فَجَعَلَهُمۡ جُذَٰذًا إِلَّا كَبِيرٗا لَّهُمۡ لَعَلَّهُمۡ إِلَيۡهِ يَرۡجِعُونَ

ফাজা‘আলাহুম জুযা-যান ইল্লা-কাবীরল লাহুম লা‘আল্লাহুম ইলাইহি ইয়ারজি‘ঊন।উচ্চারণ

সে অনুসারে সে সেগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেললো ৫৭ এবং শুধুমাত্র বড়টিকে ছেড়ে দিল, যাতে তারা হয়তো তার দিকে ফিরে আসতে পারে। ৫৮ তাফহীমুল কুরআন

সুতরাং সবগুলো মূর্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলল তাদের প্রধানটি ছাড়া, যাতে তারা তার কাছে রুজূ করতে পারে। #%২৯%#মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর সে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল মূর্তিগুলিকে, তাদের বড় (প্রধান) মূর্তিটি ব্যতীত, যাতে তারা তার দিকে ফিরে আসে।মুজিবুর রহমান

অতঃপর তিনি সেগুলোকে চূর্ণ-বিচুর্ণ করে দিলেন ওদের প্রধানটি ব্যতীতঃ যাতে তারা তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরপর সে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল মূর্তিগুলিকে, এদের প্রধানটি ব্যতীত ; যাতে এরা তার দিকে ফিরে আসে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে মূর্তিগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল তাদের বড়টি ছাড়া, যাতে তারা তাঁর দিকে ফিরে আসে।আল-বায়ান

তারপর সে মূর্তিগুলোকে টুকরো টুকরো করে দিল, ওগুলোর বড়টি ছাড়া, যাতে পূজারীরা ওটার প্রতিই মনোযোগী হয়।তাইসিরুল

তারপর তিনি তাদের টুক্‌রো টুক্‌রো করে ফেললেন তাদের বড়টি ছাড়া, যাতে তারা এর কাছে ফিরে আসতে পারে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৭

অর্থাৎ যে সময় পূজারী ও রক্ষণাবেক্ষণকারীরা উপস্থিত ছিল না সে সময় সুযোগ পেয়েই হযরত ইবরাহীম (আ) তাদের কেন্দ্রীয় ঠাকুরঘরে প্রবেশ করলেন এবং মূর্তিগুলো ভেঙ্গে ফেললেন।

৫৮

“তার দিকে” কথাটির মধ্যে যে ইঙ্গিত রয়েছ তা বড় মূর্তিটির দিকেও হতে পারে আবার হযরত ইবরাহীমের দিকেও। যদি প্রথমটি হয় তাহলে এটি হবে হযরত ইবরাহীমের পক্ষ থেকে তাদের আকীদা বিশ্বাসের প্রতি একটি বিদ্রূপাত্মক কটাক্ষের সমার্থক। অর্থাৎ যদি তারা মনে করে থাকে সত্যিই এরা ইলাহ, তাহলে তাদের এ বড় ইলাহটির ব্যাপারে সন্দেহ হওয়া উচিত যে, সম্ভবত বড় ইলাহ কোন কারণে ছোট ইলাহদের প্রতি বিরূপ হয়ে গিয়ে তাদের সবাইকে কচুকাটা করে ফেলেছেন। অথবা বড় ইলাহটিকে জিজ্ঞেস করো যে, হুযুর! আপনার উপস্থিতিতে একি ঘটে গেলো? কে এ কাজ করলো? আপনি তাকে বাধা দিলেন না কে? আর যদি দ্বিতীয় অর্থটি গ্রহণ করা হয় তাহলে বুঝা যাবে যে, এ কাজের মাধ্যমে হযরত ইবরাহীমের উদ্দেশ্য এই ছিল যে, নিজেদের মূর্তিগুলোর এ দুরবস্থা দেখে হয়তো তাদের দৃষ্টি আমার দিকে ফিরে আসবে এবং তারা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, তখন তাদের সাথে স্পষ্ট ভাষায় কথা বলার সুযোগ আমি পেয়ে যাবো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এটা ছিল তাদের কোন উৎসবের দিন, যে দিন সমস্ত নগরবাসী আনন্দ উদযাপনের জন্য বাইরে চলে যেত, যেমন সূরা সাফফাতে আসবে (৩৭ : ৮৮-৮৯)। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাদের সাথে যেতে অপারগতা প্রদর্শন করেছিলেন। তারপর যখন সকলে শহরের বাইরে চলে গেল, তিনি দেবালয়ে ঢুকে সবগুলো মূর্তি ভেঙ্গে ফেললেন। শুধু একটি মূর্তি রেখে দিলেন, যেটি ছিল সকলের বড়। কোন কোন রেওয়ায়াতে আছে, যে কুড়ালটি দিয়ে তাদেরকে ভেঙ্গেছিলেন, সেটিও তিনি বড়টির গলায় ঝুলিয়ে দিলেন। এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তাদের চোখ খুলে দেওয়া, যাতে তারা নিজ চোখে মূর্তিদের অক্ষমতা ও অসহায়তা দেখতে পায় এবং তাদের চিন্তা করার সুযোগ হয়, যে মূর্তি নিজেকেই নিজে রক্ষা করতে পারে না, সে অন্যের সাহায্য করবে কি করে? বড় মূর্তিটিকে কি কারণে ছেড়ে দিয়েছিলেন, তা ৬৩নং আয়াতে বর্ণিত প্রশ্নোত্তর দ্বারা স্পষ্ট করা হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৮. অতঃপর তিনি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন মূর্তিগুলোকে, তাদের প্রধানটি ছাড়া(১); যাতে তারা তার দিকে(২) ফিরে আসে।

(১) অর্থাৎ ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মুর্তিগুলোকে ভেঙ্গে খণ্ডবিখণ্ড করে দিলেন। শুধু বড় মুর্তিটিকে ভাঙ্গার কবল থেকে রেহাই দিলেন। এটা হয় দৈহিক আকার আকৃতিতে অন্য মুর্তিদের চাইতে বড় ছিল (কুরতুবী) না হয় আকার আকৃতিতে সমান হওয়া সত্বেও পূজারীরা তাকে বড় বলে মান্য করত। (ইবন কাসীর)

(২) এখানে إليه বা ‘তার দিকে’ বলে কাকে বুঝানো হয়েছে। এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছেঃ (এক) এখানে তার দিকে বলে ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে। (ফাতহুল কাদীর) অর্থাৎ ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এ আশায় কাজটি করলেন যে তাদের উপাস্য মুর্তিদেরকে খণ্ড-বিখণ্ড দেখলে এরা যে পুজার যোগ্য নয় এ জ্ঞান তাদের মধ্যে ফিরে আসবে। এরপর তারা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর দ্বীনের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। (কুরতুবী) (দুই) কোন কোন মুফাসসিরের মতে, এখানে ‘তার দিকে’ বলে- كبيرهم বা তাদের প্রধান মুর্তিকে বোঝানো হয়েছে। অর্থ এই যে, তারা ফিরে এসে যখন সবগুলো মুর্তিকে খণ্ড বিখণ্ড এবং বড় মুর্তিকে আস্ত অক্ষত ও কাঁধে কুড়াল রাখা অবস্থায় দেখবে, তখন সম্ভবত: এই মুর্তিটির দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে এবং তাকে জিজ্ঞেস করবে যে, এরূপ কেন হল? আর তারা মনে করবে যে, বড় মূর্তিই বোধ হয় নিজের আত্মসম্মানবোধের কারণে ছোট ছোট মূর্তিগুলোকে ভেঙ্গে ফেলেছে। (কুরতুবী; ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৮) অতঃপর সে তাদের বড় মূর্তিটি ছাড়া অন্যগুলিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল; যাতে তারা তার দিকে ফিরে আসে।(1)

(1) যখন তারা সকলেই তাদের ঈদ বা কোন অনুষ্ঠানের দিন বাইরে চলে গেল, তখন ইবরাহীম (আঃ) এই সুযোগে সকল মূর্তিগুলোকে ভেঙ্গে ফেললেন। শুধু বড় মূর্তিটিকে রেখে দিলেন। কেউ বলেন, কুড়ুল তার হাতে ধরিয়ে দিলেন, যাতে তারা তাকে জিজ্ঞেস করে।