ওয়া নাজ্জাইনা-হু ওয়া লূতান ইলাল আরদিল্লাতী বা-রকনা-ফীহা-লিল‘আ-লামীন।উচ্চারণ
আর আমি তাঁকে ও লূতকে ৬৩ বাঁচিয়ে এমন দেশের দিকে নিয়ে গেলাম যেখানে আমি দুনিয়াবাসীদের জন্য বরকত রেখেছিলাম। ৬৪ তাফহীমুল কুরআন
এবং আমি তাকে ও লূতকে উদ্ধার করে এমন এক ভূমিতে নিয়ে গেলাম, যেখানে আমি সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য বরকত রেখেছি। #%৩৩%#মুফতী তাকী উসমানী
আর আমি তাকে ও লূতকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলাম সেই দেশে যেথায় আমি কল্যাণ রেখেছি বিশ্ববাসীর জন্য।মুজিবুর রহমান
আমি তাঁকে ও লূতকে উদ্ধার করে সেই দেশে পৌঁছিয়ে দিলাম, যেখানে আমি বিশ্বের জন্যে কল্যাণ রেখেছি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং আমি তাকে ও লূতকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলাম সেই দেশে, যেখানে আমি কল্যাণ রেখেছি বিশ্ববাসীর জন্যে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর আমি তাকে ও লূতকে উদ্ধার করে সে দেশে নিয়ে গেলাম, যেখানে আমি বিশ্ববাসীর জন্য বরকত রেখেছি।আল-বায়ান
আর আমি তাকে ও (তার ভ্রাতুষ্পুত্র) লূতকে উদ্ধার করে তাদেরকে এমন দেশে (অর্থাৎ ফিলিস্তিনে) নিয়ে গেলাম যা আমি বিশ্ববাসীর জন্য কল্যাণময় করেছি।তাইসিরুল
আর আমরা তাঁকে এবং লূতকে উদ্ধার করে এনেছিলাম সেই দেশে যেখানে আমরা জগদ্বাসীর জন্য কল্যাণ রেখেছিলাম।মাওলানা জহুরুল হক
৬৩
বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী নাহূরা ও হারান নামে হযরত ইবরাহীমের দুই ভাই ছিল। হযরত লূত ছিল হারানের ছেলে। (আদি পুস্তক ১১:২৬) সূরা আনকাবুতে হযরত ইবরাহীমের যে ঘটনা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে বাহ্যত একথাই জানা যায় যে, তাঁদের সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে একমাত্র হযরত লূতই তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলেন। (দেখুন ২৬ আয়াত)
৬৪
অর্থাৎ সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে। তার বরকত তথা সমৃদ্ধি বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক উভয় ধরনেরই। বস্তুগত দিক দিয়ে তা দুনিয়ার উর্বরতম এলাকাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে দু’হাজার বছর থেকে তা থেকেছে আল্লাহর নবীগণের কর্মক্ষেত্র। দুনিয়ার কোন এলাকায় এতো বিপুল সংখ্যক নবী আবির্ভূত হয়নি।
হযরত লুত আলাইহিস সালাম ছিলেন ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ভাতিজা। সূরা আনকাবুতের বর্ণনা (২৯ : ২৬) দ্বারা জানা যায় হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের প্রতি তাঁর গোটা সম্প্রদায়ের মধ্যে একা লুত আলাইহিস সালামই ঈমান এনেছিলেন। ইতিহাসের বর্ণনায় প্রকাশ, তাকে অগ্নিদগ্ধ করার পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে গেলে নমরূদ মনে মনে ভড়কে গিয়েছিল। সে ক্ষান্ত হয়ে তাঁর পথ ছেড়ে দিল। তিনি আল্লাহ তাআলার হুকুমে ভাতিজাকে নিয়ে ইরাক থেকে শাম এলাকায় হিজরত করলেন। কুরআন মাজীদের কয়েকটি আয়াতে শাম ও ফিলিস্তিন অঞ্চলকে বরকতপূর্ণ এলাকা বলা হয়েছে।
৭১. এবং আমরা তাকে ও লুতকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলাম সে দেশে, যেখানে আমরা কল্যাণ রেখেছি সৃষ্টিজগতের জন্য।(১)
(১) অর্থাৎ ইবরাহীম ও লুতকে আমরা নমরূদের অধিকারভুক্ত দেশ (অর্থাৎ ইরাক) থেকে উদ্ধার করে এমন এক দেশে পৌছতে দিলাম, যেখানে আমি বিশ্ববাসীদের জন্যে কল্যাণ রেখেছি অর্থাৎ সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে। তার বরকত তথা সমৃদ্ধি বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক উভয় ধরনেরই। বস্তুগত দিক দিয়ে তা দুনিয়ার উর্বরতম এলাকাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে দু'হাজার বছর থেকে তা থেকেছে আল্লাহর নবীগণের কর্মক্ষেত্র। দুনিয়ার কোন এলাকায় এতো বিপুল সংখ্যক নবী আবির্ভূত হয়নি।
মূলতঃ সিরিয়া বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ দিক দিয়ে অসংখ্য কল্যাণের আবাসস্থল। অভ্যন্তরীণ কল্যাণ এই যে, দেশটিতে অনেক নবী-রাসূলের সমারোহ ঘটেছিল। অধিকাংশ পয়গম্বর এ দেশেই জন্মগ্রহণ করেছেন। বাহ্যিক কল্যাণ হচ্ছে সুষম আবহাওয়া, নদ-নদী, প্রাচুর্য, ফল-মূল ও সর্বপ্রকার উদ্ভিদের অনন্য সমাহার ইত্যাদি। এগুলোর উপকারিতা শুধু সে দেশবাসীই নয়, বহির্বিশ্বের লোকেরাও ভোগ করে থাকে। (দেখুন, কুরতুবী) কোন কোন মুফাসসির বলেন, এখানে মক্কাকে বোঝানো হয়েছে। কারণ অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “নিশ্চয় মানব জাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা তো বাক্কায়, বরকতময় ও সৃষ্টিজগতের দিশারী হিসাবে।” (সূরা আলে ইমরান: ৯৬) (ইবন কাসীর)
(৭১) আর আমি তাকে ও লূতকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলাম সেই (শাম) দেশে, যেথায় আমি কল্যাণ রেখেছি বিশ্ববাসীর জন্য। (1)
(1) বেশির ভাগ ব্যাখ্যাতাগণের নিকট এ থেকে শাম (বর্তমানে সিরিয়া ও প্যালেষ্টাইন) দেশকে বুঝানো হয়েছে। যাকে শস্য-শ্যামলতা, ফলমূল, নদ-নদীর আধিক্য ও সেই সাথে বহু নবীর বাসস্থান হওয়ার কারণে বরকতময় ও কল্যাণময় বলা হয়েছে।