ইল্লা-তাযকিরতাল লিমাইঁইয়াখশা-।উচ্চারণ
এ তো একটি স্মারক এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে ভয় করে। ১ তাফহীমুল কুরআন
বরং এটা সেই ব্যক্তির জন্য নসীহত, যে ভয় করে মুফতী তাকী উসমানী
বরং যারা ভয় করে তাদের উপদেশার্থে –মুজিবুর রহমান
কিন্তু তাদেরই উপদেশের জন্য যারা ভয় করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
বরং যে ভয় করে কেবল তার উপদেশার্থে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বরং যে ভয় করে তার জন্য উপদেশ স্বরূপ।আল-বায়ান
বরং তা (নাযিল করেছি) কেবল সতর্কবাণী হিসেবে যে (আল্লাহকে) ভয় করে তার জন্য।তাইসিরুল
যে ভয় করে তাকে স্মরণ করে দেবার জন্যে ছাড়া,মাওলানা জহুরুল হক
১
এ বাক্যটি নিজেই পূর্ববর্তী বাক্যের অর্থের ওপর আলোকপাত করছে। উভয় বাক্য মিলিয়ে পড়লে এ পরিষ্কার অর্থটি বুঝা যায় যে, কুরআন নাযিল করে আমি তোমার দ্বারা এমন কোনো কাজ করাতে চাই না যা তোমার পক্ষে করা অসম্ভব। তোমাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়নি যে, যারা মেনে নিতে চায় না তাদেরকে মানাতেই হবে এবং যাদের অন্তরের দুয়ার ঈমানের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে তাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করাতেই হবে। এটা তো একটা স্মরণ করা ও স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং এটা এজন্য পাঠানো হয়েছে যে, যার মনে আল্লাহর ভয় আছে সে এটা শুনে সজাগ হবে। এখন যদি কিছু লোকের মনে আল্লাহর ভয় একদম না থেকে থাকে এবং তাদের হক ও বাতিলের কোন পরোয়াই না থাকে তাহলে তাদের পেছনে সময় নষ্ট করার কোন প্রয়োজনই তোমার নেই।
নিজ কাজ-কর্ম সঠিক হচ্ছে কি না, এই ভয় ও চিন্তা যার আছে তার জন্যই এ উপদেশ ফলপ্রসূ হবে। কিংবা বলা যায়, যার অন্তরে সত্য জানার আগ্রহ আছে, জেদের বশবর্তীতে স্বেচ্ছাচারিতা প্রদর্শন করে না এবং নিজ পরিণাম সম্পর্কে নিশ্চিন্ত মনে বসে থাকে না, তার মত লোকই এ উপদেশ দ্বারা উপকৃত হয়।
৩. বরং যে ভয় করে তার জন্য উপদেশ হিসেবে,(১)
(১) মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বৰ্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘আল্লাহ্ যার কল্যাণ ইচ্ছা করেন, তাকে দ্বীনের বিশেষ জ্ঞান ও বুৎপত্তি দান করেন।” (বুখারীঃ ৭১, মুসলিমঃ ১০৩৭) কিন্তু এখানে সেসব জ্ঞানীকেই বোঝানো হয়েছে, যাদের মধ্যে কুরআন বর্ণিত ইলমের লক্ষণ অর্থাৎ আল্লাহর ভয় বিদ্যমান আছে। সুতরাং কুরআন নাযিল করে তাকে কষ্টে নিপতিত করা হয়নি। বরং তার জন্য অনেক কল্যাণ চাওয়া হয়েছে। আল্লাহর কিতাব নাযিল হওয়া, তার রাসূলদেরকে প্রেরণ করা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমত। এর মাধ্যমে তিনি যারা আল্লাহকে স্মরণ করতে চায় তাদেরকে স্মরণ করার সুযোগ দেন, কিছু লোক এ কিতাব শুনে উপকৃত হয়। এটা এমন এক স্মরনিকা যাতে তিনি তার হালাল ও হারাম নাযিল করেছেন। (ইবন কাসীর)
(৩) বরং এমন ব্যক্তিকে উপদেশ দেওয়ার জন্য যে (আল্লাহকে) ভয় করে।