ওয়া ‘আলাল্লাযীনা হা-দূহাররমনা-মা-কাসাসনা-‘আলাইকা মিন কাবলু ওয়ামাজালামনা-হুম ওয়ালা-কিন ক-নূআনফুছাহুম ইয়জলিমূন।উচ্চারণ
ইতিপূর্বে ১১৭ আমি তোমাকে যেসব জিনিসের কথা বলেছি সেগুলো আমি বিশেষ করে ইহুদীদের জন্য হারাম করেছিলাম। ১১৮ আর এটা তাদের প্রতি আমার জুলুম ছিল না বরং তাদের নিজেদেরই জুলুম ছিল, যা তারা নিজেদের ওপর করছিল। তাফহীমুল কুরআন
ইয়াহুদীদের জন্য আমি হারাম করেছিলাম সেই সব জিনিস, যা আমি পূর্বেই তোমার নিকট উল্লেখ করেছি। #%৬২%# আমি তাদের উপর কোন জুলুম করিনি; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করছিল।মুফতী তাকী উসমানী
ইয়াহুদীদের জন্য আমি শুধু তা’ই নির্ধারণ করেছিলাম যা তোমার নিকট আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি এবং আমি তাদের উপর কোন যুলম করিনি, কিন্তু তারাই যুলম করত তাদের নিজেদের প্রতি।মুজিবুর রহমান
ইহুদীদের জন্যে আমি তো কেবল তাই হারাম করেছিলাম যা ইতিপূর্বে আপনার নিকট উল্লেখ করেছি। আমি তাদের প্রতি কোন জুলুম করিনি, কিন্তু তারাই নিজেদের উপর জুলুম করত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
ইয়াহূদীদের জন্যে আমি তো কেবল তাই হারাম করেছিলাম যা তোমার নিকট আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি এবং আমি এদের ওপর কোন জুলুম করি নাই, কিন্তু এরাই জুলুম করত নিজেদের প্রতি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যারা ইহূদী হয়েছে, তাদের উপরও আমি তাই হারাম করেছি, যা আমি তোমার কাছে ইতঃপূর্বে বর্ণনা করেছি এবং আমি তাদের উপর যুলম করিনি; বরং তারাই তাদের নিজদের উপর যুলম করত।আল-বায়ান
আর যারা ইয়াহূদী হয়েছিল আমি তাদের প্রতি হারাম করেছিলাম যা আমি তোমার কাছে পূর্বেই উল্লেখ করেছি। আমি তাদের উপর কোন যুলম করিনি, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলম করত।তাইসিরুল
আর যারা ইহুদী মত পোষণ করে তাদের জন্য যা আমরা অবৈধ করেছিলাম তা ইতিপূর্বে তোমার কাছে আমরা বর্ণনা করেছি, আর তাদের প্রতি আমরা কোনো অন্যায় করি নি, বরং তারা তাদের নিজেদের প্রতিই অন্যায় করছিল।মাওলানা জহুরুল হক
১১৭
ওপরে উল্লেখিত হুকুমের বিরুদ্ধে যেসব আপত্তি উত্থাপন করা হচ্ছিল তার জবাবে এ আয়াতগুলো নাযিল হয়েছে। মক্কার কাফেরদের প্রথম আপত্তি ছিলঃ তুমি যেসব জিনিস হালাল করে রেখেছো বনী ইসরাঈলদের শরীয়াতে তো তেমনি ধরনের আরো বহু জিনিস হারাম হয়ে আছে। যদি ঐ শরীয়াতটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত হয়ে থাকে তাহলে তুমি নিজেই তার বিরুদ্ধাচরণ করছো। যদি ঐ শরীয়াতটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত হয়ে থাকে এবং তোমার শরীয়াত ও আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় তাহলে উভয়ের মধ্যে এ বিরোধ কেন? দ্বিতীয় আপত্তিটি ছিলঃ বনী ইসরাঈলের শরীয়াতে শনিবারের সমস্ত দুনিয়াবী কাজ কারবার হারাম হবার যে আইনটি ছিল তাকেও তুমি উড়িয়ে দিয়েছো। এটা কি তোমার স্বেচ্ছাকৃত কাজ, না আল্লাহ নিজেই তাঁর দু’টি শরীয়াত দু’ধরনের পরস্পর বিরোধী হুকুম রেখেছেন?
১১৮
এখানে সূরা “আন ’আম”--এর ১৪৬ আয়াতঃ
وَعَلَى الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا كُلَّ ذِي ظُفُرٍ الايه
---এর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ আয়াতে ইহুদীদের নাফরমানির কারণে বিশেষ করে কোন্ কোন্ জিনিস তাদের জন্য হারাম করা হয়েছিল তা বলা হয়েছে।
এখানে একটি প্রশ্ন দেখা দেয়। সূরা নাহলের এ আয়াতে সূরা আন’আমের একটি আয়াতের বরাত দেয়া হয়েছে। এ থেকে জানা যায়, সুরা আন’আম এ সূরার আগে নাযিল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সূরা আন’আমে এক জায়গায় বলা হয়েছে।
وَمَا لَكُمْ أَلَّا تَأْكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَقَدْ فَصَّلَ لَكُمْ مَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ (ايت : 119)
এখানে সূরা নাহলের দিকে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। কারণ মক্কী সূরাগুলোর মধ্যে আন’আম ছাড়া এই একটি মাত্র সূরাতেই হারাম জিনিসগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন দেখা দেয়, এর মধ্যে কোন্ সূরাটি আগে নাযিল হয়েছিল এবং কোনটি পরে? আমাদের মতে এর সঠিক জবাব হচ্ছে এই যে, প্রথমে নাযিল হয়েছিল সূরা নাহ্ল। সূরা আন’আমের উপরোল্লিখিত আয়াতে এরই বরাত দেয়া হয়েছে। পরে কোন এক সময় মক্কার কাফেররা সূরা নাহলের এ আয়াতগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের ইতিপূর্বে বর্ণিত আপত্তিগুলো উত্থাপন করে। সে সময় সূরা আন’আম নাযিল হয়ে গিয়েছিল। তাই তাদেরকে জবাব দেয়া হয়েছে, আমরা পূর্বেই অর্থাৎ সূরা আন’আমে বলে এসেছি যে, ইহুদীদের জন্য কয়েকটি জিনিস বিশেষভাবে হারাম করা হয়েছিল। আর যেহেতু এ আপত্তি সূরা নাহলের বিরুদ্ধে করা হয়েছিল তাই এর জবাবও সূরা নাহলেই প্রাসঙ্গিক বাক্য হিসেবে সংযোজিত হয়েছে।
বলা উদ্দেশ্য, মক্কার কাফেরগণ নিজেদেরকে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের অনুসারী বলে দাবী করত, অথচ তারা যেসব হালাল জিনিসকে হারাম সাব্যস্ত করেছিল, তা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সময় থেকেই হালালরূপে চলে আসছিল। তার মধ্যে কেবল গুটি কয়েক জিনিস ইয়াহুদীদের প্রতি শাস্তিস্বরূপ হারাম করা হয়েছিল। যেমন সূরা নিসায় (৪ : ১৬০) গত হয়েছে। বাকি সবই তখন থেকে হালাল হিসেবেই চলে আসছে।
১১৮. আর যারা ইয়াহুদী হয়েছে আমরা তো শুধু তা-ই হারাম করেছি (তাদের উপর) যা আপনার কাছে আমরা আগে উল্লেখ করেছি।(১) আর আমরা তাদের উপর কোন যুলুম করিনি, কিন্তু তারাই যুলুম করত নিজেদের প্রতি।
(১) তাদের উপর যা হারাম করা হয়েছে তা সূরা আল-আন'আমে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এসবকিছুই তাদের যুলুমের কারণে। (দেখুনঃ সূরা আল-আনআমঃ ১৪৬, সূরা আন-নিসাঃ ১৬০) আল্লাহ তাদের উপর কোন যুলুম করেন নি।
(১১৮) ইয়াহুদীদের জন্য আমি তো শুধু তাই নিষিদ্ধ করেছিলাম, যা তোমার নিকট আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি(1) এবং আমি তাদের উপর কোন যুলুম করিনি; বরং তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করত।
(1) সূরা আনআম ১৪৬নং আয়াতের টীকা দেখুন। সুরা নিসার ১৬০নং আয়াতের টীকায়ও এর বর্ণনা রয়েছে।