أَلَمۡ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ فَتُصۡبِحُ ٱلۡأَرۡضُ مُخۡضَرَّةًۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٞ

আলাম তার আন্নাল্লা-হা আনঝালা মিনাছছামাই মাআন ফাতুসবিহুল আরদু মুখদাররতান ইন্নাল্লা-হা লাতীফুন খাবীর।উচ্চারণ

তুমি কি দেখো না, আল্লাহ‌ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন এবং তার বদৌলতে জমি সবুজ-শ্যামল হয়ে ওঠে? ১১০ আসলে তিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞ। ১১১ তাফহীমুল কুরআন

তুমি কি দেখনি আল্লাহ আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন, যা দ্বারা ভূমি সবুজ-সজীব হয়ে ওঠে? বস্তুত আল্লাহ অশেষ দয়াবান, সর্ব বিষয়ে অবহিত। #%৩৫%#মুফতী তাকী উসমানী

তুমি কি লক্ষ্য করনি যে, আল্লাহ বারি বর্ষণ করেন আকাশ হতে যাতে সবুজ শ্যামল হয়ে ওঠে ধরিত্রী? আল্লাহ সম্যক সূক্ষ্মদর্শী, পরিজ্ঞাত।মুজিবুর রহমান

তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর ভূপৃষ্ট সবুজ-শ্যামল হয়ে উঠে। নিশ্চয় আল্লাহ সুক্ষদর্শী, সর্ববিষয়ে খবরদার।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ্ বারি বর্ষণ করেন আকাশ হতে যাতে সবুজ শ্যামল হয়ে উঠে পৃথিবী ? নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সম্যক সূক্ষ্মদর্শী, পরিজ্ঞাত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, যার ফলে যমীন সবুজ-শ্যামল হয়ে উঠে। নিশ্চয় আল্লাহ স্নেহপরায়ণ, সর্ববিষয়ে সম্যকজ্ঞাত।আল-বায়ান

তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, যার ফলে পৃথিবী সবুজে আচ্ছাদিত হয়ে যায়, নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষ্ণদর্শী, সর্ববিষয়ে ওয়াকিফহাল।তাইসিরুল

তুমি কি দেখ না যে আল্লাহ্ আকাশ থেকে পাঠান পানি, তখন পৃথিবী সবুজ রঙ ধারণ করে? নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ সদাশয় পূর্ণ ওয়াকিবহাল।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১১০

এখানে আবার প্রকাশ্য অর্থের পেছনে একটি সূক্ষ্ম ইশারা প্রচ্ছন্ন রয়েছে। প্রকাশ্য অর্থ তো হচ্ছে কেবলমাত্র আল্লাহর ক্ষমতা বর্ণনা করা। কিন্তু এর মধ্যে এ সূক্ষ্ম ইশারা রয়েছে যে, আল্লাহ যে বৃষ্টি বর্ষণ করেন তার ছিটেফোঁটা পড়ার সাথে সাথেই যেমন তোমরা দেখো বিশুষ্ক ভূমি অকস্মাৎ সবুজ শ্যামল হয়ে ওঠে, ঠিক তেমনি আজ যে অহীর শান্তিধারা বর্ষিত হচ্ছে তা শিগগির তোমাদের এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখাবে। তোমরা দেখবে আরবের অনুর্বর বিশুষ্ক মরুভূমি জ্ঞান, নৈতিকতা ও সুসংস্কৃতির গুলবাগীচায় পরিণত হয়ে গেছে।

১১১

মূলে لَطِيفٌ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মানে হচ্ছে, অনুভূত পদ্ধতিতে নিজের ইচ্ছা ও সংকল্প পূর্ণকারী। তিনি এমন কৌশল অবলম্বন করেন যার ফলে লোকেরা তার সূচনায় কখনো তার পরিণামের কল্পনাও করতে পারে না। লাখো লাখো শিশু দুনিয়ায় জন্মলাভ করে। কে জানতে পারে, তাদের মধ্যে কে হবে ইবরাহীম, যিনি নেতা হবেন দুনিয়ার চার ভাগের তিন ভাগ মানুষের? আর কে হবে চেংগীজ, যে বিধ্বস্ত করে দেবে এশিয়া ও ইউরোপ ভূখণ্ডকে? দূরবীন যখন আবিষ্কার হয়েছিল তখন কে ধারণা করতে পেরেছিল যে এর ফলে এটম বোমা ও হাইড্রোজেন বোমা পর্যন্ত মানুষ পৌঁছে যাবে? কলম্বাস যখন সফরে বের হচ্ছিল তখন কে জানতো এর মাধ্যমে আমেরিকান যুক্তরাষ্ট্রের ভিত গড়া হচ্ছে? মোটকথা আল্লাহর পরিকল্পনা এমন সূক্ষ্মতর ও অজ্ঞাত পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হয় যে, যতক্ষণ তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে না যায় ততক্ষণ কিসের জন্য কাজ চলছে তা কেউ জানতেও পারে না।

মূলে আরো বলা হয়েছে خَبِيرٌ অর্থাৎ তিনি নিজের দুনিয়ার অবস্থা, প্রয়োজন ও উপকরণাদি সম্পর্কে অবগত। নিজের প্রভুত্বের কাজ কিভাবে করতে হয় তিনি জানেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ বান্দাদের রিযক দানে দয়াবান আর তাদের অন্তরে যা কিছু আছে সে সম্পর্কে জ্ঞাত। এ আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য পুনরুত্থান সম্পর্কে প্রমাণ পেশ করা। অর্থাৎ যেই সত্তা এভাবে মৃত ভূমিকে সঞ্জীবিত করেন তিনি মৃত মানব গোষ্ঠীকেও পুনরায় জীবিত করে তুলতে সক্ষম। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৬৩. আপনি কি দেখেন না যে, আল্লাহ পানি বর্ষণ করেন আকাশ হতে; যাতে সবুজ শ্যামল হয়ে উঠে যমীন?(১) নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষ্মদশী, সম্যক অবহিত।(২)

(১) এখানে আবার প্রকাশ্য অর্থের পেছনে একটি সুক্ষ্ম ইশারা প্রচ্ছন্ন রয়েছে। প্রকাশ্য অর্থ তো হচ্ছে কেবলমাত্র আল্লাহর ক্ষমতা বর্ণনা করা। কিন্তু এর মধ্যে এ সুক্ষ্ম ইশারা রয়েছে যে, আল্লাহ যে বৃষ্টি বর্ষণ করেন তার ছিটেফোঁটা পড়ার সাথে সাথেই যেমন তোমরা দেখো বিশুষ্ক ভূমি অকস্মাৎ সবুজ শ্যামল হয়ে উঠে, ঠিক তেমনি আজ যে অহীর শান্তিধারা বর্ষিত হচ্ছে তা শিগগিরই তোমাদের এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখাবে। তোমরা দেখবে আরবের অনুর্বর বিশুষ্ক মরুভূমি জ্ঞান, নৈতিকতা ও সুসংস্কৃতির গুলবাগীচায় পরিণত হয়ে গেছে। অথবা আয়াতে পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাসের জন্য এ উদাহরণ পেশ করা হয়েছে। কারণ, সাধারণত: বৃষ্টি ও তার দ্বারা নতুন করে ফসলের উৎপাদনের ব্যাপারটি কুরআনের বিভিন্ন স্থানে পুনরুত্থানের প্রমাণ হিসেবে এসেছে। যেমন, “আর তাঁর একটি নিদর্শন এই যে, আপনি ভূমিকে দেখতে পান শুস্ক ও উষর, তারপর যখন আমরা তাতে পানি বর্ষণ করি তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়।” (সূরা ফুসসিলাত: ৩৯) কারণ, তারপরেই স্পষ্ট বলে দেয়া হয়েছে যে, “নিশ্চয় যিনি যমীনকে জীবিত করেন তিনি অবশ্যই মৃতদের জীবনদানকারী। নিশ্চয় তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।” (সূরা ফুস্‌সিলাত: ৩৯)

অন্যত্র বলেছেন, “সুতরাং আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের ফল সম্বন্ধে চিন্তা করুন, কিভাবে তিনি যমীনকে জীবিত করেন সেটার মৃত্যুর পর।” (সূরা আর-রূম: ৫০) কারণ আল্লাহ তারপর বলেছেন, এভাবেই আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন, আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। (সূরা আর-রূম: ৫০) আরও বলেছেন, “বান্দাদের রিযকস্বরূপ। আর আমরা বৃষ্টি দিয়ে সঞ্জীবিত করি মৃত ভূমিকে।” (সূরা কাফ: ৯–১১) কারণ আয়াতের শেষাংশেই আল্লাহ বলেছেন, এভাবেই উত্থান ঘটবে।” (সূরা কাফ: ১১) অর্থাৎ মৃত্যুর পর কবর থেকে জীবিত হয়ে বের হওয়া, বা পুনরুত্থান ঘটা। যেমন অন্য আয়াতে এসেছে, “আর এভাবেই তোমাদেরকে বের করা হবে।” (সূরা আর-রূম: ১৯) আরও এসেছে, “আর এভাবেই আমরা মৃতদের বের করব, যাতে তোমরা উপদেশ গ্ৰহণ কর।” (সূরা আল-আরাফ: ৫৭) এ সংক্রান্ত আরও বহু আয়াত রয়েছে। (আদওয়াউল বায়ান) সুতরাং আয়াত দ্বারা আল্লাহর ক্ষমতা সম্পর্কে চিন্তা করার পাশাপাশি আখেরাতের জন্য পুনরুত্থানের উপর বিশ্বাসেরও প্রমাণ পেশ করা হয়ে গেছে।

(২) এ আয়াতের শেষে মহান আল্লাহর দু'টি গুরুত্বপূর্ণ গুণসম্পন্ন নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমেই বলা হয়েছে, তিনি لَطِيف - এর মানে হচ্ছে, অননুভূত পদ্ধতিতে নিজের ইচ্ছা ও সংকল্প পূর্ণকারী। তিনি এমন কৌশল অবলম্বন করেন যার ফলে লোকেরা তার সূচনায় কখনো তার পরিণামের কল্পনাও করতে পারে না। তিনি এত সুক্ষ্মদশী যে, ছোট বড় কোন কিছু তাঁর দৃষ্টি এড়ায় না। (ফাতহুল কাদীর) অনরূপভাবে, তিনি বান্দার রিযক অত্যন্ত সূক্ষ্ম পদ্ধতিতে পৌঁছিয়ে থাকেন। তদ্রুপ অত্যন্ত সূক্ষ্ম পদ্ধতিতে তিনি কোন দানার কাছে পানির ব্যবস্থা করে সেটাকে মাটি থেকে তা উৎপন্ন করেন। (কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর) لَطِيف এর অন্য অর্থ হচ্ছে, মেহেরবান, দয়াশীল। সে হিসেবে তিনি বান্দাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তাদের জন্য বৃষ্টির ব্যবস্থা করেছেন। এর মাধ্যমে তাদের রিযিকের ব্যবস্থাও করেন। (আদওয়াউল বায়ান)।

তারপর দ্বিতীয় গুণটি বলা হয়েছে যে, তিনি خَبِير অর্থাৎ তিনি নিজের দুনিয়ার অবস্থা, প্রয়োজন ও উপকরণাদি সম্পর্কে অবগত। কোথায় কোন দানা কিভাবে পড়ে আছে সেটাকে কি করতে হবে সে সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত। তাঁর কাছে কোন কিছুই গোপন নেই। তিনি সেগুলোতে পানির অংশ পৌঁছিয়ে সেটা থেকে উদ্ভিদ বের করে আনেন। (ইবন কাসীর)। যেমন অন্য আয়াতে বলেছেন, “হে প্রিয় বৎস! নিশ্চয় তা (পাপ-পুণ্য) যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, অতঃপর তা থাকে শিলাগর্ভে অথবা আসমানসমূহে কিংবা যমীনে, আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবহিত।” (সূরা লুকমান: ১৬)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬৩) তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, যার ফলে পৃথিবী সবুজ-শ্যামল হয়ে ওঠে? নিশ্চয় আল্লাহ সম্যক সূক্ষ্ণদর্শী, পরিজ্ঞাত। (1)

(1) لَطِيف এর অর্থঃ সূক্ষ্ণদর্শী; তাঁর জ্ঞান ছোট-বড় প্রতিটি জিনিসে পরিব্যাপ্ত আছে। অথবা তার অর্থঃ অনুগ্রহপরায়ণ; অর্থাৎ নিজ বান্দাদেরকে রুযী দানের ব্যাপারে তিনি অনুগ্রহপরায়ণ। خَبِير এর অর্থঃ পরিজ্ঞাত; তিনি ঐ সমস্ত জিনিস সম্বন্ধে পরিজ্ঞাত (পূর্ণ খবর রাখেন), যাতে বান্দাদের কাজের তদবীর ও সংশোধন রয়েছে। অথবা তাদের যাবতীয় প্রয়োজন সম্পর্কে পরিজ্ঞাত।