ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ يُولِجُ ٱلَّيۡلَ فِي ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِي ٱلَّيۡلِ وَأَنَّ ٱللَّهَ سَمِيعُۢ بَصِيرٞ

যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা ইউলিজুল্লাইলা ফিন্নাহা-রি ওয়া ইউলিজুন্নাহা-র ফিল্লাইলি ওয়া আন্নাল্লা-হা ছামী‘উম বাসীর।উচ্চারণ

এসব ১০৬ এজন্য যে, আল্লাহই রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে প্রবেশ করান রাতের মধ্যে ১০৭ এবং তিনি সবকিছু শোনেন ও দেখেন। ১০৮ তাফহীমুল কুরআন

তা এজন্য যে, আল্লাহ (তাআলার শক্তি বিপুল। তিনি) রাতকে দিনের মধ্যে প্রবিষ্ট করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবিষ্ট করান #%৩৪%# এবং এজন্য যে, আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।মুফতী তাকী উসমানী

ওটা এ জন্য যে, আল্লাহ রাতকে প্রবিষ্ট করেন দিনের মধ্যে এবং দিনকে প্রবিষ্ট করেন রাতের মধ্যে এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা।মুজিবুর রহমান

এটা এ জন্যে যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাত্রির মধ্য দাখিল করে দেন এবং আল্লাহ সবকিছু শোনেন, দেখেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তা এইজন্যে যে, আল্লাহ্ রাত্রিকে প্রবিষ্ট করান দিবসের মধ্যে এবং দিবসকে প্রবিষ্ট করান রাত্রির মধ্যে এবং আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা ; ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এটা এজন্য যে, নিশ্চয় আল্লাহ রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান। আর নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা।আল-বায়ান

এটা এজন্য যে, আল্লাহ রাতকে ঢুকিয়ে দেন দিনে, আর দিনকে ঢুকিয়ে দেন রাতে (দুঃখ বেদনার অন্ধকার দূর করে আনন্দের আলো এনে দেন আর আনন্দিত জনকে দুঃখের অাঁধারে ডুবিয়ে দেন)। আর আল্লাহ তো সব কিছু শোনেন, সব কিছু দেখেন।তাইসিরুল

এমন করেই, কেননা আল্লাহ্ রাত্রিকে প্রবেশ করান দিনের মধ্যে আর দিনকে ঢুকান রাতের মধ্যে, আর আল্লাহ্‌ই তো সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০৬

এ প্যারাটির সম্পর্ক শুধুমাত্র নিকটবর্তী শেষ বাক্যটির সাথে নয় বরং উপরের পুরো প্যারাটির সাথে রয়েছে। অর্থাৎ কুফরী ও জুলুমের পথ অবলম্বনকারীদের ওপর আযাব নাযিল করা, মু’মিন সৎকর্মশীল বান্দাদেরকে পুরস্কার দেয়া, সত্যপন্থী, মজলুমদের ফরিয়াদ শোনা এবং শক্তি প্রয়োগ করে জুলুমের মোকাবিলাকারী সত্যপন্থীদের সাহায্য করা, এসবের কারণ কি? এসবের কারণ হচ্ছে আল্লাহর এই গুণাবলী।

১০৭

অর্থাৎ তিনিই সমগ্র বিশ্ব ব্যবস্থার শাসনকর্তা এবং দিন-রাত্রির আবর্তন তাঁরই কর্তৃত্বাধীন। এই বাহ্যিক অর্থের সাথে সাথে এ বাক্যের মধ্যে এদিকেও একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে যে, রাতের অন্ধকার থেকে যে আল্লাহ দিনের আলো বের করে আনেন এবং উজ্জ্বল দিনের ওপর যিনি রাতের অন্ধকার জড়িয়ে দেন তাঁরই এমন ক্ষমতা আছে। যার ফলে আজ যাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের সূর্য মধ্যগগনে কিরণ দিচ্ছে তাদের পতন ও সূর্যাস্তেরর দৃশ্যও দ্রুত দুনিয়াবাসী দেখতে পারে এবং কুফর ও জাহেলীয়াতের যে অন্ধকার আজ সত্য ও ন্যায়ের প্রভাতের উদয়ের পথ রোধ করে আছে তা ক্ষণকালের মধ্যেই তাঁর হুকুমে সরে যাবে এবং এ সঙ্গে সেদিনের উদয় হবে যেদিন সত্য, সততা ও জ্ঞানের আলোকে সারা দুনিয়া আলোকিত হয়ে উঠবে।

১০৮

অর্থাৎ তিনি অন্ধ ও বধির আল্লাহ‌ নন বরং এমন আল্লাহ‌ যিনি দেখতে ও শুনতে পান।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ এক মওসুমে যেটা থাকে দিনের অংশ অন্য মওসুমে আল্লাহ তাআলা তাকে রাত বানিয়ে দেন। আবার এক মওসুমে যেটা থাকে রাতের অংশ অন্য মওসুমে তাকে দিন বানিয়ে দেন। চাঁদ-সুরুজের পরিক্রমণকে আল্লাহ তাআলা তাঁর অপার প্রজ্ঞায় এক অলংঘনীয় নিয়ম-নিগড়ে বেঁধে দিয়েছেন। কখনও তাতে এক মুহূর্তের হেরফের হয় না। এমনিতে তো আল্লাহ তাআলার কুদরতের নিদর্শন অগণ্য। কিন্তু এখানে বিশেষভাবে দিবা-রাত্রের এই পালা বদলের বিষয়টাকে উল্লেখ করা হয়েছে সম্ভবত এ কারণে যে, এখানে আলোচনা চলছে মজলুমের সাহায্য করা সম্পর্কে। সে প্রসঙ্গেই এ দৃষ্টান্ত দিয়ে বোঝানো হচ্ছে যে, রাত-দিনের সময় যেমন পরিবর্তিত হয়, তেমনি জালেম-মজলুমের মধ্যেও সময়ের পালাবদল হয়। এক সময় যে ছিল মজলুম, আল্লাহ তাআলা জালেমের বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করেন। ফলে সে শক্তিশালী হয়ে ওঠে ও জালেমের উপর ক্ষমতা বিস্তার করে। আর যে জালেম এতদিন প্রবল-পরাক্রান্ত ছিল সে এ যাবৎকাল যার উপর জুলুম করেছিল, তার সামনে মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬১. এটা এ জন্যে যে, নিশ্চয় আল্লাহ রাতকে প্রবেশ করান দিনের মধ্যে এবং দিনকে প্ৰবেশ করান রাতের মধ্যে(১)। আর নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্ৰষ্টা(২);

(১) অর্থাৎ তিনিই সমগ্ৰ বিশ্ব ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক এবং দিন রাত্রির আবর্তন তাঁরই কর্তৃত্বাধীন। তিনি রাতের এক অংশে দিনের প্রবেশ ঘটান, আবার দিনের একাংশে রাত প্রবেশ করান। তাই কখনও দিন বড় হয়, আবার কখনও রাত বড় হয়। (ইবন কাসীর) এই বাহ্যিক অর্থের সাথে সাথে এ বাক্যের মধ্যে এদিকেও একটি সূক্ষ্ম ইংগিত রয়েছে যে, রাতের অন্ধকার থেকে যে আল্লাহ দিনের আলো বের করে আনেন এবং উজ্জ্বল দিনের উপর যিনি রাতের অন্ধকার জড়িয়ে দেন তারই এমন ক্ষমতা আছে যার ফলে আজ যাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব রয়েছে তাদের দ্রুত দুনিয়াবাসী দেখতে পাবে এবং কুফর ও জাহেলিয়াতের অন্ধকার তার হুকুমে সরে যাবে এবং এ সংগে সেদিনের উদয় হবে যেদিন সত্য, সততা ও জ্ঞানের আলোকে সারা দুনিয়া আলোকিত হয়ে উঠবে। মুমিনরা বিজয় লাভ করবে। (দেখুন, আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর)

(২) এ আয়াতে মহান আল্লাহর দুটি মহান গুণ বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্ৰষ্টা। অৰ্থাৎ তিনি অন্ধ ও বধির আল্লাহ নন বরং এমন আল্লাহ যিনি দেখতে ও শুনতে পান। বান্দাদের যাবতীয় অবস্থা, কার্যক্রম ও উঠাবসা তাঁর কাছে গোপন নেই। (ইবন কাসীর) সুতরাং কে তার কাছে সাহায্য চাচ্ছে এবং কার সাহায্য করা দরকার এটা তিনি সম্যক অবগত। আর তিনি তাকে সেভাবে সময়মত ঠিকই সাহায্য-সহযোগিতা করবেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬১) এটা এ জন্য যে, আল্লাহ রাত্রিকে প্রবিষ্ট করেন দিবসের মধ্যে এবং দিবসকে প্রবিষ্ট করেন রাত্রির মধ্যে। (1) আর নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

(1) অর্থাৎ, যে আল্লাহ এ প্রকার প্রবিষ্ট করার কাজ করতে সক্ষম, সে আল্লাহ অত্যাচারীদের নিকট হতে তাঁর অত্যাচারিত বান্দাদের প্রতিশোধ নিতে সক্ষম।