قَالَ لَهُم مُّوسَىٰ وَيۡلَكُمۡ لَا تَفۡتَرُواْ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبٗا فَيُسۡحِتَكُم بِعَذَابٖۖ وَقَدۡ خَابَ مَنِ ٱفۡتَرَىٰ

ক-লা লাহুম মূছা-ওয়াইলাকুম লা-তাফতারূ‘আলাল্লা-হি কাযিবান ফাইউছহিতাকুম বি‘আযা-বিওঁ ওয়া কাদ খা-বা মানিফতার-।উচ্চারণ

মূসা (যথা সময় প্রতিপক্ষ দলকে সম্বোধন করে) বললো, ৩৩ “দুর্ভাগ্যপীড়িতরা! আল্লাহর প্রতি অপবাদ দিয়ো না, ৩৪ অন্যথায় তিনি কঠিন আযাব দিয়ে তোমাদের ধ্বংস করে দেবেন। যে-ই মিথ্যা রটনা করেছে সে-ই ব্যর্থ হয়েছে।” তাফহীমুল কুরআন

মূসা তাদেরকে (অর্থাৎ যাদুকরদেরকে) বলল #%২৫%#, আফসোস তোমাদের প্রতি! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। #%২৬%# তা করলে তিনি তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দ্বারা নির্মূল করে ফেলবেন। আর যে-কেউ মিথ্যা আরোপ করে, সে নিশ্চিতভাবে ব্যর্থকাম হয়।মুফতী তাকী উসমানী

মূসা তাদেরকে বললঃ দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করনা, তা করলে তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দ্বারা সমূলে ধ্বংস করবেন; যে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে সে’ই ব্যর্থ হয়েছে।মুজিবুর রহমান

মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেনঃ দুর্ভাগ্য তোমাদের; তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। তাহলে তিনি তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ধবংস করে দেবেন। যে মিথ্যা উদভাবন করে, সেই বিফল মনোরথ হয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মূসা এদেরকে বলল, ‘দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা আল্লাহ্ র প্রতি মিথ্যা আরোপ কর না। করলে, তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দিয়ে সমূলে ধ্বংস করবেন। যে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে সে-ই ব্যর্থ হয়েছে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা তাদেরকে বলল, ‘তোমাদের দুর্ভাগ্য! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। করলে তিনি আযাব দ্বারা তোমাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি মিথ্যা আরোপ করে, সে-ই ব্যর্থ হয়।আল-বায়ান

মূসা তাদেরকে বলল, ‘হায় তোমাদের দুর্ভাগ্য! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যে আরোপ করো না, করলে তিনি তোমাদেরকে ভয়ানক শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করে দেবেন। যে মিথ্যে আরোপ করে সে-ই ব্যর্থ হয়।’তাইসিরুল

মূসা তাদের বললেন -- "ধিক্ তোমাদের! আল্লাহ্‌র প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না, পাছে তিনি তোমাদের শাস্তি দিয়ে ধ্বংস করেন, আর যে মিথ্যা রচনা করে সে আলবৎ ব্যর্থ হয়।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৩

হযরত মূসার এ সম্বোধন জনগণের প্রতি ছিল না। কারণ হযরত মূসা মু’জিযা দেখাচ্ছেন, না যাদু দেখাচ্ছেন-তখনো পর্যন্ত জনগণ এ ব্যাপারে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। কাজেই এ সম্বোধন ছিল ফেরাউন ও তার সভাসদদের প্রতি। কারণ তারাই তাঁকে যাদুকর গণ্য করছিল।

৩৪

অর্থাৎ এ মু’জিযাকে যাদু এবং এর নবীকে যাদুকর গণ্য করো না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ প্রথমেই তিনি নবীসুলভ দায়িত্বপালনে অবতীর্ণ হলেন। প্রতিযোগিতায় জেতা তো বড় কথা নয়; মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির পথ দেখানোই তার আসল কাজ। সুতরাং প্রথমে তিনি তাদেরকে দাওয়াত দিলেন। কুফর ও মিথ্যাচারের অশুভ পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করলেন, যাতে তারা হিদায়াত গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৬১. মূসা তাদেরকে বলল, দূর্ভোগ তোমাদের! তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করো না। করলে, তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দ্বারা সমূলে ধ্বংস করবেন। আর যে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে সে-ই ব্যর্থ হয়েছে।(১)

(১) মু'জিযা দ্বারা জাদুর মোকাবেলা করার পূর্বে মূসা ‘আলাইহিস সালাম জাদুকরদের কয়েকটি বাক্য বলে আল্লাহর আযাবের ভয় প্রদর্শন করলেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের ধ্বংস অত্যাসন্ন। আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যারোপ করো না। অর্থাৎ তোমরা জাদু দিয়ে কোন কিছু সৃষ্টি করেছ বলে দাবী করবে। অথচ তোমরা সৃষ্টি করতে পার না। এভাবে তোমরা আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করবে। (ইবন কাসীর) অথবা মূসা আলাইহিস সালাম এখানেও দ্বীনের দাওয়াত দিতে ছাড়েননি। তিনি বললেন, তোমরা আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করে তাঁর সাথে ফিরআউন অথবা অন্য কাউকে শরীক করো না। আর মু'জিযাগুলোকে জাদু বলো না। (কুরতুবী)) এরূপ করলে আল্লাহ তোমাদেরকে আযাব দ্বারা পিষ্ট করে দেবেন এবং তোমাদেরকে সমুলে উৎপাটিত করে দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, পরিণামে সে ব্যর্থ ও বঞ্চিত হয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬১) মূসা তাদেরকে বলল, ‘দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না, করলে তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দ্বারা সমূলে ধ্বংস করবেন; আর যে মিথ্যা উদ্ভাবন করবে সে অবশ্যই ব্যর্থ হবে।’ (1)

(1) যখন ফিরআউন রাজসভায় জাদুকরদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উৎসাহিত করছিল এবং তাদেরকে পুরস্কার ও বিশেষ নৈকট্য দানের কথা প্রকাশ করছিল, অনুরূপ মূসা (আঃ)ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার পূর্বে তাদেরকে উপদেশ দিলেন এবং তাদের বর্তমান আচরণের ব্যাপারে আল্লাহর শাস্তির ভয় দেখালেন।