زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُواْ ٱلۡحَيَوٰةُ ٱلدُّنۡيَا وَيَسۡخَرُونَ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْۘ وَٱلَّذِينَ ٱتَّقَوۡاْ فَوۡقَهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۗ وَٱللَّهُ يَرۡزُقُ مَن يَشَآءُ بِغَيۡرِ حِسَابٖ

ঝুইয়িনা লিল্লাযীনা কাফারুল হায়া-তুদ্দুনইয়া-ওয়া ইয়াছখারূনা মিনাল্লাযীনা আ-মানূ। ওয়াল্লাযী নাত্তাকাও ফাওকাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়াল্লা-হু ইয়ারঝুকুমাইঁ ইয়াশাউ বিগাইরি হিছা-ব।উচ্চারণ

যারা কুফরীর পথ অবলম্বন করেছে তাদের জন্য দুনিয়ার জীবন বড়ই প্রিয় ও মনোমুগ্ধকর করে সাজিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ধরনের লোকেরা ঈমানের পথ অবলম্বনকারীদেরকে বিদ্রূপ করে। কিন্তু কিয়ামতের দিন তাকওয়া অবলম্বনকারীরাই তাদের মোকাবিলায় উন্নত মর্যাদার আসীন হবে। আর দুনিয়ার জীবিকার ক্ষেত্রে আল্লাহ‌ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত দান করে থাকেন। তাফহীমুল কুরআন

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের জন্য পার্থিব জীবনকে অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক করে তোলা হয়েছে। তারা মুমিনদেরকে উপহাস করে, অথচ যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে তারা কিয়ামতের দিন তাদের চেয়ে কত উপরে থাকবে। আল্লাহ যাকে চান অপরিমিত রিযক দান করেন। #%১৫৭%#মুফতী তাকী উসমানী

যারা অবিশ্বাস করেছে তাদের পার্থিব জীবন সুশোভিত করা হয়েছে এবং তারা বিশ্বাস স্থাপনকারীদেরকে উপহাস করে থাকে, এবং যারা ধর্মভীরু তাদেরকে উত্থান দিনে সমুন্নত করা হবে; এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন অপরিমিত জীবিকা দান করে থাকেন।মুজিবুর রহমান

পার্থিব জীবনের উপর কাফেরদিগকে উম্মত্ত করে দেয়া হয়েছে। আর তারা ঈমানদারদের প্রতি লক্ষ্য করে হাসাহাসি করে। পক্ষান্তরে যারা পরহেযগার তারা সেই কাফেরদের তুলনায় কেয়ামতের দিন অত্যন্ত উচ্চমর্যাদায় থাকবে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সীমাহীন রুযী দান করেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা কুফরী করে তাদের নিকট পার্থিব জীবন সুশোভিত করা হয়েছে, তারা মু’মিনদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে থাকে। আর যারা তাক্ওয়া অবলম্বন করে কিয়ামতের দিন তারা তাদের ঊর্ধ্বে থাকবে। আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা কুফরী করেছে, দুনিয়ার জীবনকে তাদের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে। আর তারা মুমিনদের নিয়ে উপহাস করে। আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তারা কিয়ামত দিবসে তাদের উপরে থাকবে। আর আল্লাহ যাকে চান, বেহিসাব রিয্ক দান করেন।আল-বায়ান

কাফিরদের নিকট পার্থিব জীবন মোহনীয় করা হয়েছে এবং তারা মুমিনদেরকে বিদ্রূপ করে থাকে, বস্তুতঃ ক্বিয়ামাতের দিন মুত্তাকীগণ তাদের চেয়ে উন্নত অবস্থায় থাকবে, আল্লাহ যাকে ইচ্ছে অপরিমিত রিযক দিয়ে থাকেন।তাইসিরুল

যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের কাছে এই দুনিয়ার জীবন মনোরম ঠেকে, আর তারা মস্করা করে যারা ঈমান এনেছে তাদের। আর যারা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করে তারা কিয়ামতের দিন ওদের উপরে থাকবে। আর আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছে করেন বে-হিসাব রিযেক দান করেন।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এ বাক্যটি মূলত কাফিরদের একটা মিথ্যা দাবীর জবাব। তারা বলত, আল্লাহ তাআলা যেহেতু আমাদেরকে প্রচুর অর্থ-সম্পদ দিচ্ছেন তাই এটা প্রমাণ করে, তিনি আমাদের বিশ্বাস ও কর্মের উপর অসন্তুষ্ট নন। জবাব দেওয়া হয়েছে এই যে, দুনিয়ায় অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্য কারও সত্যপন্থী হওয়ার প্রমাণ বহন করে না। পার্থিব রিযিকের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে আলাদা নিয়ম-নীতি স্থিরীকৃত রয়েছে। এখানে আল্লাহ তাআলা যাকে চান অপরিমিত অর্থ-সম্পদ দিয়ে দেন, তাতে হোক না সে ঘোরতর কাফির।

তাফসীরে জাকারিয়া

২১২. যারা কুফরী করে তাদের জন্য দুনিয়ার জীবন সুশোভিত করা হয়েছে এবং তারা মুমিনদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে থাকে। আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করে কেয়ামতের দিন তারা তাদের উর্ধ্বে থাকবে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে অপরিমিত রিযিক দান করেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২১২) সত্য প্রত্যাখ্যানকারী (কাফের)দের জন্য পার্থিব জীবন সুশোভিত করা হয়েছে। তারা বিশ্বাসী (মুমিন)গণকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে থাকে।(1) অথচ যারা ধর্মভীরু তারা শেষ বিচারের দিন তারা তাদের ঊর্ধ্বে (বেহেশ্তে) থাকবে । আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা (ইহ-পরকালে) অশেষ জীবিকা দান করে থাকেন।(2)

(1) যেহেতু বেশীরভাগ মুসলিমরা দরিদ্র ছিল, পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। তাই কাফেররা অর্থাৎ, মক্কার কুরাইশরা তাদেরকে নিয়ে উপহাস করত। যেমন, প্রত্যেক যুগের বিত্তশালীদের চিরাচরিত এই একই রীতি।

(2) ঈমানদারদের দরিদ্রতাময় এবং বিলাসবিহীন জীবনের কারণে কাফেররা যে তাদের নিয়ে উপহাস ও বিদ্রূপ করত, সে কথা উল্লেখ করে বলা হচ্ছে যে, কিয়ামতের দিন এই দরিদ্র মানুষগুলো তাদের আল্লাহভীরুতার গুণে শীর্ষস্থান লাভ করবে। ‘অশেষ জীবিকা’র সম্পর্ক আখেরাত ও দুনিয়া দুটোরই সাথে হতে পারে। কেননা, কয়েক বছরের মধ্যেই মহান আল্লাহ এই দরিদ্র লোকদের জন্য দেশ বিজয়ের দরজা খুলে দিয়েছিলেন, যার ফলে পার্থিব ভোগসামগ্রী ও রুযীর প্রাচুর্য নেমে এসেছিল তাদের জীবনে।