وَلَا تَجۡعَلُواْ ٱللَّهَ عُرۡضَةٗ لِّأَيۡمَٰنِكُمۡ أَن تَبَرُّواْ وَتَتَّقُواْ وَتُصۡلِحُواْ بَيۡنَ ٱلنَّاسِۚ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٞ

ওয়ালা-তাজ‘আলুল্লা-হা ‘উরদাতাল লিআইমা-নিকুম আন তাবাররূওয়াতাত্তাকূওয়াতুসলিহু বাইনান্না-ছি ওয়াল্লা-হু ছামী‘উন ‘আলীম।উচ্চারণ

যে শপথের উদ্দেশ্য হয় সৎকাজ, তাকওয়া ও মানব কল্যাণমূলক কাজ থেকে বিরত থাকা, তেমন ধরণের শপথবাক্য উচ্চারণ করার জন্য আল্লাহর নাম ব্যবহার করো না। ২৪৩ আল্লাহ তোমাদের সমস্ত কথা শুনছেন এবং তিনি সবকিছু জানেন। তাফহীমুল কুরআন

এবং তোমরা নিজেদের শপথসমূহে আল্লাহ (-এর নাম) কে পুণ্য ও তাকওয়ার কাজসমূহ থেকে এবং মানুষের মধ্যে আপোস রফা করানো থেকে বিরত থাকার উপলক্ষ বানিও না। #%১৬৪%# আল্লাহ সবকিছু শোনেন, জানেন।মুফতী তাকী উসমানী

এবং মানবমন্ডলীর মধ্যে হিত সাধন, পরহেযগারী ও মীমাংসা করে দেয়ার ক্ষেত্রে তোমরা স্বীয় শপথসমূহের জন্য আল্লাহর নামকে লক্ষ্যবস্তু বানিও না। বস্তুতঃ আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।মুজিবুর রহমান

আর নিজেদের শপথের জন্য আল্লাহর নামকে লক্ষ্যবস্তু বানিও না মানুষের সাথে কোন আচার আচরণ থেকে পরহেযগারী থেকে এবং মানুষের মাঝে মীমাংসা করে দেয়া থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে। আল্লাহ সবকিছুই শুনেন ও জানেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা সৎকাজ, আত্মসংযম ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন হতে বিরত থাকবে-এ শপথের জন্যে আল্লাহ্ র নামকে তোমরা অজুহাত কর না। আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আল্লাহকে তোমরা তোমাদের শপথ পূরণে প্রতিবন্ধক বানিয়ো না যে, তোমরা (আল্লাহর নামে এই বলে শপথ করবে যে) ভালো কাজ করবে না, তাকওয়া অবলম্বন করবে না এবং মানুষের মধ্যে সংশোধন করবে না। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।আল-বায়ান

তোমরা সৎকাজ, তাকওয়া অবলম্বন এবং মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন হতে বিরত থাকবে- আল্লাহর নামে এমন শপথ করে তাকে অজুহাত করে নিও না। বস্তুতঃ আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাতা।তাইসিরুল

আর আল্লাহ্‌কে প্রতিবন্ধক বানিয়ো না তোমাদের শপথের দ্বারা তোমাদের ভালো কাজ করার বেলা ও ভয়ভক্তি দেখাতে, ও লোকদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে। আর আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৪৩

সহীহ হাদীস থেকে জানা যায়,কোন ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম খাওয়ার পর যখন কসম ভেঙে ফেলাই তার জন্য কল্যাণকর বলে সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পারে তখন তার কসম ভেঙে ফেলা এবং তার কাফ্‌ফারা আদায় করা উচিত। কসম ভাঙার কাফ্‌ফারা হচ্ছে, দশজন মিসকিনকে আহার করানো অথবা তাদের ব্স্ত্রদান করা বা একটি দাস মুক্ত করে দেয়া অথবা তিন দিন রোযা রাখা। (সূরা মা-য়েদাহর ৮৯ আয়াত দেখুন)।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অনেক সময় মানুষ সাময়িক উত্তেজনাবশে কসম খেয়ে বসে যে, আমি অমুক কাজ করব না, অথচ সেটি পুণ্যের কাজ। যেমন একবার হযরত মিসতাহ (রাযি.)-এর দ্বারা একটি ভুল কাজ হয়ে গিয়েছিল। ফলে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযি.) কসম করেছিলেন যে, তিনি আর কখনও তাকে আর্থিক সাহায্য করবেন না। এমনিভাবে রূহুল মাআনীতে একটি রিওয়ায়াত উল্লেখ করা হয়েছে যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাযি.) নিজ ভগ্নিপতি সম্পর্কে কসম করেছিলেন, তার সঙ্গে কখনও কথা বলবেন না এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে তার আপোসরফা করিয়ে দেবেন না। আলোচ্য আয়াত এ জাতীয় কসম করতে নিষেধ করছে। কেননা এতে আল্লাহ তাআলার নাম ভুল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সহীহ হাদীসে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কেউ এ রকম অনুচিত কসম করলে তার উচিত কসম ভেঙ্গে ফেলা ও তার কাফফারা দেওয়া।

তাফসীরে জাকারিয়া

২২8. আর তোমরা সৎকাজ এবং তাকওয়া ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন থেকে বিরত থাকার জন্য আল্লাহ্‌র নামের শপথকে অজুহাত করো না। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।(১)

(১) মুমিনদের জন্য কখনো ভাল কাজ না করার ব্যাপারে আল্লাহর নামে শপথ করা উচিত হবে না। কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যখনই কোন কাজের শপথ করি, তারপর তারচেয়ে ভাল কাজ শপথের বিপরীতে দেখতে পাই, তখনি আমি সে শপথ ভেঙ্গে যা ভাল সেটা করি এবং পূর্বকৃত শপথের কাফফারা দেই’। (বুখারীঃ ৩১৩৩, মুসলিমঃ ১৬৪৯)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২২৪) তোমরা সৎকাজ, আত্মসংযম ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন করবে না বলে নিজেদের শপথের জন্য আল্লাহর (নাম)কে লক্ষ্যবস্তু বানায়ো না। (1) আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

(1) অর্থাৎ, রাগে এই ধরনের কসম খেয়ো না যে, আমি অমুকের সাথে সদ্ব্যবহার করব না, অমুকের সাথে কথা বলব না বা অমুকদের মাঝে মীমাংসা করে দেব না। এই ধরনের কসমের ব্যাপারে হাদীসে বলা হয়েছে যে, যদি করে ফেল, তাহলে তা ভঙ্গ করে দাও এবং কসমের কাফফারা আদায় কর। (কসমের কাফফারার জন্য দ্রষ্টব্যঃ সূরা মায়েদার আয়াত নং ৮৯)