وَلِسُلَيۡمَٰنَ ٱلرِّيحَ عَاصِفَةٗ تَجۡرِي بِأَمۡرِهِۦٓ إِلَى ٱلۡأَرۡضِ ٱلَّتِي بَٰرَكۡنَا فِيهَاۚ وَكُنَّا بِكُلِّ شَيۡءٍ عَٰلِمِينَ

ওয়া লিছুলাইমা-নাররীহা ‘আ-সিফাতান তাজরী বিআমরিহীইলাল আরদিল্লাতী বা-রকনাফীহা- ওয়াকুন্না-বিকুল্লি শাইয়িন ‘আ-লিমীন।উচ্চারণ

আর সুলাইমানের জন্য আমি প্রবল বায়ু প্রবাহকে বশীভূত করে দিয়েছিলাম, যা তাঁর হুকুম এমন দেশের দিকে প্রবাহিত হতো যার মধ্যে আমি বরকত রেখেছিলাম ৭৪ আমি সব জিনিসের জ্ঞান রাখি। তাফহীমুল কুরআন

এবং আমি ঝড়ো হাওয়াকে সুলায়মানের বশীভূত করে দিয়েছিলাম, যা তার হুকুমে এমন ভূমির দিকে প্রবাহিত হত, যেখানে আমি বরকত রেখেছি। #%৩৯%# আমি প্রতিটি বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।মুফতী তাকী উসমানী

এবং সুলাইমানের বশীভূত করে দিয়েছিলাম উদ্দাম বায়ুকে; ওটা তার আদেশক্রমে প্রবাহিত হত সেই দেশের দিকে যেখানে আমি কল্যাণ রেখেছি। প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কে আমিই সম্যক অবগত।মুজিবুর রহমান

এবং সুলায়মানের অধীন করে দিয়েছিলাম প্রবল বায়ুকে; তা তাঁর আদেশে প্রবাহিত হত ঐ দেশের দিকে, যেখানে আমি কল্যাণ দান করেছি। আমি সব বিষয়েই সম্যক অবগত রয়েছি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং সুলায়মানের বশীভূত করে দিয়েছিলাম উদ্দাম বায়ুকে ; তা তার আদেশক্রমে প্রবাহিত হত সেই দেশের দিকে যেখানে আমি কল্যাণ রেখেছি ; প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কে আমিই সম্যক অবগত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি সুলায়মানের জন্য অনুগত করে দিয়েছিলাম প্রবল হাওয়াকে, যা তার নির্দেশে প্রবাহিত হত সেই দেশের দিকে, যেখানে আমি বরকত রেখেছি। আর আমি প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কেই অবগত ছিলাম।আল-বায়ান

(আমার ক্ষমতা বলেই) আমি উদ্দাম বায়ুকে (স্বাভাবিক গতি সম্পন্ন) করেছিলাম সুলায়মানের জন্য। তার নির্দেশ মত তা প্রবাহিত হত সেই দেশের দিকে যাতে আমি কল্যাণ রেখেছি। আমি প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কেই অবগত ছিলাম।তাইসিরুল

আর সুলাইমানকে প্রবল বাতাস, -- তা প্রবাহিত হয়েছিল তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী সেই দেশের দিকে যেখানে আমরা কল্যাণ নিহিত করেছিলাম। আর সব বিষয়ে আমরা সম্যক অবগত।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭৪

এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে সূরা সাবায় এভাবেঃ

وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ غُدُوُّهَا شَهْرٌ وَرَوَاحُهَا شَهْرٌ

“আর সুলায়মানের জন্য আমি বায়ূকে বশীভূত করে দিয়েছিলাম, সকালে তাঁর চলা এক মাসের পথ পর্যন্ত এবং সন্ধ্যায় তাঁর চলা এক মাসের পথ পর্যন্ত।”

এর আরো বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে সূরা সাদ-এ। সেখানে বলা হয়েছেঃ

فَسَخَّرْنَا لَهُ الرِّيحَ تَجْرِي بِأَمْرِهِ رُخَاءً حَيْثُ أَصَابَ

“কাজেই আমি তাঁর জন্য বায়ূকে বশীভূত করে দিয়েছিলাম, যা তাঁর হুকুমে সহজে চলাচল করতো যেদিকে সে যেতে চাইতো।”

এ থেকে জানা যায়, বাতাসকে হযরত সুলায়মানের হুকুমের এভাবে অনুগত করে দেয়া হয়েছিল যে, তাঁর রাজ্যের এক মাস দূরত্বের পথ পর্যন্ত যে কোন স্থানে তিনি সহজে সফর করতে পারতেন। যাওয়ার সময়ও সবসময় তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী অনুকূল বাতাস পেতেন আবার ফেরার সময়ও। বাইবেল ও আধুনিক ঐতিহাসিক গবেষণা ও অনুসন্ধান থেকে এ বিষয়বস্তুর ওপর যে আলোকপাত হয় তা হচ্ছে এই যে, হযরত সুলায়মান তাঁর রাজত্বকালে নৌ-বাণিজ্যের ব্যাপক বিস্তার ঘটান। এদিকে ইসয়ূন জাবের বন্দর থেকে তাঁর বাণিজ্য বহর লোহিত সাগরে ইয়ামেন এবং অন্যান্য পূর্ব ও দক্ষিণ দেশসমূহে যাতায়াত করতো এবং অন্যদিকে ভূ-মধ্যসাগরের বন্দরসমূহ থেকে তাঁর নৌবহর (যাকে বাইবেলে তর্শীশী নৌবহর বলা হয়েছে) পশ্চিম দেশসমূহে যেতো। ইসয়ূন জাবেরে তাঁর সময়ের যে বিশাল চুল্লী পাওয়া গেছে তার সাথে তুলনীয় কোন চুল্লী আজ পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে পাওয়া যায়নি। প্রত্মতত্ব বিশেষজ্ঞগণের মতে এখানে আদুমের আরাবাহ এলাকার খনি থেকে অশোধিত লোহা ও তামা আনা হতো এবং এই চুল্লিতে গালাবার পর সেগুলো অন্যান্য কাজ ছাড়া জাহাজ নির্মাণ কাজেও ব্যবহার করা হতো। এ থেকে কুরআন মজীদে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম সম্পর্কে সূরা সাবায় যে কথা বলা হয়েছে وَأَسَلْنَا لَهُ عَيْنَ الْقِطْر (আর আমি তার জন্য গলিত ধাতুর ঝরণা প্রবাহিত করে দিয়েছিলাম) তার ওপর আলোকপাত হয়। তাছাড়া এ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সামনে রাখলে হযরত সুলায়মানের জন্য এক মাসের পথ পর্যন্ত বায়ু প্রবাহকে “বশীভূত” করার অর্থ অনুধাবন করা যায়। সেকালে সামূদ্রিক সফর পুরোপুরি অনুকূল বাতাসের ওপর নির্ভর করতো। মহান আল্লাহ হযরত সুলায়মানের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেছিলেন, যার ফলে তাঁর দু’টি সামূদ্রিক বহর সবসময় তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী এই অনুকূল বাতাস পেতো। তবুও যদি বাতাসের ওপর হযরত সুলায়মানকে হুকুম চালাবার কোন কতৃত্ব ক্ষমতা দেয়া হয়ে থাকে যেমন تَجْرِي بِأَمْرِهِ (তাঁর হুকুমে চলতো) এর শব্দাবলীর বাহ্যিক অর্থ থেকে মনে হয়, তাহলে আল্লাহর কুদরাতের জন্য এটা কোন অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। তিনি নিজের রাজ্যের মালিক। নিজের যে কোন বান্দাকে যে কোন ক্ষমতা তিনি চাইলে দিতে পারেন। তিনি কাউকে কোন ইখতিয়ার ও ক্ষমতা দান করলে আমাদের মনকষ্টের কোন কারণ নেই।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আল্লাহ তাআলা লোহার মত কঠিন পদার্থকেও হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের জন্য নমনীয় করে দিয়েছিলেন আর হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের অধীন করেছিলেন বায়ুর মত কোমল জিনিসকে। হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম সিংহাসনে আরোহন করে বাতাসকে হুকুম দিতেন অমুক জায়গায় নিয়ে যাও। বাতাস তার হুকুমমত তাঁকে যথাস্থানে পৌঁছে দিত। সূরা সাবায় আছে (৩৪ : ১২) তিনি ভোরের ভ্রমণে এক মাসের পথ এবং বিকেলের ভ্রমণেও এক মাসের পথ অতিক্রম করতেন। আয়াতে যে বরকতপূর্ণ ভূমির কথা বলা হয়েছে, তা হল শাম ও ফিলিস্তিন এলাকা। বোঝানো উদ্দেশ্য, তিনি সফর করে বহু দূর-দূরান্তে চলে গেলেও বাতাস তাকে দ্রুতগতিতে তার নিজের বরকতপূর্ণ ভূমি ফিলিস্তিনে ফিরিয়ে নিয়ে আসত।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮১. আর সুলাইমানের বশীভূত করে দিয়েছিলাম প্রবল বায়ুকে; সেটা তার আদেশে সে দেশের দিকে প্রবাহিত হত(১) যেখানে আমরা প্রভূত কল্যাণ রেখেছি(২); আর প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কে আমরাই সম্যক জ্ঞানী।

(১) এ সম্পর্কে অন্যত্র আরো বিস্তারিত আলোচনা এসেছে, বলা হয়েছেঃ “আর সুলাইমানের জন্য আমরা বায়ুকে বশীভূত করে দিয়েছিলাম, সকালে তার চলা এক মাসের পথ পর্যন্ত এবং সন্ধ্যায় তার চলা এক মাসের পথ পর্যন্ত।” (সূরা সাবাঃ ১২) অন্যত্র আরও বলা হয়েছেঃ “কাজেই আমি তার জন্য বায়ুকে বশীভূত করে দিয়েছিলাম, যা তার হুকুম সহজে চলাচল করতো যেদিকে সে যেতে চাইতো।” (সূরা সা’দঃ ৩৬) এ থেকে জানা যায় বাতাসকে সুলাইমানের হুকুমের এভাবে অনুগত করে দেয়া হয়েছিল যে, তার রাজ্যের এক মাস দূরত্বের পথ পর্যন্ত যে কোন স্থানে তিনি সহজে সফর করতে পারতেন। যাওয়ার সময়ও সব সময় তার ইচ্ছা অনুযায়ী অনুকূল বাতাস পেতেন আবার ফেরার সময়ও।

আল্লাহ্ তাআলা যেমন দাউদ আলাইহিস সালাম এর জন্যে পর্বত ও পক্ষীকুলকে বশীভূত করে দিয়েছিলেন, যারা তার আওয়াজের সাথে তসবীহ পাঠ করত, তেমনি সুলাইমান আলাইহিস সালাম এর জন্য বায়ুকে বশীভূত করে দিয়েছিলেন। বায়ুতে ভর করে তিনি যথা ইচ্ছা দ্রুত ও সহজে পৌছে যেতেন। তিনি বায়ুতে তার কাঠের বিছানা পাততেন। তারপর তাতে রাষ্ট্রের যত প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন ঘোড়া, উট, তাবু, সৈন্য-সামন্ত সবাই উঠানো হত। তারপর বাতাসকে বলা হত তা বহন করার জন্য। বাতাস তার নিচে ঢুকে তা বহন করে উঠিয়ে নিয়ে যেত। তখন তাদের উপরে পাখি ছায়া দিত, এভাবে তিনি যেখানে চাইতেন সেখানে নিয়ে যেত। যখন তিনি নামতেন তখন তার সাথে তার রাজকীয় সামগ্ৰী সবই থাকত। (ইবন কাসীর)

(২) যেখানে বরকত বা প্রভূত কল্যাণ রেখেছি বলে শাম দেশ তথা সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিন এলাকাকেই বোঝানো হয়েছে। যার আলোচনা আগেই চলে গেছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮১) এবং সুলাইমানের বশীভূত করে দিয়েছিলাম প্রবল বায়ুকে; (1) যা তার আদেশক্রমে প্রবাহিত হত সেই দেশের দিকে, যেখানে আমি কল্যাণ রেখেছি। আর প্রত্যেক বস্তু সম্পর্কে আমি অবগত।

 (1) যেমন পাহাড় ও পাখিকে দাঊদ (আঃ)-এর অনুগত করে দেওয়া হয়েছিল, তেমনি হাওয়াকেও সুলাইমান (আঃ)-এর অনুগত করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি তার পারিষদবর্গ সহ সিংহাসনে বসতেন এবং যেখানে ইচ্ছা করতেন এক মাসের রাস্তা মাত্র কয়েক ঘন্টায় পৌঁছে যেতেন। হাওয়া তাঁর সিংহাসনকে উড়িয়ে নিয়ে যেত। কল্যাণময় দেশ বলতে শাম (প্যালেষ্টাইন ও সিরিয়া)-কে বুঝানো হয়েছে।