قُلۡنَا يَٰنَارُ كُونِي بَرۡدٗا وَسَلَٰمًا عَلَىٰٓ إِبۡرَٰهِيمَ

কুলনা-ইয়া-না-রু কূনী বারদাওঁ ওয়া ছালা-মান ‘আলাইবর-হীম।উচ্চারণ

আমি বললামঃ “হে আগুন! ঠাণ্ডা হয়ে যাও এবং নিরাপদ হয়ে যাও ইবরাহীমের জন্য।” ৬২ তাফহীমুল কুরআন

(সুতরাং তারা ইবরাহীমকে আগুনে নিক্ষেপ করল) এবং আমি বললাম, হে আগুন! ঠাণ্ডা হয়ে যাও এবং ইবরাহীমের পক্ষে শান্তিদায়ক হয়ে যাও। #%৩২%#মুফতী তাকী উসমানী

আমি বললামঃ হে আগুন! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।মুজিবুর রহমান

আমি বললামঃ হে অগ্নি, তুমি ইব্রাহীমের উপর শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি বললাম, ‘হে অগ্নি ! তুমি ইব্রাহীমের জন্যে শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি বললাম, ‘হে আগুন, তুমি শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও ইবরাহীমের জন্য’ ।আল-বায়ান

আমি বললাম, ‘হে অগ্নি! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও শান্তিময় হয়ে যাও।’তাইসিরুল

আমরা বললাম -- "হে আগুন! তুমি শীতল ও শান্ত হও ইব্রাহীমের উপরে।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬২

শব্দাবলী পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছে এবং পূর্বাপর বক্তব্যও এ অর্থ সমর্থন করছে যে, তারা সত্যিই তাদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। অন্যদিকে আগুনের কুণ্ড তৈরী হয়ে যাবার পর তারা যখন হযরত ইবরাহীমকে তার মধ্যে ফেলে দেয় তখন মহান আল্লাহ আগুনকে হুকুম দেন সে যেন ইবরাহীমের জন্য ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং তাঁর কোন ক্ষতি না করে। বস্তুত কুরআনের সুস্পষ্টভাবে যেসব মু’জিযার বর্ণনা দেয়া হয়েছে এটিও তার অন্তর্ভুক্ত। এখন কোন ব্যক্তি যদি এ মু’জিযাগুলোকে সাধারণ ঘটনা প্রমাণ করার জন্য জোড়াতালি দিয়ে কৃত্রিম ব্যাখ্যার আশ্রয় নেয়, তবে বুঝতে হবে যে, তার মধ্যে আল্লাহর জন্যও বিশ্ব-জাহানের প্রচলিত নিয়মের বাইরে অস্বাভাবিক কোন কিছু করা সম্ভবপর নয়। যে ব্যক্তি এরূপ মনে করে, আমি জানতে চাই যে, সে আল্লাহকে মেনে নেয়ার কষ্টই বা করতে যাচ্ছে কেন? আর যদি সে এ ধরনের জোড়াতালির ব্যাখ্যা এজন্য করে থাকে যে, আধুনিক যুগের তথাকথিত যুক্তিবাদীরা এ ধরনের কথা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়, তাহলে আমরা তাকে জিজ্ঞেস করি, জনাব! তথাকথিত সেসব চুক্তিবাদীকে যে কোনভাবেই হোক স্বীকার করাতেই হবে, এ দায়িত্ব আপনার ঘাড়ে কে চাপিয়ে দিয়েছিল? কুরআন যেমনটি আছে ঠিক তেমনিভাবে যে তাকে মেনে নিতে প্রস্তুত নয়, তাকে তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দিন। তার স্বীকৃতি আদায় করার জন্য কুরআনকে তার চিন্তাধারা অনুযায়ী ঢেলে সাজাবার চেষ্টা করা, যখন কুরআনের মূল বক্তব্যে প্রতিটি শব্দ এ ঢালাইয়ের বিরোধিতা করছে, তখন এটা কোন্ ধরনের প্রচার এবং কোন্ বিবেকবান ব্যক্তি একে বৈধ মনে করতে পারে? (বেশী বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন সূরা আনকাবুত ৩৯ টীকা)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এ মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা নিজ কুদরতের মহিমা প্রকাশ করলেন। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পক্ষে আগুন ঠাণ্ডা ও শান্তিদায়ক হয়ে গেল। এটা ছিল একটা মুজিযা বা আল্লাহ তাআলার কুদরতঘটিত অলৌকিক ব্যাপার। যারা মুজিযাকে অস্বীকার করে প্রকারান্তরে তারা আল্লাহ তাআলার কুদরত ও ক্ষমতার অসীমতাকে অস্বীকার করে। অথচ আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান থাকলে এটাও স্বীকার করা অপরিহার্য যে, আগুনের ভেতর উত্তাপ ও জ্বালানোর ক্ষমতা তাঁরই সৃষ্টি। তিনি যদি একজন মহান রাসূলকে শত্রুদের কবল থেকে মুক্তি দানের জন্য আগুনের সে শক্তি কেড়ে নেন তাতে আশ্চর্যের কি আছে?

তাফসীরে জাকারিয়া

৬৯. আমরা বললাম, হে আগুন! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬৯) আমি বললাম, ‘হে আগুন! তুমি ইব্রাহীমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।’