লা- তারকুদূ ওয়ারজি‘উ ইলা-মাউতরিফতুম ফীহি ওয়া মাছা-কিনিকুম লা‘আল্লাকুম তুছআলূন।উচ্চারণ
(বলা হলো) “পালায়ও না, চলে যাও তোমাদের গৃহে ও ভোগ্য সামগ্রীর মধ্যে, যেগুলোর মধ্যে তোমরা আরাম করছিলে, হয়তো তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” ১৪ তাফহীমুল কুরআন
(তাদেরকে বলা হয়েছিল) পালিও না। বরং ফিরে এসো তোমাদের সেই ঘর-বাড়ি ও ভোগ-বিলাসের উপকরণের দিকে, যার মজা তোমরা লুটছিলে। হয়ত তোমাদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে। মুফতী তাকী উসমানী
তাদেরকে বলা হলঃ পলায়ন করনা এবং ফিরে এসো তোমাদের ভোগ সম্ভারের নিকট এবং তোমাদের আবাসগৃহে, হয়তো এ বিষয়ে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হতে পারে।মুজিবুর রহমান
পলায়ন করো না এবং ফিরে এস, যেখানে তোমরা বিলাসিতায় মত্ত ছিলে ও তোমাদের আবাসগৃহে; সম্ভবত; কেউ তোমাদের জিজ্ঞেস করবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এদেরকে বলা হয়েছিল, ‘পলায়ন কর না এবং ফিরে আস তোমাদের ভোগ-সম্ভারের নিকট ও তোমাদের আবাসগৃহে, হয়ত এ বিষয়ে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
(তাদেরকে বলা হল) ‘পলায়ন করো না, বরং তোমাদের ভোগ-বিলাসিতায় এবং ঘরবাড়িতে ফিরে যাও, যেন তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়’।আল-বায়ান
(ফেরেশতারা তাদেরকে ঠাট্টা করে বলেছিল) পালিয়ে যেয়ো না, ফিরে এসো তোমরা যে ভোগ-বিলাসে মত্ত ছিলে তার দিকে আর তোমাদের আবাসগুলোতে, যাতে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায় (‘আযাবের রূপটা কেমন দেখলে?)।তাইসিরুল
পালিও না, বরং ফিরে এসো তাতে যাতে তোমরা বিভোর ছিলে, -- তোমাদের বাসস্থানে যেন তোমাদের সওয়াল করা যেতে পারে।মাওলানা জহুরুল হক
১৪
এটি বড়ই অর্থবহ বাক্য। এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। যেমন একটু ভালোভাবে এ শাস্তিটি প্রত্যক্ষ করো, যাতে কাল যদি কেউ এর অবস্থা জিজ্ঞেস করে তাহলে যেন ভালোভাবে বলতে পারো। নিজের আগের ঠাটবাট বজায় রেখে সাড়ম্বরে আবার মজলিস গরম করো। হয়তো এখনো তোমাদের চাকরেরা বুকে হাত বেঁধে জিজ্ঞেস করবে, হুজুর, বলুন কি হুকুম। নিজের আগের পরিষদ ও কমিটি নিয়ে বসে যাও, হয়তো এখনো তোমার বুদ্ধিবৃত্তিক পরামর্শ ও জ্ঞানপুষ্ট মতামত থেকে লাভবান হবার জন্য দুনিয়ার লোকেরা তৈরী হয়ে আছে।
একথা বলা হয়েছে তাদের প্রতি পরিহাসস্বরূপ। অর্থাৎ তোমরা যখন ভোগ-বিলাসের ভেতর নিমজ্জিত ছিলে, তখন তোমাদের চাকর-বাকর তোমাদের হুকুম জানতে চাইত, কখন কী করতে হবে তা জিজ্ঞেস করত। সুতরাং এখন পালাও কেন, বাড়িতে ফিরে এসো, এসে দেখ তোমাদের চাকর-বাকর এখনও তোমাদের হুকুম জানতে চায় কি না। বস্তুত সেই অবকাশ আর নেই। তোমরা ফিরে আসলে তোমাদের ঘর-বাড়ির কোন চিহ্নই খুঁজে পাবে না। তোমাদের বিলাসিতার উপকরণও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আর কোথায়ই বা সেই চাকর-বাকর, যারা তোমাদের হুকুমের অপেক্ষায় থাকত!
১৩. পালিয়ে যেও না এবং ফিরে এসো যেখানে তোমরা বিলাসিতায় মত্ত ছিলে ও তোমাদের আবাসগৃহে, যাতে এ বিষয়ে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হয়।(১)
(১) অর্থাৎ তোমরা পালিয়ে যেও না। এ কথাটি হয় ফেরেশতারা বলেছিল অথবা মুমিনরা তাদেরকে উপহাস করে তা বলেছিল। (দেখুন, ফাতহুল কাদীর) অর্থাৎ তোমরা নিজের আগের ঠাঁট বজায় রেখে সাড়ম্বরে আবার মজলিস গরম করো। হয়তো এখনো তোমাদের চাকরেরা বুকে হাত বেঁধে জিজ্ঞেস করবে, হুজুর, বলুন কি হুকুম। নিজের আগের পরিষদ ও কমিটি নিয়ে বসে যাও, হয়তো এখনো তোমার বুদ্ধিবৃত্তিক পরামর্শ ও জ্ঞানপুষ্ট মতামত থেকে লাভবান হবার জন্য দুনিয়ার লোকেরা তৈরী হয়ে আছে। কিন্তু এটা আর কখনও সম্ভব নয়, তারা আর সে মজলিসগুলোতে ফিরে যেতে পারবে না। তাদের কর্মকাণ্ড ও অহংকার নিঃশেষ হয়ে গেছে। (সা’দী)
(১৩) (ওদের বলা হয়েছিল,) ‘তোমরা পলায়ন করো না(1) এবং তোমাদের ভোগ-সম্ভারের নিকট ও তোমাদের আবাস গৃহে ফিরে এসো; (2) যাতে এ বিষয়ে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে।’(3)
(1) এটি ফিরিশতাদের আহবান অথবা মু’মিনরা উপহাস ছলে এ কথা বলেছিল।
(2) অর্থাৎ, যে সব সুখ-সুবিধা ও ভোগ-বিলাসের উপকরণ তোমাদেরকে দান করা হয়েছিল এবং যা তোমাদের কুফরী ও সীমালংঘনের কারণ ছিল, আর ঐ সব বাড়ি-ঘর যেখানে তোমরা বসবাস করতে ও যার সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব নিয়ে গর্ব করতে, সে দিকেই ফিরে এস!
(3) আযাবের পর তোমাদের অবস্থা কি, তা তো জিজ্ঞাসা করা হোক? তোমাদের এ অবস্থা কি জন্য ও কেন হল? এ প্রশ্ন উপহাসের জন্য। তাছাড়া ধ্বংসের যাঁতাকলে পিষে ফেলার পর উত্তর দেওয়ার যোগ্যতা কি তাদের কখনও থাকতে পারে?