قَالَ فَمَا بَالُ ٱلۡقُرُونِ ٱلۡأُولَىٰ

ক-লা ফামা-বা-লুল কুরূনিল ঊলা-।উচ্চারণ

ফেরাউন বললো, “আর পূর্ববর্তী বংশধর যারা অতীত হয়ে গেছে তাদের তাহলে কি অবস্থা ছিল?” ২৪ তাফহীমুল কুরআন

ফিরাউন বলল, তাহলে পূর্বে যেসব জাতি গত হয়েছে তাদের অবস্থা কী? #%২৩%#মুফতী তাকী উসমানী

ফির‘আউন বললঃ তাহলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কি?মুজিবুর রহমান

ফেরাউন বললঃ তাহলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কি?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ফির‘আওন বলল, ‘তা হলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কী ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আউন বলল, ‘তাহলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কী’?আল-বায়ান

ফেরাউন বলল, ‘তাহলে আগের যুগের লোকেদের অবস্থা কী?’তাইসিরুল

সে বললে -- "তাহলে পূর্ববর্তী লোকদের অবস্থা কি হবে?"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৪

অর্থাৎ ব্যাপার যদি এটাই হয়ে থাকে যে, যিনি প্রত্যেকটি জিনিসকে আকৃতি দিয়েছেন এবং তাকে দুনিয়ায় কাজ করার পথ বাতলে দিয়েছেন তিনি ছাড়া আর দ্বিতীয় কোন রব নেই, তাহলে এ আমাদের সবার বাপ দাদারা, যারা বংশ পরস্পরায় ভিন্ন প্রভু ও ইলাহর বন্দেগী করে চলে এসেছে তোমাদের দৃষ্টিতে তাদের অবস্থান কোথায় হবে? তারা সবাই কি গোমরাহ ছিল? তারা সবাই কি আযাবের হকদার ছিল? তাদের সবার কি বুদ্ধি ভ্রষ্ট হয়েছিল? এ ছিল ফেরাউনের কাছে হযরত মূসার এ যুক্তির জবাব। হতে পারে সে মূর্খতা ও অজ্ঞতার বশবর্তী হয়ে এ জবাব দিয়েছে। আবার দুষ্টামির কারণও এ জবাব দিতে পারে। তাছাড়া ও উভয় কারণই এ জবাবের পিছনে সক্রিয় থাকতে পারে। অর্থাৎ সে নিজেও এ কথায় রাগান্বিত হয়েছে যে এ ধর্মের কারণে আমাদের সকল বুযর্গ যে পথভ্রষ্ট ছিল তা মেনে নিতে হবে আবার সাথে সাথে নিজের সভাসদ ও সাধারণ মিসরবাসীদের মনে হযরত মূসার দাওয়াতের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সঞ্চার করাও এর উদ্দেশ্য হতে পারে। সত্যপন্থীদের সত্য প্রচারের বিরুদ্ধে এ অস্ত্রটি হামেশা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মুর্খদের কাজে ব্যস্ত রাখার জন্য এটা বড়ই প্রভাবশালী প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে যে সময় কুরআনের এ আয়াতগুলো নাযিল হয় সে সময় মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য সবচাইতে বেশী ও অস্ত্রটিকেই কাজে লাগানো হয়েছিল। তাই হযরত মূসার মোকাবিলায় ফেরাউনের এ ছলনার উল্লেখ যথার্থই ছিল।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এ প্রশ্ন দ্বারা ফির‘আউন বোঝাতে চাচ্ছিল, আমার আগে এমন বহু জাতি গত হয়েছে, যারা তাওহীদে বিশ্বাসী ছিল না, তা সত্ত্বেও তারা যত দিন জীবিত ছিল তাদের উপর কোন আযাব আসেনি। তাওহীদকে অস্বীকার করার কারণে মানুষ যদি আল্লাহর পক্ষ হতে শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যায়, তবে তাদের উপর শাস্তি আসল না কেন? হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক ব্যক্তিকে জানেন এবং কে কি কাজ করে তাও তার ভালোভাবেই জানা আছে। তিনি নিজ হিকমত অনুযায়ী ফায়সালা করেন যারা সত্য অস্বীকার করে তাদের মধ্যে কাকে ইহকালেই শাস্তি দেওয়া হবে এবং কার শাস্তি আখেরাতের জন্য মওকুফ রাখা হবে। যদি কোন কাফের সম্প্রদায় দুনিয়ায় নিরাপদ জীবন কাটিয়ে যায় এবং এখানে কোন শাস্তির সম্মুখীন না হয, তবে তার অর্থ এ নয় যে, সে শাস্তি হতে বেঁচে গেছে এবং আল্লাহ তাআলা তাকে শাস্তি দিতে ভুলে গেছেন (নাউযুবিল্লাহ)। বরং তিনি নিজ হিকমত অনুযায়ী দুনিয়ায় তাকে শাস্তি না দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাকে শাস্তি দিবেন আখেরাতে জাহান্নামের আগুনে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫১. ফিরআউন বলল, তাহলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কী?(১)

(১) অর্থাৎ ব্যাপার যদি এটাই হয়ে থাকে যে, যিনি প্রত্যেকটি জিনিসকে আকৃতি দিয়েছেন এবং তাকে দুনিয়ায় কাজ করার পথ বাতলে দিয়েছেন তিনি ছাড়া আর দ্বিতীয় কোন রব নেই, তাহলে এ আমাদের সবার বাপ দাদারা, যারা বংশ পরস্পরায় ভিন্ন প্ৰভু ও ইলাহর বন্দেগী করে চলে এসেছে তোমাদের দৃষ্টিতে তাদের অবস্থান কোথায় হবে? তারা সবাই কি গোমরাহ ছিল? তারা সবাই কি আযাবের হকদার হয়ে গেছে? এ ছিল ফিরআউনের কাছে মূসার এ যুক্তির জবাব। হতে পারে সে আসলেই তার পূর্বপুরুষদের ব্যাপারে জানতে চেয়েছিল। (ইবন কাসীর)

অথবা ফিরআউন আগের প্রশ্নের উত্তরে হতবাক হয়ে প্রসঙ্গ পাল্টানোর জন্য এ প্রশ্ন করেছিল। (ফাতহুল কাদীর) অথবা সে নিজের সভাসদ ও সাধারণ মিসরবাসীদের মনে মূসার দাওয়াতের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সঞ্চার করাও এর উদ্দেশ্য হতে পারে। সে মূসা আলাইহিস সালামের বিরুদ্ধে লোকদের ক্ষেপিয়ে তুলতে চাচ্ছিল। কারণ, মানুষ তাদের পিতামাতার ব্যাপারে যখন এটা শুনবে যে, তারা জাহান্নামে গেছে, তখন তারা মূসা আলাইহিস সালামের বিরুদ্ধে জোট করতে দ্বিধা করবে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫১) ফিরআউন বলল, ‘তা হলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কি?’ (1)

(1) ফিরআউন কথার মোড় অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য এই প্রশ্নটি করেছিল। অর্থাৎ অতীত কালের লোকেরা যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করেই পৃথিবী হতে বিদায় নিয়েছে, তাদের অবস্থা কি হবে?