচালিত করেন, তারপর তিনি সেগুলোকে একত্রে জুড়ে দেন, তারপর সেগুলো স্তুপীকৃত করেন, তারপর তুমি দেখতে পাও তার মধ্য থেকে বৃষ্টির বের হয়। আর তিনি আকাশে স্থিত মেঘমালার পাহাড় থেকে শিলা বর্ষণ করেন। তারপর তা দ্বারা যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন। আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা তা সরিয়ে দেন। এর বিদ্যুতের ঝলক দৃষ্টিশক্তি প্রায় কেড়ে নেয়।আল-বায়ান
তুমি কি দেখ না আল্লাহ মেঘমালাকে চালিত করেন, অতঃপর সেগুলোকে একত্রে জুড়ে দেন, অতঃপর সেগুলোকে স্তুপীকৃত করেন, অতঃপর তুমি তার মধ্য থেকে পানির ধারা বের হতে দেখতে পাও, অতঃপর তিনি আকাশে স্থিত মেঘমালার পাহাড় থেকে শিলা বর্ষণ করেন, অতঃপর তিনি যাকে ইচ্ছে তা দিয়ে আঘাত করেন আর যার কাছ থেকে ইচ্ছে তা সরিয়ে নেন। তার বিদ্যুতের চমক দৃষ্টিশক্তি প্রায় কেড়ে নেয়।তাইসিরুল
তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না যে আল্লাহ্ মেঘমালাকে চালিয়ে নিয়ে যান, তারপর তিনি তাদের পরস্পরের মধ্যে জড় করেন, তারপর তাদের তিনি পুঞ্জীভূত করেন, তখন তুমি দেখতে পাও তার ভেতর থেকে বেরুচ্ছে বৃষ্টি? আর তিনি আকাশ থেকে পাহাড়গুলো হতে পাঠান তাতে থাকা শিলার রাশি, আর তা দিয়ে তিনি আঘাত করেন যাকে খুশি, এবং তা ফিরিয়ে রাখেন যাকে ইচ্ছা তার থেকে। তার বিদ্যুতের ঝলক দৃষ্টিশক্তি প্রায় নিয়েই নেয়।মাওলানা জহুরুল হক
৭৫
এর অর্থ ঠাণ্ডায় জমে যাওয়া মেঘপুঞ্জও হতে পারে রূপক অর্থে একেই হয়তো আকাশের পাহাড় বলা হয়েছে। আবার পৃথিবীর পাহাড়ও হতে পারে, যা শূন্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এগুলোর চূড়ায় জমে থাকা বরফের প্রভাবে অনেক সময় বাতাস এত বেশী ঠাণ্ডা হয়ে যায় যে, মেঘমালা জমে গিয়ে শিলা বৃষ্টি হতে থাকে।
৪৩. আপনি কি দেখেন না, আল্লাহ সঞ্চালিত করেন মেঘমালাকে, তারপর তিনি তা একত্র করেন এবং পরে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর আপনি দেখতে পান, তার মধ্য থেকে নিৰ্গত হয় বারিধারা; আর তিনি আকাশে অবস্থিত মেঘের পাহাড়ের মধ্যস্থিত শিলাস্তুপ থেকে বর্ষণ করেন শিলা অতঃপর এটা দ্বারা তিনি যাকে ইচ্ছে আঘাত করেন এবং যাকে ইচ্ছে তার উপর থেকে এটাকে অন্য দিকে ফিরিয়ে দেন। মেঘের বিদ্যুৎ ঝলক যেন দৃষ্টিশক্তি প্রায় কেড়ে নেয়।(১)
(১) অর্থাৎ যিনি এ মেঘমালা সৃষ্টি করেছেন এবং এটাকে তিনি তার মুখাপেক্ষী বান্দাদের জন্য হাঁকিয়ে নিয়ে গেছেন, আর এমনভাবে সেটাকে নাযিল করেছেন যে এর দ্বারা উপকার অর্জিত হয়েছে, ক্ষতি থেকে বাঁচা সম্ভব হয়েছে, তিনি কি পূর্ণ শক্তিমান, ইচ্ছা বাস্তবায়নকারী, প্রশস্ত রহমতের অধিকারী নন? (সা'দী)
(৪৩) তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন, অতঃপর তা একত্রিত করেন এবং পরে পুঞ্জীভূত করেন। অতঃপর তুমি দেখতে পাও, তা থেকে নির্গত হয় বারিধারা; আকাশের শিলাস্তুপ হতে তিনি বর্ষণ করেন শিলা(1) এবং এ দ্বারা তিনি যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন এবং যাকে ইচ্ছা তার উপর হতে তা অন্য দিকে ফিরিয়ে দেন।(2) মেঘের বিদ্যুৎ-ঝলক যেন দৃষ্টি শক্তি কেড়ে নিতে চায়।(3)
(1) এর একটি অর্থ এই যা অনুবাদে প্রকাশ হয়েছে। তা হল, আসমানে শিলার পাহাড় আছে; যেখান থেকে তিনি শিলা বর্ষণ করেন। (ইবনে কাসীর) দ্বিতীয় অর্থ হল سماء অর্থ উঁচু। আর جبال অর্থ হল পাহাড়ের সমতুল্য বড় বড় টুকরো। অর্থাৎ, মহান আল্লাহ আসমান হতে কেবল বৃষ্টিই বর্ষণ করেন না, বরং উঁচু থেকে যখন চান বড় বড় বরফের টুকরোও বর্ষণ করেন। (ফাতহুল কাদীর) কিম্বা পাহাড় সদৃশ বিশাল বিশাল মেঘখন্ড হতে শিলা বর্ষণ করেন।
(2) অর্থাৎ যাদের প্রতি ইচ্ছা রহমত সরূপ তাদের উপর শিলা ও বৃষ্টি বর্ষণ করেন। আবার যাদেরকে ইচ্ছা তাদেরকে তা হতে বঞ্চিত রাখেন। অথবা এর অর্থ এই যে, যাদেরকে ইচ্ছা শিলাবৃষ্টির আযাবে পতিত করেন। যার কারণে খেতের ফসলাদি সব নষ্ট হয়ে যায়। আর যা উপর রহমত করেন তাকে উক্ত আযাব হতে বাচিয়ে নেন।
(3) অর্থাৎ, মেঘের বিদ্যুৎ-ঝলক যাতে সাধারনতঃ বৃষ্টির সুখবর দিয়ে থাকে, তাতে এমন তীব্র জ্যোতি থাকে যে, মনে হয় তা যেন দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিবে। এটিও তার আজব কারিগরির একটি নমুনা।