মাআনঝালনা-‘আলাইকাল কুরআ-না লিতাশকা।উচ্চারণ
আমি এ কুরআন তোমার প্রতি এজন্য নাযিল করিনি যে, তুমি বিপদে পড়বে। তাফহীমুল কুরআন
আমি তোমার প্রতি কুরআন এজন্য নাযিল করিনি যে, তুমি কষ্ট ভোগ করবে। মুফতী তাকী উসমানী
তোমাকে ক্লেশ দেয়ার জন্য আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিনি।মুজিবুর রহমান
আপনাকে ক্লেশ দেবার জন্য আমি আপনার প্রতি কোরআন অবতীর্ণ করিনি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তুমি ক্লেশ পাবে এজন্যে আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করি নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমি তোমার প্রতি আল-কুরআন এজন্য নাযিল করিনি যে, তুমি দুর্ভোগ পোহাবেআল-বায়ান
তোমাকে ক্লেশ দেয়ার জন্য আমি তোমার প্রতি কুরআন নাযিল করিনি।তাইসিরুল
আমরা তোমার কাছে কুরআন অবতারণ করি নি যে তুমি বিপন্ন বোধ করবে, --মাওলানা জহুরুল হক
এর দু’টো ব্যাখ্যা হতে পারে। (এক) কাফেরদের পক্ষ হতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে জুলুম ও নির্যাতন করা হত, সেই কষ্টের কথা বলা হয়েছে। এ হিসাবে আয়াতের মর্ম হল, এসব কষ্ট বেশি দিন থাকবে না। অচিরেই আল্লাহ তাআলা এ পরিস্থিতির অবসান ঘটাবেন এবং আপনাকে বিজয় দান করবেন। (দুই) কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা জানা যায়, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম দিকে সারা রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করতেন। এমনকি তাতে তাঁর মুবারক পা ফুলে যেত। আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে বলছেন, আপনার এত কষ্ট করার প্রয়োজন নেই। সুতরাং এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর থেকে তিনি রাতের প্রথম অংশে ঘুমাতেন এবং শেষ অংশে ইবাদত করতেন।
২. আপনি কষ্ট-ক্লেশে পতিত হন- এ জন্য আমরা আপনার প্রতি কুরআন নাযিল করিনি;(১)
(১) لِتَشْقَىٰ শব্দটি شقاء থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ ক্লেশ, পরিশ্রম ও কষ্ট। (ফাতহুল কাদীর) অর্থাৎ কুরআন নাযিল করে আমি আপনার দ্বারা এমন কোন কাজ করাতে চাই না যা আপনার পক্ষে করা অসম্ভব। কুরআন নাযিলের সূচনাভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাজ্জুদের সালাতে কুরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকতেন। তিনি পরপর দীর্ঘক্ষণ সালাত আদায়ের জন্য এক পায়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন, পরে অন্য পায়ে ভর দিয়ে সালাত আদায় করতেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পা ফুলে যায়। কাফের মুশরিক কুরাইশরা বলতে থাকে যে, এ কুরআন মুহাম্মাদকে কষ্টে নিপতিত করার জন্যই নাযিল হয়েছে। (ইবন কাসীর)
আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এই উভয়বিধ ক্লেশ থেকে উদ্ধার করার জন্য বলা হয়েছে; আপনাকে কষ্ট ও পরিশ্রমে ফেলার জন্য আমি কুরআন নাযিল করিনি। যারা আখেরাত ও আল্লাহর আযাবকে ভয় করে আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলে তাদের জন্য এ কুরআন উপদেশবাণী। তারাই এর মাধ্যমে হেদায়াত লাভ করতে পারে। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “কাজেই যে আমার শাস্তিকে ভয় করে তাকে উপদেশ দান করুন কুরআনের সাহায্যে।” (সূরা কাফ: ৪৫) আরও এসেছে, “আপনি শুধু তাকেই সতর্ক করতে পারেন যে উপদেশ তথা কুরআনকে মেনে চলে এবং না দেখে দয়াময় আল্লাহকে ভয় করে।” (সূরা ইয়াসীন; ১১) কাতাদাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ আয়াতের অর্থ- আল্লাহর শপথ করে বলছি, তিনি এ কুরআনকে দুর্ভোগা বানানোর জন্য নাযিল করেননি বরং তিনি তা নাযিল করেছেন রহমত, নূর ও জান্নাতের প্রতি পথপ্রদর্শক হিসেবে। (ইবন কাসীর)
(২) তোমাকে কষ্ট দেয়ার জন্য আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিনি।(1)
(1) এর অর্থ আমি কুরআন এই জন্য অবতীর্ণ করিনি যে, তুমি তাদের কুফরী করা ও ঈমান না আনার দুঃখে নিজেকে কষ্টে ফেলবে এবং আফসোস ও দুঃশ্চিন্তা করবে যেমন এই আয়াতে ইঙ্গিত করা হয়েছে,{فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ عَلَى آثَارِهِمْ إِن لَّمْ يُؤْمِنُوا بِهَذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا} অর্থাৎ, তারা এই বাণী বিশ্বাস না করলে তাদের পিছনে পিছনে ঘুরে সম্ভবতঃ তুমি দুঃখে আত্মবিনাশী হয়ে পড়বে। (সূরা কাহ্ফঃ ৬) বরং আমি তো কুরআনকে নসীহত ও স্মারকগ্রন্থ হিসাবে অবতীর্ণ করেছি; যাতে প্রত্যেক মানুষের অন্তরে তওহীদ (একতত্ত্ববাদ)এর যে প্রেরণা সুপ্ত আছে তা জাগ্রত হয়। এখানে شَقَاء এর অর্থঃ কষ্ট ও ক্লান্তি।