أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِۚ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي كِتَٰبٍۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٞ

আলাম তা‘লাম আন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামুমা-ফিছছামাই ওয়াল আরদি ইন্না যা-লিকা ফী কিতা-বিন ইন্না যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াছীর।উচ্চারণ

তুমি কি জানো না, আকাশ ও পৃথিবীর প্রত্যেকটি জিনিসই আল্লাহ‌ জানেন? সবকিছু একটি কিতাবে লিখিত আছে। আল্লাহর জন্য এটা মোটেই কঠিন নয়। ১১৯ তাফহীমুল কুরআন

তুমি কি জান না আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সবকিছু সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা জানেন? এসব বিষয় একটি কিতাবে সংরক্ষিত আছে। নিশ্চয়ই তা আল্লাহ তাআলার পক্ষে অতি সহজ।মুফতী তাকী উসমানী

তুমি কি জাননা যে, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে আল্লাহ তা অবগত আছেন? এ সবই লিপিবদ্ধ আছে এক কিতাবে; এটা আল্লাহর নিকট সহজ।মুজিবুর রহমান

তুমি কি জান না যে, আল্লাহ জানেন যা কিছু আকাশে ও ভুমন্ডলে আছে এসব কিতাবে লিখিত আছে। এটা আল্লাহর কাছে সহজ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি কি জান না যে, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে আল্লাহ্ তা জানেন ? এই সকলই আছে এক কিতাবে ; নিশ্চয়ই এটা আল্লাহ্ র নিকট সহজ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি জান না যে, আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, আল্লাহ তা জানেন? নিশ্চয় তা একটি কিতাবে রয়েছে। অবশ্যই এটা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।আল-বায়ান

তুমি কি জান না যে, আল্লাহ জানেন যা আছে আকাশে আর পৃথিবীতে, এ সবই লিপিতে (রেকর্ডে) আছে। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।তাইসিরুল

তুমি কি জান না যে মহাকাশে ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সে-সবই আল্লাহ্ জানেন? নিঃসন্দেহ এটি আল্লাহর জন্যে সহজ ব্যাপার।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১১৯

বর্ণনা পরম্পরায় সাথে এ প্যারার সম্পর্ক বুঝতে হলে এ সূরার ৫৫ থেকে ৫৭ আয়াত পর্যন্ত দৃষ্টি সমক্ষে রাখতে হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৭০. আপনি কি জানেন না যে, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন। এসবই তো আছে এক কিতাবে(১); নিশ্চয় তা আল্লাহর নিকট অতি সহজ।

(১) আল্লাহ্ তা'আলা এখানে তাঁর সৃষ্টিকুল সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানের কথা জানাচ্ছেন। আর এও জানাচ্ছেন যে, আসমান ও যমীনের সবকিছুকে তাঁর জ্ঞান ঘিরে আছে। তা থেকে ছোট কিংবা বড় সামান্যতম জিনিসও বাদ পড়ে না। তিনি সৃষ্টিকুলের সবকিছু সেগুলোর অস্তিত্বের আগ থেকেই জানেন। আর তিনি সেগুলো লাওহে মাহফুযে লিখে রেখেছেন। যেমন হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টি করার পঞ্চাশ হাজার বছর আগেই সৃষ্টিকুলের তাকদীর লিখে রেখেছেন। আর তখন তাঁর আরশ ছিল পানির উপর।” (মুসলিম: ২৬৫৩)

অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ যখন কলম সৃষ্টি করলেন, তখন তাকে বললেন, লিখ। কলম বলল, কি লিখব? আল্লাহ বললেন, যা হবে সবই লিখা। তখন কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে তা লিখতে কলম চালু হল।” (মুসনাদে আহমাদ: ৫/৩১৭)

এ সবই আল্লাহর পূর্ণ জ্ঞানের প্রমাণ যে, তিনি সবকিছু হওয়ার আগেই তা জানেন। আর তিনি সেটা নির্ধারণ করেছেন এবং লিখে রেখেছেন। সুতরাং বান্দারা যা করবে, কিভাবে করবে: সেটা তাঁর জ্ঞানে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান। সৃষ্টির আগেই জানেন যে, এ সৃষ্টি তার ইচ্ছা অনুসারে আমার আনুগত্য করবে, আর এ সৃষ্টি তার ইচ্ছা অনুসারে আমার অবাধ্য হবে। আর তিনি সেটা লিখে রেখেছেন এবং জ্ঞানে সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন। এটা তাঁর জন্য সহজ ও অনায়াসসাধ্য। (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭০) তুমি কি জানো না যে, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে আল্লাহ তা অবগত আছেন? এ সবই লিপিবদ্ধ আছে এক কিতাবে। অবশ্যই এটা আল্লাহর নিকট সহজ। (1)

(1) এখানে মহান আল্লাহ নিজের জ্ঞানের পরিপূর্ণতা এবং তার মাধ্যমে সমস্ত সৃষ্টিকে বেষ্টন করার কথা বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ, তাঁর সৃষ্টি যে যা করবে তার জ্ঞান আল্লাহর পূর্ব হতেই ছিল। যে সব মানুষ স্বেচ্ছায় সৎপথ অবলম্বন করবে এবং যারা স্বেচ্ছায় পাপের পথে চলবে তা তিনি আগেই জানতেন। সুতরাং সেই জ্ঞান অনুসারে এ সমস্ত জিনিস তিনি আগেই লিখে রেখেছেন। আর মানুষের কাছে এ কথা যতই কঠিন মনে হোক না কেন, আল্লাহর জন্য তা একদম সহজ। আর এটিই হল ভাগ্যের বিষয়, যার উপর ঈমান আনা একান্ত জরুরী। যাকে হাদীসে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে যখন তাঁর আরশ ছিল পানির উপর তখন সৃষ্টিকুলের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করেছেন। (মুসলিম, তকদীর অধ্যায়) আর সুনানের বর্ণনাগুলোতে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘‘মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেন এবং বলেন, লেখ। কলম বলল, কি লিখব? মহান আল্লাহ বললেন, (কিয়ামত পর্যন্ত) যা কিছু ঘটবে সব কিছু লিখে ফেল। সুতরাং কলম আল্লাহর আদেশে কিয়ামত পর্যন্ত যা ঘটবে তা লিখে ফেলল।’’ (আহমাদ ৫/৩১৭ আবূ দাঊদ, তিরমিযী)