ফাআজাআহাল মাখা-দুইলা-জিয‘ইন নাখলাতি ক-লাত ইয়া-লাইতানী মিত্তু কাবলা হা-যা-ওয়াকুনতুনাছইয়াম মানছিইইয়া-।উচ্চারণ
তারপর প্রসব বেদনা তাকে একটি খেজুর গাছের তলে পৌঁছে দিল। সে বলতে থাকলো, “হায়! যদি আমি এর আগেই মরে যেতাম এবং আমার নাম-নিশানাই না থাকতো।” ১৭ তাফহীমুল কুরআন
তারপর প্রসব-বেদনা তাকে একটি খেজুর গাছের কাছে নিয়ে গেল। সে বলতে লাগল, হায়! আমি যদি এর আগেই মারা যেতাম এবং সম্পূর্ণ বিস্মৃত-বিলুপ্ত হয়ে যেতাম! #%১৩%#মুফতী তাকী উসমানী
প্রসব বেদনা তাকে এক খর্জুর বৃক্ষ তলে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল; সে বললঃ হায়! এর পূর্বে আমি যদি মরে যেতাম এবং লোকের স্মৃতি হতে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হতাম!মুজিবুর রহমান
প্রসব বেদনা তাঁকে এক খেজুর বৃক্ষ-মূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। তিনি বললেনঃ হায়, আমি যদি কোনরূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে, যেতাম!মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
প্রসব-বেদনা তাকে এক খর্জুর-বৃক্ষতলে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। সে বলল, ‘হায়, এটার পূর্বে আমি যদি মরিয়া যেতাম ও লোকের স্মৃতি হতে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হতাম!’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর প্রসব-বেদনা তাকে খেজুর গাছের কান্ডের কাছে নিয়ে এলো। সে বলল, ‘হায়! এর আগেই যদি আমি মরে যেতাম এবং সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হতাম’!আল-বায়ান
সন্তান প্রসবের বেদনা তাকে এক খেজুর বৃক্ষতলের দিকে তাড়িত করল। সে বলে উঠল, ‘হায়! এর আগেই যদি আমি মরে যেতাম আর (মানুষের) স্মৃতি থেকে পুরোপুরি মুছে যেতাম!’তাইসিরুল
তখন প্রসব-বেদনা তাঁকে এক খেজুর গাছের গুড়িতে নিয়ে এল। তিনি বললেন -- "হায় আমার দুর্ভোগ! এর আগে যদি আমি মরেই যেতাম এবং সম্পূর্ণ বিস্মৃতিতে বিস্মৃত হতাম!"মাওলানা জহুরুল হক
১৭
এ শব্দগুলো থেকে হযরত মারয়ামের সে সময়কার পেরেশানীও অনুমান করা যেতে পারে। পরিস্থিতির নাজুকতা সামনে রেখে প্রত্যেক ব্যক্তিই উপলব্ধি করতে পারেন যে, প্রসব বেদনার কষ্টজনিত কারণে তাঁর মুখ থেকে একথাগুলো বের হয়নি বরং আল্লাহ তাঁকে যে ভয়াবহ পরীক্ষার সম্মুখীন করেছেন তাতে কিভাবে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হবেন এই চিন্তায় তিনি পেরেশান হয়ে পড়েছিলেন। গর্ভাবস্থাকে এ পর্যন্ত যে কোনভাবে গোপন করতে সক্ষম হয়েছেন কিন্তু এখন শিশুটিকে কোথায় নিয়ে যাবেন? এ পরবর্তী বাক্যাংশ অর্থাৎ ফেরেশতা বললেন, “দুঃখ করো না।” মারয়ামের বক্তব্য সুস্পষ্ট করে তুলেছে যে তিনি কেন একথা বলেছিলেন। বিবাহিতা মেয়ের প্রথম সন্তান জন্মের সময় সে যতই কষ্ট পাক না কেন তার মনে কখনো দুখ ও বেদনাবোধ জাগে না।
একজন সতী-সাধ্বী কুমারী নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাতে তার উদ্বেগ ও অস্থিরতা কী পরিমাণ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। যদিও সাধারণ অবস্থায় মৃত্যু কামনা করা নিষেধ, কিন্তু কোন দীনী ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিলে এরূপ কামনা দূষনীয় নয়। খুব সম্ভব হযরত মারয়াম আলাইহিস সালাম প্রচণ্ড মানসিক চাপের কারণে সাময়িকভাবে ফিরিশতার দেওয়া সুসংবাদের প্রতি বে-খেয়াল হয়ে পড়েছিলেন এবং সেই অবকাশে হঠাৎ তাঁর মুখ থেকে এ কথাটি বের হয়ে পড়ে।
২৩. অতঃপর প্রসব-বেদনা তাকে এক খেজুর গাছের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। সে বলল, হায়, এর আগে যদি আমি মরে যেতাম(১) এবং মানুষের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে যেতাম!
(১) বিপদের কারণে মৃত্যু কামনা নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমাদের কেউ যেন বিপদে পড়ে অধৈর্য হয়ে মৃত্যু কামনা না করে” (বুখারীঃ ৫৯৮৯, মুসলিমঃ ২৬৮০, ২৬৮১, আবুদাউদঃ ৩১০৮) সম্ভবত: মারইয়াম ধর্মের দিক চিন্তা করে মৃত্যু কামনা করেছিলেন। অর্থাৎ মানুষ দুর্নাম রটাবে এবং সম্ভবতঃ এর মোকাবেলায় আমি ধৈর্যধারণ করতে পারব না, ফলে অধৈর্য হওয়ার গোনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ব। মৃত্যু হলেও গোনাহ থেকে বেঁচে যেতাম, তাই এখানে মৃত্যু কামনা মূল উদ্দেশ্য নয়, গোনাহ থেকে বাঁচাই উদ্দেশ্য। (দেখুন, ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)
(২৩) প্রসব বেদনা তাকে এক খেজুর গাছের তলে নিয়ে এল; সে বলল, ‘হায়! এর পূর্বে যদি আমি মারা যেতাম ও লোকের স্মৃতি হতে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হতাম।’ (1)
(1) মৃত্যু কামনা এই ভয়ে যে, আমি সন্তানের ব্যাপারে লোকেদেরকে কিভাবে সন্দেহমুক্ত করব; যখন তারা আমার কোন কথাই বিশ্বাস করতে চাইবে না। তথা এই চিন্তাও ছিল যে, আমি মানুষের নিকট আবেদা-যাহেদা (ইবাদত কারিণী, সংসার-বিরাগিণী) হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছি। কিন্তু এরপর আমি তাদের চোখে একজন ব্যভিচারিণী হিসাবে গণ্য হব।