يَٰيَحۡيَىٰ خُذِ ٱلۡكِتَٰبَ بِقُوَّةٖۖ وَءَاتَيۡنَٰهُ ٱلۡحُكۡمَ صَبِيّٗا

ইয়া-ইয়াহইয়া-খুযিল কিতা-বা বিকুওয়াতিওঁ ওয়াআ-তাইনা-হুল হুকমা সাবিইইয়া-।উচ্চারণ

“হে ইয়াহইয়া! আল্লাহর কিতাবকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো।” আমি তাকে শৈশবেই “হুকুম” ১০ দান করেছি তাফহীমুল কুরআন

(অতঃপর যখন ইয়াহইয়া জন্মগ্রহণ করল এবং সে বড়ও হয়ে গেল, তখন আমি তাকে বললাম) হে ইয়াহইয়া! (আল্লাহর) কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধর। আমি তাকে তার শৈশবেই জ্ঞানবত্তা দান করেছিলাম মুফতী তাকী উসমানী

আমি বললামঃ হে ইয়াহ্ইয়া! এই কিতাব দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ কর; আমি তাকে শৈশবেই দান করেছিলাম জ্ঞান –মুজিবুর রহমান

হে ইয়াহইয়া দৃঢ়তার সাথে এই গ্রন্থ ধারণ কর। আমি তাকে শৈশবেই বিচারবুদ্ধি দান করেছিলাম।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘হে ইয়াহ্ইয়া! এই কিতাব দৃঢ়তার সঙ্গে গ্রহণ কর।’ আমি তাকে শৈশবেই দান করেছিলাম জ্ঞান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে ইয়াহইয়া, তুমি কিতাবটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধর’। আমি তাকে শৈশবেই প্রজ্ঞা* দান করেছি।আল-বায়ান

(তার পুত্রের কাছে নির্দেশ আসল) ‘হে ইয়াহ্ইয়া! এ কিতাব (তাওরাত) সুদৃঢ়ভাবে ধারণ কর।’ আমি তাকে বাল্য কালেই জ্ঞান দান করেছিলাম।তাইসিরুল

"হে ইয়াহ্‌য়া, ধর্মগ্রন্থ শক্ত ক’রে ধারণ করো।" আর আমরা তাঁকে জ্ঞানদান করেছিলাম শৈশবেই,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

মাঝখানে এই বিস্তারিত তথ্য পরিবেশিত হয়নি যে, আল্লাহর ফরমান অনুযায়ী হযরত ইয়াহিয়ার (আ) জন্ম হয় এবং শৈশব থেকে তিনি যৌবনে পদার্পণ এখন বলা হচ্ছে, যখন তিনি জ্ঞানলাভের নির্দিষ্ট বয়ঃসীমায় পৌঁছেন তখন তাঁর ওপর কি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। এখানে মাত্র একটি বাক্যে নবুওয়াতের মহান মর্যাদায় অভিষিক্ত করার সময় তার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয় তার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি তাওরাতকে সদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবেন এবং বনী ইসরাঈলকে এ পথে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করবেন।

১০

“হুকুম” অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের শক্তি, ইজতিহাদ করার শক্তি, দ্বীনের গভীর তত্বজ্ঞান, জীবন সমস্যার ক্ষেত্রে সঠিক মত প্রকাশের যোগ্যতা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে ফয়সালা দান করার ক্ষমতা।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাঁকে শৈশবেই সমঝদারি, বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং অন্তর্দৃষ্টি দান করেছিলেন, কিতাব ও শরীয়তী জ্ঞানের অধিকারী করেছিলেন এবং ইবাদত-বন্দেগীর রীতি-নীতি ও সেবামূলক কাজের পথ ও পদ্ধতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি দান করেছিলেন। -অনুবাদক, তাফসীরে উসমানীর বরাতে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১২. হে ইয়াহইয়া(১)! আপনি কিতাবটিকে দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ করুন। আর আমরা তাকে শৈশবেই দান করেছিলাম প্ৰজ্ঞা।(২)

(১) মাঝখানে এই বিস্তারিত তথ্য পরিবেশিত হয়নি যে, আল্লাহর ফরমান অনুযায়ী ইয়াহইয়ার জন্ম হয় এবং শৈশব থেকে তিনি যৌবনে পদার্পণ করেন। এখন বলা হচ্ছে, যখন তিনি জ্ঞানলাভের নির্দিষ্ট বয়ঃসীমায় পৌঁছেন তখন তাঁর উপর কি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। এখানে মাত্র একটি বাক্যে নবুওয়াতের মহান মর্যাদায় অভিষিক্ত করার সময় তার উপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয় তার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি তাওরাতকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবেন এবং বনী ইসরাঈলকে এ পথে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করবেন। আর যদি কিতাব বলে কোন সুনির্দিষ্ট সহীফা ও চিঠি সংবলিত গ্ৰন্থ বুঝানো হয়ে থাকে। তবে তাও উদ্দেশ্য হতে পারে। (দেখুন, ইবন কাসীর)

(২) এখানে الحكم শব্দ দ্বারা জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বুঝ, দৃঢ়তা, স্থিরতা, কল্যাণমূলক কাজে অগ্ৰগামিতা এবং অসৎকাজ থেকে বিমুখতা বুঝানো হয়েছে। ছোট বেলা থেকেই তিনি এ সমস্ত গুণের অধিকারী ছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবন মুবারক বলেন, মা’মার বলেনঃ ইয়াহইয়া ইবন যাকারিয়্যাকে কিছু ছোট ছেলে-পুলে বলল যে, চল আমরা খেলতে যাই। তিনি জবাবে বললেনঃ খেল-তামাশা করার জন্য তো আমাদের সৃষ্টি করা হয়নি! (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১২) (আল্লাহ বললেন,) ‘হে য়্যাহয়্যা! এই কিতাব(1) দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ কর’; আমি শৈশবেই তাকে দান করেছিলাম প্রজ্ঞা। (2)

(1) আল্লাহ যাকারিয়া (আঃ)-কে পুত্র য়্যাহয়্যা দান করলেন। আর তিনি যখন একটু বড় হলেন, তখন মহান আল্লাহ কিতাবকে শক্ত করে ধারণ করার; অর্থাৎ তার উপর আমল করার আদেশ করলেন। ‘কিতাব’ বলতে তাওরাতকে বুঝানো হয়েছে। অথবা তাঁকে যে বিশেষ কিতাব দান করা হয়েছিল তা, যা আমাদের অজানা।

(2) حُكم (প্রজ্ঞা)এর অর্থঃ জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক, কিতাবে উল্লিখিত দ্বীন সম্পর্কে পান্ডিত্য, ইলম ও আমলের সমষ্টি অথবা নবুঅত হতে পারে। ইমাম শাওকানী (রঃ) বলেছেন যে, এতে কোন বাধা নেই যে, حكم বলতে উক্ত সকল অর্থই শামিল।