রিজা-লুল লা-তুলহীহিম তিজা-রতুওঁ ওয়ালা-বাই‘উন ‘আন যিকরিল্লা-হি ওয়া ইকামিসসালা-তি ওয়া ইতাইঝঝাক-তি ইয়াখা-ফূনা ইয়াওমান তাতাকাল্লাবুফীহিল কুলূবু ওয়াল আবসা-র।উচ্চারণ
যারা ব্যবসায় ও বেচাকেনার ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর স্মরণ এবং নামায কায়েম ও যাকাত আদায় করা থেকে গাফিল হয়ে যায় না। তারা সেদিনকে ভয় করতে থাকে যেদিন হৃদয় বিপর্যস্ত ও দৃষ্টি পাথর হয়ে যাবার উপক্রম হবে। তাফহীমুল কুরআন
এমন লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেচাকেনা আল্লাহর স্মরণ, নামায কায়েম ও যাকাত আদায় থেকে গাফেল করতে পারে না। #%৩৫%# তারা ভয় করে সেই দিনকে, যে দিন অন্তর ও দৃষ্টি ওলট-পালট হয়ে যাবে।মুফতী তাকী উসমানী
সেই সব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয় বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান হতে বিরত রাখেনা, তারা ভয় করে সেই দিনকে যেদিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে –মুজিবুর রহমান
এমন লোকেরা, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামায কায়েম করা থেকে এবং যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সেসব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহ্ র স্মরণ হতে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান হতে বিরত রাখে না, তারা ভয় করে সেই দিনকে যেই দিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে-ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সেসব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর যিক্র, সালাত কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা সেদিনকে ভয় করে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে।আল-বায়ান
ঐ সব লোকের দ্বারা ব্যবসায় ও ক্রয়-বিক্রয় যাদেরকে তাঁর স্মরণ হতে বিচ্যুত করতে পারে না, আর নামায প্রতিষ্ঠা ও যাকাত প্রদান থেকেও না। তাদের ভয় করে (কেবল) সেদিনের যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে।তাইসিরুল
ব্যক্তিবর্গ, -- ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেচা-কেনা তাদের বিরত করতে পারে না আল্লাহ্র নাম-কীর্তন থেকে ও নামায কায়েম করা ও যাকাত আদায় করা থেকে, তারা ভয় করে সেই দিনকে যেদিন হৃদয় ও চোখ আন্দোলিত হবে, --মাওলানা জহুরুল হক
পূর্বের আয়াতে বলা হয়েছিল আল্লাহ তাআলা যাকে চান হিদায়াতের আলোতে উপনীত করেন। এবার যারা হেদায়াতের আলোপ্রাপ্ত হয়, তাদের বৈশিষ্ট্যাবলী বর্ণিত হচ্ছে। সুতরাং এ আয়াতে বলা হয়েছে, তারা মসজিদ ও ইবাদতখানায় আল্লাহর তাসবীহ ও যিকির করে। মসজিদ ও ইবাদতখানা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার হুকুম হল, এগুলোকে যেন উচ্চমর্যাদা দেওয়া হয় ও সম্মান করা হয়। যারা এসব ইবাদতখানায় ইবাদত করে, তারা যে দুনিয়ার কাজকর্ম বিলকুল ছেড়ে দেয় এমন নয়; বরং আল্লাহ তাআলার হুকুম অনুসারে জীবিকা উপার্জনের কাজও করে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেচাকেনায়ও লিপ্ত হয়। তবে ব্যবসায়িক ধান্ধায় পড়ে তারা আল্লাহ তাআলার স্মরণ ও তাঁর হুকুম-আহকাম পালন থেকে গাফেল হয়ে যায় না। তারা ওয়াক্ত মত নামায পড়ে, যাকাত ফরয হলে তাও আদায় করে এবং কখনওই একথা ভুলে যায় না যে, এমন একদিন অবশ্যই আসবে, যে দিন জীবনের সব কাজ-কর্মের হিসাব দিতে হবে। সে দিনটি অত্যন্ত বিভীষিকাময়। তখন সমস্ত মানুষের বিশেষত নাফরমানদের অন্তরাত্মা শুকিয়ে যাবে, চোখ উল্টে যাবে।
৩৭. সেসব লোক(১), যাদেরকে ব্যবসা-বানিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় কোনটিই আল্লাহর স্মরণ হতে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান হতে বিরত রাখে না, তারা ভয় করে সে দিনকে যেদিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে।
(১) এখানে رجال শব্দের মধ্যে ইঙ্গিত আছে যে, মসজিদে উপস্থিত হওয়ার বিধান আসলে পুরুষদের জন্য, নারীদের জন্য গৃহে সালাত আদায় করা উত্তম। (বাগভী, কুরতুবী) মুসনাদে আহমাদে উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “নারীদের উত্তম মসজিদ তাদের গৃহের সংকীর্ণ ও অন্ধকার প্রকোষ্ঠ”। (মুসনাদে আহমাদঃ ৬/২৯৭)
(৩৭) এমন সব (পুরুষ) লোক(1) যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং নামায কায়েম ও যাকাত প্রদান করা হতে বিরত রাখে না, তারা ভয় করে সেদিনকে, যেদিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি ভীতি-বিহব্বল হয়ে পড়বে। (2)
(1) এ থেকে দলিল গ্রহন করে বলা হয়েছে যে, যদিও সাধারন পোশাককে বিনা সুগন্ধি মেখে, পর্দা সহকারে মেয়েরা মসজিদে যেতে পারে; যেমন আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর যুগে মেয়েরা মসজিদে নববীতে গিয়ে নামায আদায় করত, তবুও ওদের জন্য নিজ নিজ ঘরে নামায আদায় করাই অধিক উত্তম। হাদিসেও এ কথাকে স্পষ্ট করা হয়েছে। (আবু দাউদঃ নামায অধ্যায়, আহমাদ ৬/২৯৭, ৩০১)
(2) অর্থাৎ, অত্যন্ত ভয়ে ঘাবড়ে যাওয়ার কারণে। যেমন অন্যত্রে বলা হয়েছে, {وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْآزِفَةِ إِذِ الْقُلُوبُ لَدَى الْحَنَاجِرِ كَاظِمِينَ} অর্থাৎ, ওদেরকে আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করে দাও, যখন দুঃখে-কষ্টে ওদের প্রাণ কণ্ঠাগত হবে। ’’ (সূরা মু’মিন ১৮ আয়াত) প্রাথমিকভাবে সকলের অন্তরের অবস্থা এ রকম হবে; চাহে মু’মিন হোক বা কাফের।