۞ذَٰلِكَۖ وَمَنۡ عَاقَبَ بِمِثۡلِ مَا عُوقِبَ بِهِۦ ثُمَّ بُغِيَ عَلَيۡهِ لَيَنصُرَنَّهُ ٱللَّهُۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٞ

যা-লিকা ওয়ামান ‘আ-কাবা বিমিছলি মা-‘উকিবা বিহী ছুম্মা বুগিয়া ‘আলাইহি লাইয়ানসুরন্নাহুল্লা-হু ইন্নাল্লা-হা লা‘আফুওউন গাফূর।উচ্চারণ

এতো হচ্ছে তাদের অবস্থা, আর যে ব্যক্তি প্রতিশোধ নেয় ঠিক যেমন তার সাথে করা হয়েছে তেমনি এবং তারপর তার ওপর বাড়াবাড়িও করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আল্লাহ‌ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন, ১০৪ আল্লাহ গোনাহমাফকারী ও ক্ষমাশীল। ১০৫ তাফহীমুল কুরআন

এসব স্থিরীকৃত বিষয় এবং (আরও জেনে রেখ) কোনও ব্যক্তি প্রতিশোধ নিতে গিয়ে যদি ঠিক ততটুকু কষ্ট দেয়, যতটুকু কষ্ট তাকে দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর ফের তার প্রতি অত্যাচার করা হয়, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন। #%৩৩%# নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি মার্জনাকারী, পরম ক্ষমাশীল।মুফতী তাকী উসমানী

এটাই হয়ে থাকে, কোন ব্যক্তি নিপীড়িত হয়ে সমপরিমান প্রতিশোধ গ্রহণ করলে এবং পুনরায় সে অত্যাচারিত হলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন; আল্লাহ নিশ্চয়ই পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।মুজিবুর রহমান

এ তো শুনলে, যে ব্যক্তি নিপীড়িত হয়ে নিপীড়ন পরিমাণে প্রতিশোধ গ্রহণ করে এবং পুনরায় সে নিপীড়িত হয়, আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী ক্ষমাশীল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এটাই হয়ে থাকে, কোন ব্যক্তি নিপীড়িত হয়ে তুল্য প্রতিশোধ গ্রহণ করলে ও পুনরায় সে অত্যাচারিত হলে আল্লাহ্ তাকে অবশ্যই সাহায্য করবেন ; আল্লাহ্ নিশ্চয়ই পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এটাই প্রকৃত অবস্থা। আর যে ব্যক্তি নিপীড়িত হয়ে তার সমপরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করে; অতঃপর তার উপর আবার নিপীড়ন করা হয় তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পাপ মোচনকারী, অতীব ক্ষমাশীল।আল-বায়ান

এতো হল তাদের অবস্থা, আর যে ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হলে সমপরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করে, অতঃপর আবার সে নিপীড়িত হয়, আল্লাহ তাকে অবশ্য অবশ্যই সাহায্য করবেন, আল্লাহ অবশ্যই মাফকারী ক্ষমাশীল।তাইসিরুল

এই রকমেই। আর যে প্রতিশোধ লয় যতটা উৎপীড়ন তাকে করা হয়েছিল তার সমপরিমাণে, তারপর তার প্রতি অত্যাচার করা হয়, তাহলে আল্লাহ্ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করবেন। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ তো পরম ক্ষমাশীল, পরিত্রাণকারী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০৪

প্রথমে এমন মজলুমদের কথা বলা হয়েছিল যারা জুলুমের জবাবে কোন পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। আর এখানে এমন মজলুমদের কথা বলা হচ্ছে যারা জুলুমের জবাবে শক্তি ব্যবহার করে।

ইমাম শাফেঈ এ আয়াত থেকে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, জুলুমের কিসাস সেভাবেই নেয়া হবে যেভাবে জুলুম করেছে। যেমন কোন ব্যক্তি একজনকে পানিতে ডুবিয়ে মেরেছে এ অবস্থায় তাকেও পানিতে ডুবিয়ে মারা হবে। আবার কোন ব্যক্তি একজনকে পুড়িয়ে মেরেছে জবাবে তাকেও পুড়িয়ে মারা হবে। কিন্তু হানাফীয়াদের মতে হত্যাকারী যেভাবেই হত্যা করুক না কেন তার থেকে একই পরিচিতি পদ্ধতিতেই কিসাস গ্রহণ করা হবে।

১০৫

এ আয়াতের দু’টি অর্থ হতে পারে এবং সম্ভবত দু’টি অর্থই এখানে প্রযোজ্য। এক, জুলুমের জবাবে যে রক্তপাত করা হবে আল্লাহর কাছে তা ক্ষমাযোগ্য, যদিও রক্তপাত মূলত ভালো জিনিস নয়। দুই, তোমরা যে আল্লাহর বান্দা তিনি ভুল-ত্রুটি মার্জনা করেন ও গোনাহ মাফ করে দেন। তাই তোমাদেরও সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের ভুল-ত্রুটি ও অপরাধ মার্জনা করা উচিত। মু’মিনরা ক্ষমাশীল, উদার হৃদয় ও ধৈর্যশীল, এগুলো তাদের চরিত্রের ভূষণ। প্রতিশোধ নেবার অধিকার অবশ্যই তাদের আছে। কিন্তু নিছক প্রতিশোধ স্পৃহা ও প্রতিশোধ গ্রহণের মানসিকতা লালন করা তাদের জন্য শোভনীয় নয়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

পূর্বে ৩৯ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসলিমদেরকে সেই সকল কাফেরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুমতি দিয়েছিলেন যারা তাদের উপর জুলুম-অত্যাচার করেছিল, যদিও এর আগে উপর্যুপরি তাদেরকে সবর ও ক্ষমা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল। এবার এ স্থলে কেবল যুদ্ধের ক্ষেত্রেই নয়, বরং যে-কোন রকমের অত্যাচার-উৎপীড়নের ক্ষেত্রে প্রতিশোধ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে শর্ত হল যে পরিমাণ জুলুম করা হয়েছে, প্রতিশোধ ঠিক সেই পরিমাণই হতে হবে। তার বেশি নয়। সেই সঙ্গে বলা হচ্ছে, ক্ষমা প্রদর্শনের নীতি যদিও সর্বোত্তম, কিন্তু ইনসাফ রক্ষা সাপেক্ষে প্রতিশোধ গ্রহণও জায়েয এবং সে ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে সাহায্যের ওয়াদা আছে। বরং এখানে আরও অগ্রসর হয়ে বলা হয়েছে, ইনসাফ রক্ষা করে প্রতিশোধ গ্রহণের পর ফের যদি তাদের উপর জুলুম করা হয়, হবে আল্লাহ তাআলা তখনও তাদেরকে সাহায্য করবেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬০. এটাই হয়ে থাকে, আর কোন ব্যক্তি নিপীড়িত হয়ে নিপীড়ন পরিমান প্রতিশোধ গ্রহণ করলে(১) তারপর পুনরায় সে নিপীড়িত হলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই সাহায্য করবেন(২); নিশ্চয় আল্লাহ পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।(৩)

(১) প্রথমে এমন মাযলুমদের কথা বলা হয়েছিল যারা যুলুমের জবাবে কোন পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। আর এখানে এমন মযলুমদের কথা বলা হচ্ছে যারা যুলুমের জবাবে শক্তি ব্যবহার করে। আয়াতে মযলুমকে যালিমের সাথে সে ধরনের ব্যবহার করতে বলেছে যে ধরনের ব্যবহার সে মাযলুমের সাথে করেছে। সুতরাং যদি কেউ যালেমের সাথে তার যুলুম অনুরূপ ব্যবহার করে, তবে তাতে কোন দোষ নেই। (সা’দী) এটাকে শাস্তি বলা হলেও আসলে এটি প্রতিশোধ। (দেখুন, কুরতুবী)

(২) অর্থাৎ যুলুমের জবাবে যে প্রতিশোধ নেয়া হবে, তাতে দোষের কিছু নেই। তারপর যদি তার উপর আবার যুলুম করা হয়, তবে আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন। কেননা সে মাযলুম। সুতরাং সে তার অধিকার আদায় করেছে বা প্ৰতিশোধ নিয়েছে বলে তার উপর যুলুম করা বৈধ হবে না। সুতরাং যদি অন্যায় ও যুলুমের প্রতিশোধ নেয়ার পর কেউ প্রতিশোধ নেয়ার কারণে তার উপর যুলুম করা হলে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন, তাহলে যে ব্যক্তি তার উপর অন্যায় ও যুলুমের প্রতিশোধ নেয়নি সে আল্লাহর সাহায্য পাবার অধিক নিকটবর্তী। (সা'দী)

(৩) আয়াতের এ অংশের সম্পর্ক শুধুমাত্র নিকটবর্তী শেষ বাক্যটির সাথে হলে এর অর্থ হবে, যদিও প্রথম অন্যায়কারীর অন্যায় বেশী, তারপরও তোমরা বেশী প্রতিশোধ না নিয়ে প্রতিশোধে সমতা বিধানের কারণ হচ্ছে, আল্লাহর ক্ষমা ও মার্জনা গুণ দুটি এটাই চাচ্ছে যে, যুলুমের বিপরীতে সম প্রতিশোধই নেয়া হোক, কারণ, তা হকের কাছাকাছি। আর যদি এ গুণ দুটির সম্পর্ক উপরের কতেক আয়াতের সাথে সমভাবে হয়, অর্থাৎ হিজরতকারীদের সাথে হয়, তখন অর্থ হবে, মুহাজিরদের এরকম প্রতিফল এজন্যেই দেব যে, আল্লাহ ক্ষমাশীল, মার্জনাকারী। তিনি তাদের গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন। (আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬০) এটাই হয়ে থাকে,(1) কোন ব্যক্তি নিপীড়িত হয়ে তুল্য প্রতিশোধ গ্রহণ করলে ও পুনরায় সে অত্যাচারিত হলে, আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন;(2) আল্লাহ নিশ্চয় পাপমোচনকারী, পরম ক্ষমাশীল।(3)

(1) অর্থাৎ, আমি মুহাজিরদের সঙ্গে বিশেষ করে শহীদী অথবা স্বাভাবিক মরণের যে ওয়াদা করেছি, তা অবশ্যই পূর্ণ হবে।

(2) العقُوبَة (প্রতিশোধ) এমন শাস্তি ও সাজাকে বলা হয়, যা কোন কাজের বিনিময়ে দেওয়া হয়। অর্থ এই যে, যদি কেউ অন্য কারো প্রতি অত্যাচার করে, তাহলে অত্যাচারিত ব্যক্তির জন্য সেই পরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করার অধিকার আছে যে পরিমাণ অত্যাচার তার প্রতি করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিশোধ নেবার পর যখন অত্যাচারী ও অত্যাচারিত উভয়ে সমান হয়ে যায়, তারপর অত্যাচারী যদি অত্যাচারিতের উপর আবার অত্যাচার করে, তাহলে আল্লাহ সেই অত্যাচারিতকে অবশ্যই সাহায্য করেন। সুতরাং এ সন্দেহ করা উচিত নয় যে, অত্যাচারিত ব্যক্তি ক্ষমা না করে প্রতিশোধ নিয়ে ভুল করেছে। না তা ভুল নয়। যেহেতু স্বয়ং আল্লাহ এর অনুমতি দিয়েছেন। সেই জন্য আগামীতেও সে আল্লাহর সাহায্যের অধিকারী হবে।

(3) এই আয়াতে ক্ষমা করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ ক্ষমাশীল, তোমরাও ক্ষমা কর। এর অন্য একটি অর্থ এও হতে পারে যে, অত্যাচারী যে পরিমাণ অত্যাচার করেছে সেই পরিমাণ প্রতিশোধ নেওয়াতে আল্লাহর কোন পাকড়াও হবে না, যেহেতু আল্লাহ তার অনুমতি দিয়েছেন। বরং তা ক্ষমাযোগ্য। বরং প্রতিশোধ গ্রহণ অত্যাচারীর কাজের অনুরূপ হওয়ার জন্য দৃশ্যতঃ এক রকম অত্যাচার হলেও, আসলে প্রতিশোধ গ্রহণ কোন অত্যাচার নয়।