وَمَآ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ إِلَّا رِجَالٗا نُّوحِيٓ إِلَيۡهِمۡۖ فَسۡـَٔلُوٓاْ أَهۡلَ ٱلذِّكۡرِ إِن كُنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ

ওয়ামা আরছালনা- মিন কাবলিকা ইল্লা- রিজা-লান নূহী ইলাইহিম ফাছআলূ আহলাযযিকরি ইন কুনতুম লা-তা‘লামূন।উচ্চারণ

হে মুহাম্মাদ! তোমার আগে আমি যখনই রসূল পাঠিয়েছি, মানুষই পাঠিয়েছি, যাদের কাছে আমি নিজের অহী প্রেরণ করতাম। ৩৮ যদি তোমরা নিজেরা না জেনে থাকো তাহলে বাণীওয়ালাদেরকে জিজ্ঞেস করো। ৩৯ তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী!) তোমার পূর্বেও আমি অন্য কাউকে নয়, কেবল পুরুষ মানুষকেই রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছিলাম, যাদের প্রতি আমি ওহী নাযিল করতাম। #%২৪%# (হে অবিশ্বাসীগণ!) যদি এ বিষয়ে তোমাদের জানা না থাকে, তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করে নাও। #%২৫%#মুফতী তাকী উসমানী

তোমার পূর্বে আমি অহীসহ (পুরুষ) মানুষই প্রেরণ করেছিলাম, তোমরা যদি না জান তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর।মুজিবুর রহমান

আপনার পূর্বেও আমি প্রত্যাদেশসহ মানবকেই তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে;মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমার পূর্বে আমি ওহীসহ পুরুষই প্রেরণ করেছিলাম, তোমরা যদি না জান তবে জ্ঞানীগণকে জিজ্ঞাসা কর- ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি তোমার পূর্বে কেবল পুরুষদেরকেই রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি, যাদের প্রতি আমি ওহী পাঠিয়েছি। সুতরাং জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর, যদি তোমরা না জানো।আল-বায়ান

আমি তোমার পূর্বে পুরুষ মানুষ ব্যতীত পাঠাইনি যাদের কাছে আমি ওয়াহী করতাম। তোমরা যদি না জান তাহলে তোমরা আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে যারা অবগত তাদেরকে জিজ্ঞেস করতাইসিরুল

আর তোমার আগে আমরা মানুষদের ছাড়া অন্য কাউকে পাঠাই নি যাদের কাছে আমরা প্রত্যাদেশ দিয়েছিলাম, অতএব তোমরা স্মরণীয় গ্রন্থপ্রাপ্তদের জিজ্ঞেস কর যদি তোমরা জানো না, --মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৮

এখানে মক্কার মুশরিকদের একটি আপত্তি উদ্ধৃত না করেই তার জবাব দেয়া হচ্ছে। এ আপত্তিটি ইতিপূর্বে সকল নবীর বিরুদ্ধে উত্থাপন করা হয়েছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমকালীনরাও তাঁর কাছে বারবার এ আপত্তি জানিয়েছিল। এ আপত্তি ছিল এই যে, আপনি আমাদের মতই একজন মানুষ, তাহলে আল্লাহ আপনাকে নবী করে পাঠিয়েছেন আমরা একথা কেমন করে মেনে নেবো?

৩৯

“বাণী ওয়ালা” অর্থাৎ আহলি কিতাবদের আলেম সমাজ এবং আরো এমন সব লোক যারা নাম-করা আলেম না হলেও মোটামুটি আসমানী কিতাবসমূহের শিক্ষা এবং পূর্ববর্তী নবীগণের জীবন বৃত্তান্ত জানেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর দ্বারা আম-সাধারণকে উলামার শরণাপন্ন হওয়ার তালিম দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শরীআতের কোন বিষয় যার জানা না থাকবে সে আন্দাজ-অনুমান ও নিজ যুক্তি বুদ্ধির পিছনে না পড়ে উলামাদের কাছ থেকে সমাধান জেনে নেবে। এর দ্বারা ইমামগণের তাকলীদ করার জরুরতও প্রমাণিত হয়। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৩. আর আপনার আগে আমরা ওহীসহ কেবল পুরুষদেরকেই(১) পাঠিয়েছিলাম(২), সুতরাং তোমরা জ্ঞানীদেরকে(৩) জিজ্ঞেস কর যদি না জান,

(১) এ আয়াত থেকে আকীদার একটি বিরাট মূলনীতি প্রমাণিত হচ্ছে যে, আল্লাহ্ তাআলা নবী-রাসূল হিসেবে একমাত্র পুরুষদেরকেই বাছাই করেছেন। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনের তিনটি স্থানে সরাসরি এ ঘোষণা দিয়েছেন, (সূরা ইউসুফঃ ১০৯, সূরা আন-নাহলঃ ৪৩, সূরা আল-আম্বিয়াঃ ৭) সুতরাং কোন মহিলাকে আল্লাহ্ তাআলা নবী-রাসূল করে পাঠাননি। কারণ নবুওয়ত ও রিসালাতের গুরুদায়িত্ব কেবলমাত্র পুরুষরাই বহন করতে পারে।

(২) এখানে মক্কার মুশরিকদের একটি আপত্তি উদ্ধৃত না করেই তার জবাব দেয়া হচ্ছে। এ আপত্তিটি ইতোপূর্বে সকল নবীর বিরুদ্ধে উত্থাপন করা হয়েছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমকালীনরাও তাঁর কাছে বারবার এ আপত্তি জানিয়েছিল। এ আপত্তিটি ছিল এই যে, আপনি আমাদের মতই একজন মানুষ, তাহলে আল্লাহ আপনাকে নবী করে পাঠিয়েছেন আমরা একথা কেমন করে মেনে নেবো? আল্লাহ তা'আলা তাদের এ আপত্তি ও তার উত্তর এ আয়াত সহ কুরআনের বিভিন্ন স্থানে দিয়েছেন। (দেখুনঃ সূরা ইউনুসঃ ২, সূরা ইউসুফঃ ১০৯, সুরা আল-হিজরঃ ৯, সূরা আল-ইসরাঃ ৯৩–৯৫, সূরা আল-ফুরকানঃ ২০, সূরা আল-আম্বিয়াঃ ৮, সূরা আল-আহকাফঃ ৯, সূরা আল কাহফঃ ১১০)

(৩) অর্থাৎ জ্ঞানী সম্প্রদায়, আহলি কিতাবদের আলেম সমাজ এবং আরো এমন সব লোক যারা নাম-করা আলেম না হলেও মোটামুটি আসমানী কিতাবসমূহের শিক্ষা এবং পূর্ববতী নবীগণের জীবন বৃত্তান্ত জানেন। কুরআনের অন্য আয়াতেও এ নির্দেশটি ঘোষিত হয়েছে। যেমন, “আপনার আগে আমরা ওহীসহ পুরুষদেরকেই পাঠিয়েছিলাম; সুতরাং যদি তোমরা না জান তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর।” (সূরা আল-আম্বিয়া: ৭)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৩) তোমার পূর্বে পুরুষদেরকেই আমি (রসূলরূপে) প্রেরণ করেছি; যাদের নিকট আমি অহী পাঠাতাম। তোমরা যদি না জান, তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর; (1)

(1) أهل الذكر (জ্ঞানী) বলতে আহলে কিতাবদের বুঝানো হয়েছে, যারা পূর্ববর্তী আম্বিয়া ও তাঁদের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত ছিল। উদ্দেশ্য হল, আমি যত রসূল পাঠিয়েছি, তারা সকলেই মানুষ ছিল। অতএব যদি মুহাম্মাদও মানুষ হয়, তাহলে এটা কোন নতুন কথা নয় যে, তোমরা তার মানুষ হওয়ার কারণে তার রিসালতকেই অস্বীকার করবে। যদি তোমাদের সন্দেহ হয়, তাহলে আহলে কিতাবদের জিজ্ঞাসা কর যে, পূর্ববর্তী নবীগণ মানুষ ছিল, না ফিরিশতা? যদি তারা ফিরিশতা ছিল, তাহলে অবশ্যই অস্বীকার করো। আর যদি তারাও সকলে মানুষ ছিল, তাহলে মুহাম্মদের মানুষ হওয়ার কারণে তার রিসালাতকে অস্বীকার কেন?