قَالَ عِلۡمُهَا عِندَ رَبِّي فِي كِتَٰبٖۖ لَّا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنسَى

ক-লা ‘ইলমুহা-‘ইনদা রববী ফী কিতা-বিল লা-ইয়াদিল্লুরববী ওয়ালা-ইয়ানছা-।উচ্চারণ

মূসা বললো “সে জ্ঞান আমার রবের কাছে লিপিবদ্ধ অবস্থায় সংরক্ষিত আছে। আমার রব ভুলও করেন না, বিস্মৃতও হন না।” ২৫ তাফহীমুল কুরআন

মূসা বলল, তাদের জ্ঞান আমার প্রতিপালকের কাছে এক কিতাবে সংরক্ষিত আছে। আমার রব্বের কোন বিভ্রান্তি দেখা দেয় না এবং তিনি ভুলেও যান না।মুফতী তাকী উসমানী

মূসা বললঃ এর জ্ঞান আমার রবের নিকট লিপিবদ্ধ রয়েছে; আমার রাব্ব ভুল করেননা এবং বিস্মৃত হননা।মুজিবুর রহমান

মূসা বললেনঃ তাদের খবর আমার পালনকর্তার কাছে লিখিত আছে। আমার পালনকর্তা ভ্রান্ত হন না এং বিস্মৃতও হন না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মূসা বলল, ‘এটার জ্ঞান আমার প্রতিপালকের নিকট কিতাবে রয়েছে, আমার প্রতিপালক ভুল করেন না এবং বিস্মৃতও হন না।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলল, ‘এর জ্ঞান আমার রবের নিকট কিতাবে আছে। আমার রব বিভ্রান্ত হন না এবং ভুলেও যান না’।আল-বায়ান

মূসা বলল, ‘তার জ্ঞান আমার প্রতিপালকের কাছে (রক্ষিত) কিতাবে আছে, আমার প্রতিপালক ভুল করেন না, ভুলেও যান না।’তাইসিরুল

তিনি বললেন -- "তার জ্ঞান আমার প্রভুর কাছে একটি গ্রন্থে রয়েছে, আমার প্রভু ভুল করেন না এবং ভুলেও যান না, --মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৫

এটি হযরত মূসার সে সময় প্রদত্ত একটি অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ জবাব। এ থেকে প্রচার কৌশল সম্পর্কে ভালো শিক্ষা লাভ করা যায়। উপরের বর্ণনা অনুসারে ফেরাউনের উদ্দেশ্য ছিল শ্রোতাদের এবং তাদের মাধ্যমে সমগ্র জাতির মনে বিদ্বেষের আগুন জ্বালানো। যদি হযরত মূসা বলতেন, হাঁ, তারা সবাই মুর্খ ও পথভ্রষ্ট ছিল এবং সবাই জাহান্নামের ইন্ধন হবে, তাহলে এটা সত্য কথনের বিরাট আদর্শ হলেও এ জবাব হযরত মূসার পরিবর্তে ফেরাউনের উদ্দেশ্য সাধনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতো। তাই তিনি পূর্ণ বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা সহকারে এমন জবাব দেন যা ছিল একদিকে যথার্থ সত্য এবং অন্যদিকে ফেরাউনের বিষ দাঁতও উপরে ফেলতে সক্ষম। তিনি বলেন, তারা যাই কিছু ছিল, নিজেদের কাজ করে আল্লাহর কাছে পৌঁছে গেছে। তাদের কার্যাবলী এবং কাজের পেছনে নিহিত অন্তরের ইচ্ছাসমূহ জানার কোন উপায় নেই। কাজেই তাদের ব্যাপারে আমি কোন সিদ্ধান্ত দিই কেমন করে? তাদের সমস্ত রেকর্ড আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত আছে। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ও তার কারণসমূহের খবর আল্লাহই জানেন। কোন জিনিস আল্লাহর দৃষ্টির বাইরে থাকেনি এবং তাঁর স্মৃতি থেকেও কোন জিনিস বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। আল্লাহই জানেন তাদের সাথে কি ব্যবহার করতে হবে। তাদের ভূমিকা কি ছিল এবং তাদের পরিণাম কি হবে, তোমার ও আমার এ কথা চিন্তা করা উচিত নয়। আমাদের চিন্তা করা উচিত। আমাদের ভূমিকা কি এবং আমরা কোন্ ধরনের পরিণামের সম্মুখীন হবো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৫২. মূসা বললেন, এর জ্ঞান আমার রব এর নিকট কিতাবে রয়েছে, আমার রব ভুল করেন না এবং বিস্মৃতও হন না।(১)

(১) এটি মূসার সে সময় প্রদত্ত একটি অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ জবাব। তিনি বলেন, তারা যাই কিছু ছিল, নিজেদের কাজ করে আল্লাহর কাছে পৌঁছে গেছে। তাদের কার্যাবলী এবং কাজের পেছনে নিহিত অন্তরের ইচ্ছাসমূহ জানার কোন উপায় নেই। কাজেই তাদের ব্যাপারে আমি কোন সিদ্ধান্ত দেই কেমন করে? তাদের সমস্ত রেকর্ড আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত আছে। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ও তার কারণসমূহের খবর আল্লাহই জানেন। কোন জিনিস আল্লাহর দৃষ্টির বাইরে থাকেনি এবং তাঁর স্মৃতি থেকেও কোন জিনিস বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। আল্লাহই জানেন তাদের সাথে কি ব্যবহার করতে হবে। ছোট বড় কোন কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নেই। সাধারণত: মানুষের জ্ঞানে দু' ধরণের সমস্যা থাকে। এক. সবকিছু জানা সম্ভব হয় না। দুই. জানার পরে ভুলে যাওয়া। কিন্তু আমার রব এ দুটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। (দেখুন, ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫২) মূসা বলল, ‘এর জ্ঞান আমার প্রতিপালকের নিকট লিপিবদ্ধ আছে; আমার প্রতিপালক বিভ্রান্ত হন না এবং বিস্মৃতও হন না।’(1)

(1) মূসা (আঃ) উত্তরে বলেছিলেন, সে জ্ঞান না আমার আছে, না তোমার। অবশ্য সে জ্ঞান আমার প্রতিপালকের আছে, যা তাঁর নিকট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। আর সেই অনুসারে তিনি তাদেরকে শাস্তি অথবা শান্তি দান করবেন। আল্লাহর জ্ঞান প্রতিটি জিনিসে এমনভাবে পরিব্যাপ্ত আছে যে, তাঁর দৃষ্টি হতে ছোট-বড় কোন জিনিসই লুক্কায়িত নয়; আর না তিনি কিছু বিস্মৃত হন। পক্ষান্তরে সৃষ্টির জ্ঞানে উক্ত দুই প্রকার ত্রুটিই বিদ্যমান। প্রথমতঃ তার জ্ঞান অসম্পূর্ণ; যা সর্বব্যাপী নয়। আর দ্বিতীয়তঃ জ্ঞান লাভের পর তারা ভুলেও যায়। আমার প্রভু উক্ত উভয় শ্রেণীর ত্রুটি হতে পবিত্র। পরবর্তী আয়াতসমূহে প্রভুর আরো কিছু গুণাবলী বর্ণনা করা হচ্ছে।