ওয়া দাঊদা ওয়া ছুলাইমা-না ইযইয়াহকুমা-নি ফিল হারছি ইযনাফাশাত ফীহি গানামুল কাওমি ওয়াকুন্না-লিহুকমিহিম শা-হিদীন।উচ্চারণ
আর এ নিয়ামতই আমি দাউদ ও সুলাইমানকে দান করেছিলাম। স্মরণ করো সে সময়ের কথা, যখন তারা উভয়ই একটি শস্য ক্ষেতের মোকদ্দমার ফায়সালা করছিল, যেখানে রাতের বেলা ছড়িয়ে পড়েছিল অন্য লোকদের ছাগল এবং আমি নিজেই দেখছিলাম তাদের বিচার। তাফহীমুল কুরআন
এবং দাঊদ ও সুলায়মানকেও (হিকমত ও ইলম দিয়েছিলাম), যখন তারা একটি শস্য ক্ষেত্রের ব্যাপারে বিচার করছিল। তাতে রাতের বেলা একদল লোকের মেষপাল প্রবেশ করেছিল। #%৩৫%# তাদের ফায়সালা আমি নিজে প্রত্যক্ষ করছিলাম।মুফতী তাকী উসমানী
এবং স্মরণ কর দাউদ ও সুলাইমানের কথা, যখন তারা বিচার করছিল শস্যক্ষেত্র সম্পর্কে; তাতে রাতে প্রবেশ করেছিল কোন সম্প্রদায়ের মেষ; আমি প্রত্যক্ষ করছিলাম তাদের বিচার।মুজিবুর রহমান
এবং স্মরণ করুন দাউদ ও সুলায়মানকে, যখন তাঁরা শস্যক্ষেত্র সম্পর্কে বিচার করেছিলেন। তাতে রাত্রিকালে কিছু লোকের মেষ ঢুকে পড়েছিল। তাদের বিচার আমার সম্মুখে ছিল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং স্মরণ কর দাঊদ ও সুলায়মানের কথা, যখন তারা বিচার করছিল শস্যক্ষেত্র সম্পর্কে ; এতে রাত্রিকালে প্রবেশ করেছিল কোন সম্প্রদায়ের মেষ ; আমি প্রত্যক্ষ করছিলাম তাদের বিচার। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর স্মরণ কর দাঊদ ও সুলায়মানের কথা, যখন তারা শস্যক্ষেত সম্পর্কে বিচার করছিল। যাতে রাতের বেলায় কোন কওমের মেষ ঢুকে পড়েছিল। আর আমি তাদের বিচার কাজ দেখছিলাম।আল-বায়ান
স্মরণ কর দাঊদ ও সুলায়মানের কথা যখন তারা কৃষিক্ষেত সম্পর্কে বিচার করছিল যখন তাতে রাতের বেলা কোন ব্যক্তির মেষ ঢুকে পড়েছিল, আর আমি তাদের বিচারকার্য প্রত্যক্ষ করছিলাম।তাইসিরুল
আর দাউদ এবং সুলাইমানের ক্ষেত্রে, -- স্মরণ করো, তাঁরা হুকুম দিয়েছিলেন এক শস্যক্ষেত্র সম্পর্কে যাতে লোকদের ভেড়া ঢুকে পড়েছিল রাতের বেলা, আর আমরা তাঁদের হুকুমের সাক্ষী ছিলাম।মাওলানা জহুরুল হক
ঘটনাটি এ রকম, এক ব্যক্তির মেষপাল রাতের বেলা অপর এক ব্যক্তির শস্যক্ষেত্রে ঢুকে সবটা ফসল নষ্ট করে দিয়েছিল। ক্ষেতের মালিক হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের আদালতে মামলা দায়ের করল। তিনি রায় দিলেন, মেষপালের মালিক ভুল করেছে। তার উচিত ছিল রাতে সেগুলো বেঁধে রাখা। কিন্তু সে তা রাখেনি। ফলে ক্ষেতের মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন দেখতে হবে তার কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। পশুর মালিক তার সমমূল্যের মেষ তাকে প্রদান করবে। অতি সুন্দর ফায়সালা। এটা বিলকুল শরীয়তসম্মত ছিল। কিন্তু এ ফায়সালা নিয়ে তারা যখন বের হয়ে গেল, দরজার সামনে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের সঙ্গে সাক্ষাত হল। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, মহান পিতা কী রায় দিয়েছেন? তারা তাঁকে রায় সম্পর্কে অবহিত করল। তিনি বললেন, আমার আরেকটি ফায়সালা বুঝে আসছে, যা উভয়ের পক্ষে কল্যাণকর হবে। তাঁর এ মন্তব্য হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের কাছে পৌঁছলে তিনি তাঁকে ডেকে পাঠালেন। জিজ্ঞেস করলেন, সে ফায়সালাটি কী? হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, মেষপালের মালিক কিছু কালের জন্য তার মেষপালটি ক্ষেত-মালিকের হাতে সমর্পণ করবে। ক্ষেত-মালিক তা পালন করবে ও তার দুধ খাবে। আর সে তার শস্যক্ষেত্রটি মেষ মালিকের কাছে সমর্পণ করবে। সে তার যত্ন নিতে থাকবে। যখন ক্ষেতের ফসল পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে, অর্থাৎ মেষপাল নষ্ট করার আগে তা যে অবস্থায় ছিল, তখন মেষের মালিক ক্ষেতটিকে তার মালিকের হাতে প্রত্যার্পণ করবে এবং ক্ষেতওয়ালাও মেষপালটি তার মালিককে বুঝিয়ে দেবে। এটা ছিল এক রকমের আপোসরফা, যার ভেতর উভয়েরই উপকার ছিল। তাই হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের এটা পছন্দ হল এবং উভয় পক্ষ এতে খুশী হয়ে গেল।
৭৮. আর স্মরণ করুন দাউদ ও সুলায়মানকে, যখন তাঁরা বিচার করছিলেন শস্যক্ষেত্র সম্পর্কে; তাতে রাতে প্ৰবেশ করেছিল কোন সম্প্রদায়ের মেষ; আর আমরা তাদের বিচার পর্যবেক্ষণ করছিলাম।(১)
(১) মুফাস্সিরগণ ঘটনার বিবরণ এভাবে দিয়েছেন যে, দুই লোক দাউদ আলাইহিস সালামের কাছে উপস্থিত হয়। তাদের একজন ছিল ছাগলপালের মালিক ও অপরজন শস্যক্ষেত্রের মালিক। শস্যক্ষেত্রের মালিক ছাগলপালের মালিকের বিরুদ্ধে দাবী করল যে, তার ছাগপাল রাত্রিকালে আমার শস্যক্ষেত্রে চড়াও হয়ে সম্পূর্ণ ফসল বিনষ্ট করে দিয়েছে; কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি। (সম্ভবতঃ বিবাদী স্বীকার করে নিয়েছিল এবং ছাগলপালের মূল্য ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মূল্যের সমান ছিল। তাই) দাউদ আলাইহিস সালাম রায় দিলেন যে, ছাগলপালের মালিক তার সমস্ত ছাগল শস্যক্ষেত্রের মালিককে অৰ্পন করুক। (কেননা, ফিকহ এর পরিভাষায় ‘যাওয়াতুল কিয়াম’ অর্থাৎ যেসব বস্তু মূল্যের মাধ্যমে আদান প্রদান করা হয়, সেগুলো কেউ বিনষ্ট করলে তার জরিমানা মূল্যের হিসাবেই দেয়া হয়। ছাগলপালের মূল্য বিনষ্ট ফসলের মূল্যের সমান বিধায় বিধি মোতাবেক এই রায় দেয়া হয়েছে।)
বাদী ও বিবাদী উভয়ই দাউদের আদালত থেকে বের হয়ে আসলে (দরজায় তার পুত্ৰ) সুলাইমান আলাইহিস সালামের সাথে সাক্ষাত হয়। তিনি মোকদ্দমার রায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা তা শুনিয়ে দেয়। সুলাইমান বলেনঃ আমি রায় দিলে তা ভিন্নরূপ হত এবং উভয়পক্ষের জন্য উপকারী হত। তারপর তিনি পিতা দাউদের কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে এ কথা জানালেন। দাউদ আলাইহিস সালাম বলেনঃ এই রায় থেকে উত্তম এবং উভয়ের জন্য উপকারী রায়টা কি? সুলায়মান বললেনঃ আপনি ছাগপাল শস্যক্ষেত্রের মালিককে দিয়ে দিন। সে এগুলোর দুধ, পশম ইত্যাদি দ্বারা উপকার লাভ করুক এবং ক্ষেত ছাগলপালের মালিককে অর্পণ করুন। সে তাতে চাষাবাদ করে শস্য উৎপন্ন করবে। যখন শস্যক্ষেত্র ছাগলপালে বিনষ্ট করার পূর্বের অবস্থায় পৌঁছে যাবে তখন শস্যক্ষেত্র উহার মালিককে এবং ছাগপাল ছাগলের মালিককে প্রত্যাৰ্পণ করুন। দাউদ আলাইহিস সালাম এই রায় পছন্দ করে বললেনঃ বেশ এখন এই রায়ই কার্যকর হবে। অতঃপর তিনি উভয়পক্ষকে ডেকে দ্বিতীয় রায় কার্যকর করলেন। (দেখুন: কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)
(৭৮) এবং স্মরণ কর দাঊদ ও সুলাইমানের কথা, যখন তারা বিচার করছিল শস্য ক্ষেত্র সম্পর্কে; তাতে রাত্রিকালে প্রবেশ করেছিল কোন সম্প্রদায়ের মেষ; আর আমি প্রত্যক্ষ করছিলাম তাদের বিচার।