ওয়া জা‘আলনা-ফিল আরদিরওয়া-ছিয়া আন তামীদা বিহিম ওয়া জা‘আলনা ফীহাফিজাজান ছুবুলাল লা‘আল্লাহুম ইয়াহতাদূ ন।উচ্চারণ
আর আমি পৃথিবীতে পাহাড় বসিয়ে দিয়েছি, যাতে সে তাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে ৩০ এবং তার মধ্যে চওড়া পথ তৈরি করে দিয়েছি, ৩১ হয়তো লোকেরা নিজেদের পথ জেনে নেবে। ৩২ তাফহীমুল কুরআন
আমি পৃথিবীতে দৃঢ়ভাবে স্থাপিত পাহাড় সৃষ্টি করেছি, যাতে তাদেরকে নিয়ে তা দোল না খায় #%১৭%# এবং তাতে তৈরি করেছি প্রশস্ত রাস্তা, যাতে তারা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারে।মুফতী তাকী উসমানী
এবং আমি পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছি সুদৃঢ় পর্বত যাতে পৃথিবী তাদেরকে নিয়ে এদিক-ওদিক টলে না যায় এবং আমি তাতে করে দিয়েছি প্রশস্ত পথ যাতে তারা গন্তব্য স্থলে পৌঁছতে পারে।মুজিবুর রহমান
আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে এবং তাতে প্রশস্ত পথ রেখেছি, যাতে তারা পথ প্রাপ্ত হয়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং আমি পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছি সুদৃঢ় পর্বত, যাতে পৃথিবী এদেরকে নিয়ে এদিক-ওদিক ঢলে না যায় এবং আমি এতে করে দিয়েছি প্রশস্ত পথ, যাতে এরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছিতে পারে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর আমি যমীনে সৃষ্টি করেছি সুদৃঢ় পর্বত, যেন তা পর্বতসমূহ নিয়ে একদিকে হেলে না পড়ে*, আর আমি তাতে তৈরী করেছি প্রশস্ত রাস্তা, যেন তারা চলতে পারে।আল-বায়ান
আর পৃথিবীতে আমি স্থাপন করেছি সুদৃঢ় পর্বত যাতে পৃথিবী তাদেরকে নিয়ে নড়াচড়া না করে। আর তাতে সৃষ্টি করেছি প্রশস্ত পথ যাতে তারা পথ পেতে পারে।তাইসিরুল
আর পৃথিবীতে আমরা পাহাড়-পর্বত স্থাপন করেছি পাছে তাদের সঙ্গে এটি আন্দোলিত হয়, আর ওতে আমরা বানিয়েছি চওড়া পথঘাট যেন তারা সৎপথ প্রাপ্ত হয়।মাওলানা জহুরুল হক
৩০
সূরা আন্ নাহাল--- এর ১২ টীকায় এর ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে।
৩১
অর্থাৎ পাহাড়ের মধ্যে এমন গিরিপথ, ঝরণা ও নদী তৈরী করে দিয়েছি যার মাধ্যমে পার্বত্য এলাকা অতিক্রম করার ও পৃথিবীর এক অংশ থেকে আর এক অংশে চলাফেরা করার জন্য রাস্তা তৈরী হয়ে গেছে। এভাবে পৃথিবীর অন্যান্য অংশকে এমনভাবে গঠন করা হয়েছে যার ফলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়ার পথ তৈরী হয়ে যায় বা তৈরী করে নেয়া যেতে পারে।
৩২
এটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বাক্য। এর এ অর্থও হয় যে, লোকেরা পৃথিবীতে চলাফেরা করার পথ পাবে, আবার এ অর্থও হয় যে, তারা এই জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, কলাকৌশল, কারিগরি দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনা দেখে মূল সত্যে পৌঁছে যাবার পথ পাবে।
কুরআন মাজীদ একাধিক জায়গায় উল্লেখ করেছে, প্রথমে যখন পৃথিবীকে সৃষ্টি করা হয়, তখন তা দোল খাচ্ছিল। তাই আল্লাহ তাআলা বড় বড় পাহাড়-পর্বত তার উপর স্থাপিত করেন। ফলে পৃথিবী স্থির হয়ে যায়। শত-শত বছর পরে এসে আধুনিক বিজ্ঞানও স্বীকার করছে যে, বড়-বড় মহাদেশ এখনও সাগরের পানিতে মৃদু সঞ্চরণ করছে, কিন্তু সেটা এতই মৃদু যা সাধারণভাবে অনুভব করা যায় না।
৩১. এবং আমরা পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছি সুদৃঢ় পর্বত, যাতে যমীন তাদেরকে নিয়ে এদিক-ওদিক ঢলে না যায়(১) এবং আমরা সেখানে করে দিয়েছি প্রশস্ত পথ, যাতে তারা গন্তব্যস্থলে পৌছতে পারে।
(১) ميد আরবী ভাষায় অস্থির নড়াচড়াকে বলা হয়। আয়াতের অর্থ এই যে, পৃথিবীর বুকে আল্লাহ্ তাআলা পাহাড়সমূহের বোঝা রেখে দিয়েছেন, যাতে পৃথিবীর ভারসাম্য বজায় থাকে এবং পৃথিবী অস্থির নড়াচড়া না করে। (ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর) পৃথিবী নড়াচড়া করলে পৃথিবীর বুকে বসবাসকারীদের অসুবিধা হত। পৃথিবীর ভারসাম্য বজায় রাখার ব্যাপারে পাহাড়সমূহের প্রভাব অপরিসীম।
(৩১) এবং আমি পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছি পর্বতমালা; যাতে পৃথিবী তাদেরকে নিয়ে আন্দোলিত না হয়(1) এবং আমি তাতে(2) করে দিয়েছি প্রশস্ত পথ; যাতে তারা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারে।
(1) অর্থাৎ যদি পৃথিবীতে এত বড় বড় পর্বত না থাকত, তাহলে পৃথিবী সব সময় নড়াচড়া করত। যার কারণে পৃথিবী মানুষ ও জীব-জন্তুর বসবাসের উপযোগী হত না। আমি পর্বতের বোঝা দিয়ে পৃথিবীকে আন্দোলিত হওয়া থেকে বাঁচিয়ে নিয়েছি।
(2) তাতে অর্থাৎ, পৃথিবীতে বা পর্বতমালায়। অর্থাৎ পৃথিবীতে প্রশস্ত পথ বা পর্বতমালার মাঝে উপত্যকা তৈরী করেছি। যাতে এক জায়গা হতে অন্যত্র যাওয়া সহজ হয়। يَهتَدُون এর অন্য এক অর্থ এও হতে পারে যে, ঐ পথ দ্বারা যাতে তারা নিজেদের জীবিকা ও জীবনযাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।