نِسَآؤُكُمۡ حَرۡثٞ لَّكُمۡ فَأۡتُواْ حَرۡثَكُمۡ أَنَّىٰ شِئۡتُمۡۖ وَقَدِّمُواْ لِأَنفُسِكُمۡۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّكُم مُّلَٰقُوهُۗ وَبَشِّرِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ

নিছাউকুম হারছুল্লাকুম ফা’তূহারছাকুম আন্না-শি’তুম ওয়া কাদ্দিমূ লিআনফুছিকুম ওয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়া‘লামূ আন্নাকুম মুলা-কূহু ওয়া বাশশিরিল মু’মিনীন।উচ্চারণ

তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের কৃষিক্ষেত। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের কৃষিক্ষেতে যাও। ২৪১ তবে নিজেদের ভবিষ্যতের চিন্তা করো। ২৪২ এবং আল্লাহর অসন্তোষ থেকে দূরে থাকো। একদিন তোমাদের অবশ্যি তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে হবে, একথা ভালোভাবেই জেনে রাখো। আর হে নবী! যারা তোমার বিধান মেনে নেয় তাদেরকে সাফল্য ও সৌভাগ্যের সুখবর শুনিয়ে দাও। তাফহীমুল কুরআন

তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। সুতরাং নিজেদের শস্যক্ষেত্রে যেখান থেকে ইচ্ছা যাও #%১৬৩%# এবং নিজের জন্য (উৎকৃষ্ট কর্ম) সম্মুখে প্রেরণ কর এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো আর জেনে রেখ, তোমরা অবশ্যই তাঁর সঙ্গে মিলিত হবে এবং মুমিনদেরকে সুসংবাদ শোনাও।মুফতী তাকী উসমানী

তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেত্র স্বরূপ; অতএব তোমরা যখন যেভাবে ইচ্ছা স্বীয় জীবনের জন্য ব্যবহার কর এবং নিজেদের আগামী দিনের জন্য ব্যবস্থা কর এবং আল্লাহকে ভয় কর ও জেনে রেখ, একদিন আল্লাহর সাথে সাক্ষাত হবে। আর বিশ্বাসীদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও।মুজিবুর রহমান

তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্থা কর এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার। তোমরা তোমাদের ভবিষ্যতের জন্যে কিছু কর এবং আল্লাহ্কেও ভয় কর। আর জেনে রেখো যে, তোমরা আল্লাহ্ র সম্মুখীন হতে যাচ্ছ আর মু’মিনগণকে সুসংবাদ দাও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের স্ত্রী তোমাদের ফসলক্ষেত্র। সুতরাং তোমরা তোমাদের ফসলক্ষেত্রে গমন কর, যেভাবে চাও। আর তোমরা নিজদের কল্যাণে উত্তম কাজ সামনে পাঠাও। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয় তোমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে । আর মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও।আল-বায়ান

তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র। সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যে প্রকারে ইচ্ছে গমন কর এবং নিজেদের জন্য ভবিষ্যতের বন্দোবস্ত কর এবং আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখ যে, তোমাদেরকে তাঁর কাছে হাজির হতে হবে। আর বিশ্বাসীদেরকে সুসংবাদ শুনিয়ে দাও।তাইসিরুল

তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য এক ক্ষেতখামার। সুতরাং তোমরা যখন-যেমন ইচ্ছে কর তোমাদের ক্ষেতখামারে গমন করো। আর তোমাদের নিজেদের জন্যে অগ্রিম ব্যবস্থা অবলন্বন করো। আর আল্লাহ্‌কে ভয়-ভক্তি করবে, আর জেনে রেখো -- নিশ্চয় তাঁর সঙ্গে তোমাদের মোলাকাত হবে। আর সুসংবাদ দাও মুমিনদের।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৪১

অর্থাৎ আল্লাহ‌ সৃষ্ট প্রাকৃতিক নিয়ম নারীকে পুরুষের বিচরণক্ষেত্র হিসেবে তৈরী করেনি এবং তাদের উভয়ের মধ্যে জমি ও কৃষকের মতো একটা সম্পর্ক রয়েছে। জমিতে কৃষক নিছক বিচরণ ও ভ্রমণ করতে যায় না। জমি থেকে ফসল উৎপাদন করার জন্যই সে সেখানে যায়। মানব বংশধারার কৃষককেও মানবতার এই জমিতে সন্তান উৎপাদন ও বংশধারাকে সুমন্নত রাখার লক্ষ্যেই যেতে হবে। মানুষ এই জমিতে কিভাবে ফসল উৎপাদন করবে সে সম্বন্ধে আল্লাহর শরীয়াতের কোন বক্তব্য নেই। তবে তার দাবী কেবল এতটুকুন যে, তাকে জমিতেই যেতে হবে এবং সেখান থেকে ফসল উৎপাদন করার লক্ষ্যেই যেতে হবে।

২৪২

এখানে ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এর দু’টি অর্থ হয়। দু’টিরই গুরুত্ব সমান। এর একটি অর্থ হচ্ছে, তোমাদের বংশধারা রক্ষা করার চেষ্টা করো। তোমাদের দুনিয়া থেকে বিদায় নেবার আগেই যেন তোমাদের স্থান গ্রহণকারী তৈরী হয়ে যায়। দ্বিতীয় অর্থটি হচ্ছে, যে পরবর্তী বংশধরকে তোমরা নিজেদের স্থলাভিষিক্ত করে যাচ্ছো, তাকে দ্বীন, ঈমান, চরিত্র, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলীতে ভূষিত করার চেষ্টা করো। পরবর্তী বাক্যে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে, এই দু’টি দায়িত্ব পালনে তোমরা যদি স্বেচ্ছায় গাফলতি বা ত্রুটি করো তাহলে আল্লাহর কাছে তোমাদের জবাবদিহি করতে হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা এক তাৎপর্যপূর্ণ রূপকের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর আনন্দঘন মুহূর্ত সম্পর্কে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। প্রথমত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, স্বামী-স্ত্রীর এই মিলন কেবল সুখ ভোগের উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত নয়; বরং একে মানব প্রজন্মের উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যম মনে করা উচিত। একজন কৃষক যেমন নিজ শস্যক্ষেত্রে বীজ বপণ করে এবং তাতে তার উদ্দেশ্য থাকে ফসল ফলানো, তেমনিভাবে এ কাজও মূলত মানব-প্রজন্মকে স্থায়ী করার একটি মাধ্যম। দ্বিতীয়ত জানানো হয়েছে যে, এটাই যখন মিলনের আসল উদ্দেশ্য তখন তা নারী দেহের সেই অংশেই হওয়া উচিত, যা এর জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। পেছনের যে অংশকে এ কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, স্বভাব-প্রকৃতির বিপরীত তাকে বিকৃত যৌনাচারের জন্য ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম। তৃতীয় বিষয় এই জানানো হয়েছে যে, নারীদেহের সামনের যে অংশকে এ কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তা ব্যবহার করার জন্য পন্থা যে-কোনওটাই অবলম্বন করা যেতে পারে। ইয়াহুদীদের ধারণা ছিল, সে অঙ্গকে ব্যবহার করার জন্য কেবল একটা পদ্ধতিই জায়েয অর্থাৎ সম্মুখ দিক থেকে ব্যবহার করা। মিলন যদি সামনের অঙ্গেই হয়, কিন্তু তা করা হয় পেছন দিক থেকে, তবে তাদের মতে তা জায়েয ছিল না। তাদের ধারণা ছিল, তাতে ট্যারা চোখের সন্তান জন্ম নেয়। এ আয়াত তাদের সে ভুল ধারণা খণ্ডন করেছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২২৩. তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছে(১) গমন করতে পার। আর তোমরা নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য কিছু করো(২) এবং আল্লাহ্‌কে ভয় করো। এবং জেনে রেখো, তোমরা অবশ্যই আল্লাহর সম্মুখীন হবে। আর মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিন।

(১) আল্লাহ এখানে স্ত্রীদের সাথে সংগমের কোন নিয়মনীতি বেঁধে দেননি। শুইয়ে, বসিয়ে, কাত করে সব রকমই জায়েয। তবে যৌনাঙ্গ ছাড়া অন্যান্য অঙ্গ যেমন, পায়ূপথ, মুখ ইত্যাদিতে সংগম করা জায়েয নেই। কেননা, তা বিকৃত মানসিকতার ফল। এ ব্যাপারে বিভিন্ন হাদীসে নিষেধ এসেছে।

(২) এখানে ভবিষ্যতের জন্য কিছু কর’ বলতে অনেকের মতেই সন্তান-সন্ততির জন্য প্রচেষ্টা চালানো বুঝানো হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২২৩) তোমাদের স্ত্রী তোমাদের শস্যক্ষেত্র (স্বরূপ)। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে (যেদিক থেকে) ইচ্ছা গমন করতে পার।(1) তোমরা তোমাদের (মুক্তির জন্য) পূর্বেই পাথেয় প্রেরণ কর এবং আল্লাহকে ভয় কর। আর জেনে রাখ যে, নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর সম্মুখীন হবে এবং বিশ্বাসিগণকে সুসংবাদ দাও।

(1) ইয়াহুদীদের ধারণা ছিল যে, যদি মহিলাকে উপুড় করে পিছনের দিক থেকে তার সাথে সঙ্গম করা হয়, তাহলে (সেই সঙ্গমে সন্তান জন্ম নিলে) তার চক্ষু টেরা হয়। এই ধারণার খন্ডনে বলা হচ্ছে যে, সহবাস সামনের দিক থেকে কর অথবা পিছনের দিক থেকে কর, যেভাবে ইচ্ছা কর সবই বৈধ। তবে সর্বক্ষেত্রে অত্যাবশ্যক হল নারীর যোনিপথ ব্যবহার করা। কেউ কেউ এ থেকে প্রমাণ করেন যে, ‘যেভাবে ইচ্ছা’ কথার মধ্যে মলদ্বারও এসে যায়। কাজেই স্ত্রীর মলদ্বার ব্যবহারও বৈধ। কিন্তু এটা একেবারে ভুল কথা। যখন কুরআন মহিলাকে শস্যক্ষেত (সন্তান উৎপাদনের ক্ষেত) সাব্যস্ত করল, তখন এর পরিষ্কার অর্থ হল, কেবল ক্ষেতকে ব্যবহারের জন্য বলা হচ্ছে যে, ‘‘নিজেদের শস্যক্ষেতে যেভাবে ইচ্ছা গমন কর।’’ আর এই ক্ষেত (সন্তান জন্মের স্থান) কেবল যোনিপথ, মলদ্বার নয়। মোটকথা, পায়ুমৈথুন একটি রুচি ও প্রকৃতি-বিরোধী কাজ। (তা ছাড়া হাদীসে আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, স্ত্রীর পায়খানাদ্বারে সঙ্গম করা এক প্রকার কুফরী এবং) যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর মলদ্বার ব্যবহার করে, সে অভিশপ্ত। (ইবনে কাসীর, ফাতহুল ক্বাদীর)