ইযতামশীউখতুকা ফাতাকূলুহাল আদুল্লুকুম ‘আলা-মাইঁ ইয়াকফুলুহূ ফারজা‘না-কা ইলাউম্মিকা কাই তাকারর ‘আইনুহা-ওয়ালা-তাহঝানা ওয়াকাতালতা নাফছান ফানাজ্জাইনা-কা মিনাল গাম্মি ওয়া ফাতান্না-কা ফুতূনা- ফালাবিছতা ছিনীনা ফী আহলি মাদইয়ানা ছু ম্মা জি’তা ‘আলা-কাদারিইঁ ইয়া-মূছা-।উচ্চারণ
স্মরণ করো, যখন তোমার বোন চলছিল, তারপর গিয়ে বললো, “আমি কি তোমাদের তার সন্ধান দেবো, যে এ শিশুকে ভালোভাবে লালন করবে?” এভাবে আমি তোমাকে আবার তোমার মায়ের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছি, যাতে তার চোখ শীতল থাকে এবং সে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হয়। এবং (এটাও স্মরণ করো) তুমি একজনকে হত্যা করে ফেলেছিলে, আমি তোমাকে এ ফাঁদ থেকে বের করেছি এবং তোমাকে বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়ে এসেছি, আর তুমি মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে কয়েক বছর অবস্থান করেছিলে। তারপর এখন তুমি ঠিক সময়েই এসে গেছো। হে মূসা! তাফহীমুল কুরআন
সেই সময়ের কথা চিন্তা কর, যখন তোমার বোন ঘর থেকে বের হয়ে চলছে তারপর (ফিরাউনের কর্মচারীদেরকে) বলছে, আমি কি তোমাদেরকে এমন কারো সন্ধান দেব, যে একে লালন-পালন করবে? #%১৬%# এভাবে আমি তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে চিন্তিত না থাকে। তুমি এক ব্যক্তিকে মেরে ফেলেছিলে। #%১৭%# তারপর আমি তোমাকে সে সংকট থেকে উদ্ধার করি। আর আমি তোমাকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করি। #%১৮%# তারপর তুমি কয়েক বছর মাদয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থান করলে। তারপর হে মূসা! এমন এক সময় এখানে আসলে, যা পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ছিল।মুফতী তাকী উসমানী
যখন তোমার বোন এসে বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলে দিব কে এই শিশুর দায়িত্ব নিবে? তখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুঃখ না পায়; এবং তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে; অতঃপর আমি তোমাকে মনঃপীড়া হতে মুক্তি দিই, আমি তোমাকে বহু পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে ছিলে। হে মূসা! এরপরে তুমি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলে।মুজিবুর রহমান
যখন তোমার ভগিনী এসে বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব কে তাকে লালন পালন করবে। অতঃপর আমি তোমাকে তোমার মাতার কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু শীতল হয় এবং দুঃখ না পায়। তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, অতঃপর আমি তোমাকে এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেই; আমি তোমাকে অনেক পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ান বাসীদের মধ্যে অবস্থান করেছিলে; হে মূসা, অতঃপর তুমি নির্ধারিত সময়ে এসেছ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘যখন তোমার ভগ্নী এসে বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলে দিব কে এই শিশুর ভার নিবে?’ তখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুঃখ না পায়; এবং তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে; এরপর আমি তোমাকে মনঃপীড়া হতে মুক্তি দেই, আমি তোমাকে বহু পরীক্ষা করেছি। এরপর তুমি কয়েক বৎসর মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে ছিলে, হে মূসা! এটার পরে তুমি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন তোমার বোন (সিন্দুকের সাথে সাথে) চলছিল। অতঃপর সে গিয়ে বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন একজনের সন্ধান দেব, যে এর দায়িত্বভার নিতে পারবে’? অতঃপর আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম; যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুঃখ না পায়। আর তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে। তখন আমি তোমাকে মানোবেদনা থেকে মুক্তি দিলাম এবং তোমাকে আমি বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থান করেছ। হে মূসা, তারপর নির্ধারিত সময়ে তুমি এসে উপস্থিত হলে’।আল-বায়ান
যখন তোমার বোন গিয়ে বলল, ‘তোমাদেরকে কি বলে দেব কে এই শিশুর তত্ত্বাবধান ও প্রতিপালনের ভার নেবে?’ এভাবে আমি তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনলাম যাতে তার চোখ জুড়ায় আর সে দুঃখ না পায়। আর তুমি এক লোককে হত্যা করেছিলে, অতঃপর আমি তোমাকে মনোবেদনা থেকে মুক্তি দিয়েছি। আমি তোমাকে অনেক পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদ্ইয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থান করলে, এরপর হে মূসা! তুমি নির্ধারিত সময়ে এসে হাযির হয়েছ।তাইসিরুল
"চেয়ে দেখো! তোমার ভগিনী হেটে চলেছিল, তখন সে বললে -- 'আমি কি আপনাদের জন্য দেখিয়ে দেব তাকে যে এর ভার নিতে পারে?" ফলে তোমাকে আমরা ফিরিয়ে দিলাম তোমার মায়ের কাছে যেন তার চোখ জুড়ায় আর সে যেন পরিতাপ না করে। আর তুমি একটি লোককে মেরে ফেলেছিলে, তারপর আমরা তোমাকে মনঃপীড়া থেকে উদ্ধার করেছিলাম, আর আমরা তোমাকে পরীক্ষা করেছিলাম বহু পরীক্ষায়। এরপর তুমি বহু বৎসর অবস্থান করেছিলে মাদিয়ানবাসীদের সঙ্গে, তারপর, হে মূসা, তুমি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসে পৌঁছেছ।মাওলানা জহুরুল হক
ফির‘আউনের স্ত্রী তো শিশুটিকে লালন-পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল তার দুধ পান করানো নিয়ে। কত ধাত্রীই তালাশ করে আনা হল, কিন্তু হযরত মূসা আলাইহিস সালাম কোন ধাত্রীরই দুধ মুখে নিচ্ছিলেন না। হযরত আসিয়া এমন কোন মহিলাকে খুঁজে আনার জন্য দাসীদেরকে পাঠিয়ে দিলেন, যার দুধ তিনি গ্রহণ করতে পারেন। ওদিকে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের মা সন্তানকে নদীতে তো ফেলে দিলেন, কিন্তু এরপর কী হবে সেই চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়লেন। তিনি মূসা আলাইহিস সালামের বোনকে অনুসন্ধানের জন্য পাঠালেন। তিনি খুঁজতে খুঁজতে ফির‘আউনের রাজপ্রাসাদে গিয়ে পৌঁছলেন। সেখানে পৌঁছে দেখেন তারা শিশুটিকে দুধ পান করানো নিয়ে ঝামেলায় পড়ে গেছে। দাসীরা উপযুক্ত ধাত্রীর সন্ধানে ছোটাছুটি করছে। তিনি সুযোগ পেয়ে গেলেন এবং এ দায়িত্ব তার মায়ের উপর ন্যস্ত করার প্রস্তাব দিয়ে দিলেন। তারপর আর দেরি না করে মাকে সেখানে নিয়েও আসলেন। তিনি যখন দুধ পান করানোর ইচ্ছায় শিশুটিকে বুকে নিলেন অমনি সে মহানন্দে দুধ পান করতে লাগল। এভাবে আল্লাহ তাআলা নিজ ওয়াদা অনুযায়ী তাকে পুনরায় মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলেন।
৪০. যখন আপনার বোন চলছিল, অতঃপর সে গিয়ে বলল, আমি কি তোমাদেরকে এমন একজনের সন্ধান দেব যে এ শিশুর দায়িত্বভার নিতে পারবে? অতঃপর আমরা আপনাকে আপনার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুঃখ না পায়; আর আপনি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন; অতঃপর আমরা আপনাকে মনঃকষ্ট থেকে মুক্তি দেই এবং আমরা আপনাকে বহু পরীক্ষা করেছি।(১) হে মূসা! তারপর আপনি কয়েক বছর মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থান করেছিলেন, এর পরে আপনি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলেন।
(১) অর্থাৎ আমরা বার বার আপনাকে পরীক্ষা করেছি। অথবা আপনাকে বার বার পরীক্ষায় ফেলেছি। সম্ভবত: মূসা আলাইহিস সালামের জীবনের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনাপঞ্জীর দিকেই এখানে সামষ্টিকভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে এতদসংক্রান্ত এক বিরাট বর্ণনা কোন কোন হাদীস ও তাফসীর গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। সম্ভবত এর দ্বারা মূসা আলাইহিস সালামের মনকে শক্ত করা উদ্দেশ্য যে, যেভাবে আমরা আপনাকে বিগত সময়ে পরীক্ষা করেছি এবং সমস্ত পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ করেছি, সেভাবে সামনেও সাহায্য করব, সুতরাং আপনার চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। (ফাতহুল কাদীর)
(৪০) যখন তোমার ভগ্নী এসে বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব, কে এই শিশুর লালন-ভার নেবে?’(1) তখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু জুড়ায় এবং সে দুঃখ না পায়। আর তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে; (2) অতঃপর আমি তোমাকে দুশ্চিন্তা হতে মুক্তি দিই এবং আমি তোমাকে বহু পরীক্ষায় ফেলি।(3) অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদ্য়্যানবাসীদের মধ্যে অবস্থান করেছিলে,(4) হে মূসা! এর পরে তুমি নির্ধারিত সময়ে(5) উপস্থিত হলে।
(1) এটা ঐ সময়ের কথা যখন মূসা (আঃ)-এর মা কফিনটি সমুদ্রে ফেলে দিলেন এবং মেয়েকে বললেন, একটু লক্ষ্য রাখো যে, কোথায়, কোন তীরে গিয়ে পৌঁছে এবং ওর সাথে কি আচরণ করা হচ্ছে। আল্লাহর ইচ্ছায় যখন মূসা (আঃ) ফিরআউনের মহলে পৌঁছে গেলেন, তখন তিনি ছিলেন সবেমাত্র দুধ খাওয়ার শিশু। সাথে সাথে স্তন্যদাত্রী মহিলা ও আয়াদেরকে ডাকা হল; কিন্তু মূসা (আঃ) কারো স্তনবৃন্ত মুখে নিলেন না। এদিকে তাঁর বোন সব লক্ষ্য করছিলেন। পরিশেষে বললেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন এক মহিলার কথা বলব, যে তোমাদের এই সমস্যা দূর করে দেবে?’ তারা বলল, ‘বল কে? নিয়ে এসো তাকে।’ তৎক্ষণাৎ তিনি আপন মাকে (যিনি মূসা (আঃ)-এরও মা) ডেকে নিয়ে এলেন। যখন মা সন্তানকে বুকের সাথে জড়িয়ে নিলেন, তখন মূসা আল্লাহর কৌশল ও ইচ্ছায় দুধ পান করতে শুরু করলেন।
(2) এখানে অন্য একটি অনুগ্রহের কথা বলা হচ্ছে। আর তা হল, যখন মূসা (আঃ) ভুলক্রমে এক কিবতীকে এক ঘুসি মারলে সে মারা যায়। যার আলোচনা সূরা কাসাস ১৫নং আয়াতে আসবে।
(3) فُتُون শব্দটি دخول وخروج শব্দ দু’টির মত ক্রিয়ামূল, এর অর্থ ابتَلَينَاكَ ابتِلاَء অর্থাৎ, আমি তোমার খুব পরীক্ষা নিয়েছি। অথবা তা فِتنَة শব্দের বহুবচন। যেমন, حجرة এর বহুবচন حجور ও بدرة এর বহুবচন بدور এসে থাকে। আর এর অর্থ হবে আমি তোমাকে বহুবার পরীক্ষায় ফেলেছি। উদাহরণ স্বরূপ যে বছর ছিল সন্তান হত্যার বছর সেই বছর আমি তোমাকে পাঠিয়েছি (তুমি জন্মগ্রহন করেছ)। তোমার মা তোমাকে সমুদ্রের ঢেউয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। সমস্ত দুধদানকারিণী মহিলাদের দুধ তোমার জন্য নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলাম। তুমি একদিন ফিরআউনের দাড়ি ধরে নেওয়ার কারণে সে তোমাকে হত্যার ইচ্ছা করেছিল। তোমার হাতে একজন কিবতী খুন হয়ে গিয়েছিল ইত্যাদি। কিন্তু সমস্ত পরীক্ষায় আমি তোমাকে সাহায্য ও উত্তীর্ণ করেছি।
(4) একজন কিবতীকে অনিচ্ছাকৃত মারার পর তুমি সেখান হতে বের হয়ে মাদয়্যান চলে গেলে এবং সেখানে কয়েক বছর কাটালে।
(5) তুমি এমন সময়ে এসে উপস্থিত হলে যে সময়টি আমি তোমার সাথে কথা বলার ও তোমাকে নবুঅত দান করার জন্য নির্ধারিত করেছিলাম। অথবা এখানে قَدَر অর্থ বয়স। অর্থাৎ, বয়সের এমন এক পর্যায়ে তুমি এলে, যে বয়স নবুঅতের জন্য উপযুক্ত; আর তা হল চল্লিশ বছর।