قَالُوٓاْ إِنۡ هَٰذَٰنِ لَسَٰحِرَٰنِ يُرِيدَانِ أَن يُخۡرِجَاكُم مِّنۡ أَرۡضِكُم بِسِحۡرِهِمَا وَيَذۡهَبَا بِطَرِيقَتِكُمُ ٱلۡمُثۡلَىٰ

ক-লূইন হা-যা-নি লাছা-হির-নি ইউরীদা-নি আইঁ ইউখরিজা-কুমমিনআরদিকুম বিছিহরিহিমা-ওয়া ইয়াযহাবা -বিতারীকাতিকুমুল মুছলা-।উচ্চারণ

শেষ কিছু লোক বললো, ৩৬ “এরা দু’জন তো নিছক যাদুকর, নিজেদের যাদুর জোরে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে উৎখাত করা এবং তোমাদের আদর্শ জীবন যাপন পদ্ধতি ধ্বংস করে দেয়াই এদের উদ্দেশ্য। ৩৭ তাফহীমুল কুরআন

(পরিশেষে) তারা বলল, নিশ্চয়ই এ দু’জন (অর্থাৎ মূসা ও হারূন) যাদুকর। তারা চায় তোমাদেরকে তোমাদের ভূমি থেকে উৎখাত করতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট (ধর্ম) ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাতে।মুফতী তাকী উসমানী

তারা বললঃ এই দু’জন অবশ্যই যাদুকর, তারা চায় তাদের যাদু দ্বারা তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হতে বহিস্কার করতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন ব্যবস্থার অস্তিত্ব বিনাশ করতে।মুজিবুর রহমান

তারা বললঃ এই দুইজন নিশ্চিতই যাদুকর, তারা তাদের যাদু দ্বারা তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিস্কার করতে চায় এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন ব্যবস্থা রহিত করতে চায়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা বলল, ‘এই দু’জন অবশ্যই জাদুকর, তারা চায় তাদের জাদু দিয়ে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হতে বহিষ্কার করতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন-ব্যবস্থা ধ্বংস করতে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা বলল, ‘এ দু’জন অবশ্যই যাদুকর। তারা চায় তাদের যাদুর মাধ্যমে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন পদ্ধতি ধ্বংস করে দিতে’।আল-বায়ান

তারা বলল, ‘এ দু’জন নিশ্চিতই যাদুকর, তারা তাদের যাদুর বলে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায় আর তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন পদ্ধতি মুছে ফেলতে চায়।তাইসিরুল

তারা বলাবলি করলে -- "এ দুজন নিশ্চয়ই তো দুই জাদুকর যারা চাইছে তাদের জাদু দিয়ে তোমাদের দেশ থেকে তোমাদের বিতাড়িত করতে, আর তোমাদের উৎকৃষ্ট আচার-অনুষ্ঠানকে বিনাশ করতে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৬

এ উক্তিকারীরা নিশ্চয়ই হবে ফেরাউনী পার্টির চরমপন্থী গ্রুপ, যারা যে কোন উপায়ে হযরত মূসার বিরোধিতা করতে প্রস্তুত ছিল। মনে হয়, দূরদর্শী, অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ লোকেরা সামনের দিকে এক পা এগিয়ে যেতেও ইতস্তত করছিল। কিন্তু এ চরমপন্থী আবেগ মুখর লোকেরা হয়তো বলেছিলঃ অনর্থক দূরের চিন্তা ত্যাগ করে এবং মন স্থির করে প্রতিযোগিতায় নেমে যাও।

৩৭

অর্থাৎ দু’টি বিষয় ছিল তাদের মূল প্রতিপাদ্য। এক, যদি যাদুকররাও মূসার মতো লাঠিকে সাপ বানিয়ে দেখিয়ে দেয় তাহলে সাধারণ জনসমাবেশে মূসার যাদুকর হওয়া প্রমাণ হয়ে যাবে। দুই, তারা হিংসার আগুন জ্বালিয়ে শাসক শ্রেণীর মনে অন্ধ আবেগ সৃষ্টি করতে চাচ্ছিল। তাদেরকে এই মর্মে ভয় দেখাচ্ছিল যে, মূসার বিজয় দেশের কর্তৃত্ব ক্ষমতা তোমাদের হস্তচ্যুত হওয়া এবং তোমাদের আদর্শ (…...) জীবন যাপন পদ্ধতির অপমৃত্যুর নামান্তর। তারা দেশের প্রভাবশালী শ্রেণীকে ভয় দেখাচ্ছিল এই বলে যে, মূসা যদি মেশের কর্তৃত্ব লাভ করতে পারে তাহলে তোমাদের এ শিল্প, চারুকলা, সুন্দর ও মোহময় সংস্কৃতি এবং তোমাদের নারী স্বাধীনতা (যার চমৎকার নমুনা হযরত ইউসুফের জামানায় মিসরীয় ললনারা পেশ করেছিল) তথা এমন সবকিছু যেগুলো ছাড়া জীবনের সুখ ও আনন্দ উপভোগই করা যায় না, একেবারেই ধ্বংস হয়ে যাবে। এরপর তো শুরু হবে নিছক”কাঠমোল্লাদের” রাজত্ব, যা সহ্য করার চাইতে মরে যাওয়াই ভালো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৬৩. তারা বলল, এ দুজন অবশ্যই জাদুকর, তারা চায় তাদের জাদু দ্বারা তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিস্কার করতে(১) এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন পদ্ধতি ধ্বংস করতে।(২)

(১) উদ্দেশ্য এই যে, এরা দু’জন বড় জাদুকর। জাদুর সাহায্যে তোমাদের রাজ্য অধিকার করতে চায় এবং তোমাদের সর্বোত্তম ধর্মকে মিটিয়ে দিতে চায়। সুতরাং সেটার মোকাবিলায় সর্বশক্তি নিয়োগ কর। (দেখুন, ইবন কাসীর)

(২) অর্থাৎ এরা জাদুকর। তারা সমস্ত জাদুকরদের পরাজিত করে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে চায়। তারা তোমাদের কওমের সর্দার এবং সেরা লোক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে খতম করে দিতে চায়। কাজেই তাদের মোকাবেলায় তোমরা তোমাদের পূর্ণ কলাকৌশল ও শক্তি ব্যয় করে দাও এবং সব জাদুকর সারিবদ্ধ হয়ে এক যোগে তাদের মোকাবেলায় অবতীর্ণ হও। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে আয়াতের অর্থ এই বর্ণিত হয়েছে যে, এরা দু'জন তোমাদের মধ্যকার ভালো লোক যাদেরকে তোমরা কাজে খাটাতে পার এমন লোক অৰ্থাৎ বনী-ইসরাইলদেরকে নিয়ে চলে যেতে চায়। (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬৩) ওরা বলল, ‘এই দুইজন অবশ্যই জাদুকর, তারা তাদের জাদু দ্বারা তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হতে বহিষ্কার করতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন-ব্যবস্থা নস্যাৎ করতে চায়।(1)

(1) مُثلى শব্দটি طَرِيقَة শব্দের বিশেষণ; আর এটি أَمثَل শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ। এর অর্থঃ উৎকৃষ্ট। অর্থ এই যে, যদি এরা দুই ভাই জাদু বলে বিজয়ী হয়ে যায়, তাহলে নেতৃস্থানীয় ও সম্মানিত লোকেরা তাদের দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়বে। আর তাতে আমাদের ক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে যাবে ও তাদের ক্ষমতা লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া আমাদের উৎকৃষ্ট জীবন-ব্যবস্থা বা উত্তম ধর্মমত ও মযহাবকেও নস্যাৎ করে ফেলবে। অর্থাৎ, ফিরআউনীরা তাদের শিরকীয় ধর্মমতকে উত্তম ধর্মমত বলে মনে করত; যেমন বর্তমানে প্রত্যেক বাতিল ধর্মমত ও দলের লোকেরা এই ভুল ধারণাই পোষণ করে থাকে। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন, {كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ}  অর্থাৎ, প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল। (রূমঃ ৩২)