লিইয়াজঝিইয়াহুমুল্লা-হু আহছানা মা-‘আমিলূওয়া ইয়াঝীদাহুম মিন ফাদলিহী ওয়াল্লা-হু ইয়ারঝুকুমাইঁ ইয়াশাউ বিগাইরি হিছা-ব।উচ্চারণ
(আর তারা এসব কিছু এজন্য করে) যাতে আল্লাহ তাদেরকে তাদের সর্বোত্তম কর্মের প্রতিদান দেন এবং তদুপরি নিজ অনুগ্রহ দান করেন। আল্লাহ যাকে চান বেহিসেব দান করেন। ৬৯ তাফহীমুল কুরআন
ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজের উত্তম বিনিময় দান করবেন এবং নিজ অনুগ্রহে অতিরিক্ত আরও কিছু দিবেন। #%৩৬%# আল্লাহ যাকে চান, তাকে দান করেন অপরিমিত।মুফতী তাকী উসমানী
যাতে তারা যে কাজ করে তজ্জন্য আল্লাহ তাদেরকে উত্তম পুরস্কার দেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদের প্রাপ্যের অধিক দেন; আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবিকা দান করে।মুজিবুর রহমান
(তারা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে) যাতে আল্লাহ তাদের উৎকৃষ্টতর কাজের প্রতিদান দেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও অধিক দেন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রুযী দান করেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যাতে তারা যে কর্ম করে তার জন্যে আল্লাহ্ তাদেরকে উত্তম পুরস্কার দেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদের প্রাপ্যের অধিক দেন। আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবিকা দান করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাতে তাদের কৃত উত্তম আমলের জন্য আল্লাহ তাদেরকে প্রতিদান দেন এবং তিনি স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন অপরিমিত রিয্ক দান করেন।আল-বায়ান
(তারা এভাবে আল্লাহর ইবাদাত করে) যাতে আল্লাহ তাদেরকে পুরস্কৃত করেন তাদের উত্তম কার্যাবলী অনুসারে আর নিজ অনুগ্রহে আরো অধিক দেন, কারণ আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছে করেন অপরিমিত রিযক্ দান করেন।তাইসিরুল
যেন আল্লাহ্ তাদের প্রতিদান দিতে পারেন শ্রেষ্ঠ-সুন্দরভাবে যা তারা করেছে সেজন্য, আর তাঁর করুণাভান্ডার থেকে তাদের বাড়িয়েও দিতে পারেন। আর আল্লাহ্ বেহিসাব রিযেক দিয়ে থাকেন যাকে তিনি ইচ্ছে করেন।মাওলানা জহুরুল হক
৬৯
আল্লাহর আসল আলো উপলব্ধি ও তার ধারায় অবগাহন করার জন্য যেসব গুণের প্রয়োজন এখানে সেগুলোর ব্যাখ্যা করে দেয়া হয়েছ। আল্লাহ অন্ধ বন্টনকারী নন। যাকে ইচ্ছা এমনি বিনা কারণে তার পাত্র এমনভাবে ভরে দেবেন যে, উপচে পড়ে যেতে থাকবে আবার যাকে ইচ্ছ গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবেন, এটা আল্লাহর বণ্টন নীতি নয়। তিনি যাকে দেন, দেখে-শুনেই দেন। সত্যের নিয়ামত দান করার ব্যাপারে তিনি যা কিছু দেখেন তা হচ্ছেঃ মানুষের মনে তাঁর প্রতি ভালোবাসা, আগ্রহ, আকর্ষণ, ভয় এবং তাঁর পুরস্কার গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা ও ক্রোধ থেকে বাঁচার অভিলাষ আছে। সে পার্থিব স্বার্থ পূজায় নিজেকে বিলীন করে দেয়নি। বরং যাবতীয় কর্মব্যস্ততা সত্ত্বেও তার সমগ্র হৃদয়-মন আচ্ছন্ন করে থাকে তার মহান প্রতিপালকের স্মৃতি। সে রসাতলে যেতে চায় না বরং কার্যত এমন উচ্চমার্গে উন্নীত হতে চায় যেদিক তার মালিক তাকে পথ দেখাতে চায়। সে এ দু’দিনের জীবনের লাভ প্রত্যাশী হয় না বরং তার দৃষ্টি থাকে আখেরাতের চিরন্তন জীবনের ওপর। এসব কিছু দেখে মানুষকে আল্লাহর আলোয় অবগাহন করার সুযোগ দেবার ফায়সালা করা হয়। তারপর যখন আল্লাহ দেবার জন্য এগিয়ে আসে তখন এত বেশী দিয়ে দেন যে, মানুষে নিজের নেবার পাত্র সংকীর্ণ থাকলে তো ভিন্ন কথা, নয়তো তাঁর দেবার ব্যাপারে কোন সীমাবদ্ধতা এবং শেষ সীমানা নেই।
‘নিজ অনুগ্রহে অতিরিক্ত আরও কিছু দিবেন’। আল্লাহ তাআলা সৎকর্মের যেসব পুরস্কার দান করবেন, তার কিছু কিছু তো কুরআন ও হাদীসে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক কিছু রাখা হয়েছে অব্যক্ত। এ আয়াতে কৌতুহলোদ্দীপক ভাষায় বলা হয়েছে, কুরআন ও হাদীসে যা প্রকাশ করা হয়েছে, পুণ্যবানদের প্রাপ্তব্য পুরস্কার তার মধ্যেই সীমিত নয়। বরং আল্লাহ তাআলা তার বাইরেও এমন অনেক নি‘আমত দান করবেন, যা কুরআন-হাদীসে তো বর্ণিত হয়ইনি, কারও অন্তর তা কল্পনা করতেও সক্ষম নয়।
৩৮. যাতে তারা যে উত্তম কাজ করে তার জন্য আল্লাহ তাদেরকে পুরস্কার দেন(১) এবং তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদের প্ৰাপ্যের বেশী দেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে অপরিমিত জীবিকা দান করেন।
(১) আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে তাদের কর্মের উৎকৃষ্টতম প্রতিদান দেবেন। অর্থাৎ শুধু কর্মের প্রতিদানই শেষ নয়; বরং আল্লাহ নিজ কৃপায় তাদেরকে বাড়তি নেয়ামতও দান করবেন। (মুয়াস্সার)
(৩৮) যাতে তারা যে সৎকাজ করে, তার জন্য আল্লাহ তাদেরকে উত্তম পুরস্কার দেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদের প্রাপ্যের অধিক দেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবিকা দান করেন। (1)
(1) কিয়ামত দিবসে মু’মিনদের নেকীর প্রতিদান বহুগুণ বেশি করে দেওয়া হবে। অনেককেই বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। আর সেখানে জীবিকার পর্যাপ্তি এবং তার প্রকার ও স্বাদের যে বিভিন্নতা থাকবে, অনুমানে তার কল্পনা করা সম্ভব নয়।