وَلُوطًا ءَاتَيۡنَٰهُ حُكۡمٗا وَعِلۡمٗا وَنَجَّيۡنَٰهُ مِنَ ٱلۡقَرۡيَةِ ٱلَّتِي كَانَت تَّعۡمَلُ ٱلۡخَبَـٰٓئِثَۚ إِنَّهُمۡ كَانُواْ قَوۡمَ سَوۡءٖ فَٰسِقِينَ

ওয়া লূতান আ-তাইনা-হু হুকমাওঁ ওয়া ‘ইল মাওঁ ওয়া নাজ্জাইনা-হু মিনাল কারয়াতিল্লাতী ক-নাত তা‘মালুল খাবাইছা ইন্নাহুম ক-নূকাওমা ছাওইন ফা-ছিকীন।উচ্চারণ

আর লূতকে আমি প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম ৬৭ এবং তাকে এমন জনপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম যার অধিবাসীরা বদ কাজে লিপ্ত ছিল--- আসলে তারা ছিল বড়ই দুরাচারী পাপিষ্ঠ জাতি--- তাফহীমুল কুরআন

আমি লূতকে হিকমত ও ইলম দিয়েছিলাম এবং এমন এক জনপদ থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছিলাম, যার অধিবাসীরা এক কদর্য কাজ করত। #%৩৪%# বস্তুত তারা ছিল অত্যন্ত নিকৃষ্ট, নাফরমান সম্প্রদায়।মুফতী তাকী উসমানী

এবং লূতকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান, আর তাকে উদ্ধার করেছিলাম এমন এক জনপদ হতে যার অধিবাসীরা লিপ্ত ছিল অশ্লীল কাজে। তারা ছিল এক মন্দ সম্প্রদায়; সত্যত্যাগী।মুজিবুর রহমান

এবং আমি লূতকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান এবং তাঁকে ঐ জনপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম, যারা নোংরা কাজে লিপ্ত ছিল। তারা মন্দ ও নাফরমান সম্প্রদায় ছিল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং লূতকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান এবং তাকে উদ্ধার করেছিলাম এমন এক জনপদ হতে যার অধিবাসীরা লিপ্ত ছিল অশ্লীল কর্মে ; এরা ছিল এক মন্দ সম্প্রদায়, সত্যত্যাগী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর লূতকে আমি প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম। আমি তাকে এমন এক জনপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম, যার অধিবাসীরা অশ্লীল কাজে লিপ্ত ছিল। তারা ছিল এক মন্দ ও পাপাচারী কওম।আল-বায়ান

আর আমি লূতকেও দিয়েছিলাম বিচারশক্তি ও জ্ঞান। আমি তাকে উদ্ধার করেছিলাম সেই জনবসতি থেকে যা অশ্লীল কাজে লিপ্ত ছিল, তারা ছিল এক খারাপ পাপাচারী জাতি।তাইসিরুল

আর লূতের ক্ষেত্রে -- আমরা তাঁকে দিয়েছিলাম বুদ্ধি-বিবেচনা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান, আর আমরা তাঁকে উদ্ধার করেছিলাম সেই জনপদ থেকে যারা জঘন্য কাজ করত। নিঃসন্দেহ তারা ছিল দুষ্ট দুরাচারী সম্প্রদায়।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬৭

মূলে “হুকুম ও ইলম” শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। কুরআনে সাধারণত হুকুম ও ইলম দান নবুওয়াদ দান করার সমার্থক হয়। “হুকম” অর্থ প্রজ্ঞাও হয়, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতাও হয়, আবার আল্লাহর পক্ষ থেকে কর্তৃত্ব করার বিধিসঙ্গত অনুমতি (Authority) লাভও হয়। আর “ইলম” --এর অর্থ হচ্ছে এমন সত্য ও যথার্থ ইলম যা অহীর মাধ্যমে দান করা হয়েছে। হযরত লূতের সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন সূরা আ’রাফ ৮০-৮৪, সূরা হূদ, ৬৯-৮৪ এবং সূরা আল হিজর, ৫৭-৭৬ আয়াত।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এমনিতে তো এ জাতি নানা রকম অপকর্মে লিপ্ত ছিল। কিন্তু কুরআন মাজীদ বিশেষভাবে তাদের যে কদাচারের কথা উল্লেখ করেছে, যা তাদের আগে আর কোন জাতির মধ্যে ছিল না, তা হচ্ছে সমকাম বা পুরুষে-পুরুষে যৌনক্রিয়া। পূর্বে সূরা হুদে (১১ : ৭৭-৮৩) তাদের বৃত্তান্ত বিস্তারিতভাবে চলে গেছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭৪. আর লুতকে আমরা দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান(১) এবং তাকে উদ্ধার করেছিলাম এমন এক জনপদ থেকে(২) যার অধিবাসীরা লিপ্ত ছিল অশ্লীল কাজে(৩); নিশ্চয় তারা ছিল এক মন্দ ফাসেক সম্প্রদায়।

(১) মূলে “হুকুম ও ইলম” শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। “হুকুম” অর্থ এখানে নবুওয়ত। তাছাড়া এর অন্য অর্থ, প্রজ্ঞা। (ফাতহুল কাদীর) আর “ইলম” এর অর্থ হচ্ছে এমন সত্য যথার্থ ইলাম যা অহীর মাধ্যমে দান করা হয়েছে। অন্য কথায় দ্বীনের জ্ঞান এবং মানুষের মধ্যে যা ঘটবে তার সঠিক ফয়সালা (কুরতুবী) লুতের সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্যে দেখুন সূরা আল-আ’রাফ ৮০–৮৪, সূরা হুদ ৬৯–৮৩ এবং সূরা আল-হিজর ৫৭–৭৬।

(২) যে জনপদ থেকে লুত আলাইহিস সালামকে উদ্ধার করার কথা আলোচ্য আয়াতদ্বয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই জনপদের নাম ছিল সাদূম। (ইবন কাসীর) এর অধীনে আরও সাতটি জনপদ ছিল। এগুলোকে জিবরীল আলাইহিস সালাম ওলট-পালট করে দিয়েছিলেন। শুধু লুত আলাইহিস সালাম ও তার সঙ্গী মুমিনদের বসবাসের জন্যে একটি জনপদ অক্ষত রেখে দেয়া হয়েছিল। (কুরতুবী)

(৩) পুরুষের সাথে পুরুষের কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করা ছিল তাদের সর্বপ্রধান নোংরা অভ্যাস, যা থেকে বন্য জন্তুরাও বেঁচে থাকে। কোন কোন তফসীরবিদ বলেনঃ এ ছাড়া অন্যান্য নোংরা অভ্যাসও তাদের মধ্যে ছিল। (দেখুন: কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭৪) লুতকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান, আর তাকে উদ্ধার করেছিলাম এমন এক জনপদ হতে, যার অধিবাসীরা লিপ্ত ছিল অশ্লীল কর্মে; তারা ছিল এক সত্যত্যাগী মন্দ সম্প্রদায়।