أَمۡوَٰتٌ غَيۡرُ أَحۡيَآءٖۖ وَمَا يَشۡعُرُونَ أَيَّانَ يُبۡعَثُونَ

আমওয়া-তুন গাইরু আহইয়াইওঁ ওয়ামা-ইয়াশ‘উরূনা আইইয়া-না ইউব‘আছূন।উচ্চারণ

তারা মৃত, জীবিত নয় এবং তারা কিছুই জানেনা তাদেরকে কবে (পুনর্বার জীবিত করে) উঠানো হবে। ১৯ তাফহীমুল কুরআন

তারা নিষ্প্রাণ। তাদের ভেতর জীবন নেই। তাদেরকে কখন জীবিত করে উঠানো হবে সে বিষয়েও তাদের কোন চেতনা নেই। #%১৩%#মুফতী তাকী উসমানী

তারা নিস্প্রাণ নির্জীব এবং পুনরুত্থান কবে হবে সে বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই।মুজিবুর রহমান

তারা মৃত-প্রাণহীন এবং কবে পুনরুত্থিত হবে, জানে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা নি®প্রাণ, নির্জীব এবং কখন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে সে বিষয়ে তাদের কোন চেতনা নেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

(তারা) মৃত, জীবিত নয় এবং তারা জানে না কখন তাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।আল-বায়ান

তারা প্রাণহীন, জীবিত নয়, তাদের কোনই চেতনা নেই কবে তাদেরকে (পুনর্জীবিত করে) উঠানো হবে।তাইসিরুল

তারা মৃত, জীবন্ত নয়, আর তারা জানে না কখন তাদের পুনরুত্থিত করা হবে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৯

এ শব্দগুলো পরিষ্কার একথা ঘোষণা করছে যে, এখানে বিশেষভাবে যেসব বানোয়াট মাবুদদের প্রতিবাদ করা হচ্ছে তারা ফেরেশতা, জিন, শয়তান বা কাঠ-পাথরের মূর্তি নয় বরং তারা হচ্ছে কবরবাসী। কারণ ফেরেশতা ও শয়তানরা তো জীবিত আছে তাদের প্রতি أَمْوَاتٌ غَيْرُ أَحْيَاءٍ (জীবিত নয় মৃত) শব্দাবলী প্রযোজ্য হতে পারে না। আর কাঠ-পাথর মূর্তির ক্ষেত্রে তো মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের কোন প্রশ্নই ওঠে না। কাজেই وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ(তারা জানে না তাদের কবে পুনরুজ্জীবিত করা হবে) ধরনের শব্দাবলীর ব্যবহার তাদেরকেও আলোচনার বাইরে রেখে দেয়। এখন এ আয়াতে وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ (আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য যেসব সত্তাকে লোকেরা ডাকে) এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে নবী, আউলিয়া, শহীদ, সৎ ব্যক্তিবর্গ ও অন্যান্য অসাধারণ লোকদের কথাই বলা হয়েছে। অতি ভক্তের দল এসব সত্তাকে সংকট নিরসনকারী, অভিযোগের প্রতিকারকারী, দরিদ্রের সহায়, ধনদাতা এবং নাজানি আরো কত কিছু মনে করে নিজেদের প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য ডাকতে থাকে। এর জবাবে যদি কেউ বলে আরবে এ ধরনের মাবুদ বা দেব-দেবী পাওয়া যেতো না তহলে আমি বলবো এটা তার আরবীয় জাহেলিয়াতের ইতিহাস না জানার প্রমাণ। লেখাপড়া জানা লোকদের কে-ইবা একথা জানে না যে, বারী’আহ, কালব, তাগলাব, কুদা’আহ, কিনানাহ, হারস, কা’ব, কিনদাহ ইত্যাদি বহু আরব গোত্রে বিপুল সংখ্যক খৃস্টান ও ইহুদী ছিল। আর এ দু’টি ধর্মের লোকেরা ব্যাপকভাবে নবী, আউলিয়া ও শহীদদের পূজা করতো। তাছাড়া মৃত লোকরাই ছিল আরব মুশরিকদের অধিকাংশের না হলেও বহু লোকের উপাস্য। পরবর্তী প্রজন্ম পূর্ববর্তী মৃত লোকদেরকে নিজেদের খোদা বানিয়ে নিয়েছিল। ইমাম বুখারী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের (রা.) একটি হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। তাতে বলা হয়েছেঃ ওয়াদ্দা, সুওয়া, ইয়াগূস, ইয়াউক, নাসর--- এগুলো ছিল পূর্বকালের সৎ লোকদের নাম। পরবর্তীকালের লোকেরা তাদের দেব মূর্তি নির্মাণ করে। হযরত আয়েশা (রা.) বলেনঃ ইসাফ ও নায়েলাহ উভয়ই মানুষ ছিল। এ ধরনের বর্ণনা লাত, মানাত ও উযযা সম্পর্কেও পাওয়া যায়। হাদীসে মুশরিকদের এ আকীদাও বর্ণিত হয়েছে যে, লাত ও উযযা আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় ছিল। ফলে তিনি শীতকালটি লাতের কাছে এবং গ্রীষ্মকালটি উযযার কাছে কাটাতেন। سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَصِفُونَ(আল্লাহর প্রতি তারা যে দোষারোপ করে তা থেকে তিনি মুক্ত ও পবিত্র)।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর দ্বারা তারা যাদের পূজা করত সেই প্রতিমাদের বোঝানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, তারা অন্যকে সৃষ্টি করবে কি, নিজেরাই তো অন্যের হাতে তৈরি। তাদের না আছে জান, না জীবন। তাদের একথাও জানা নেই যে, মৃত্যুর পর তাদের পূজারীদেরকে কবে পুনরুজ্জীবিত করা হবে?

তাফসীরে জাকারিয়া

২১. তারা নিষ্প্রাণ, নির্জীব এবং কখন তাদেরকে পুনরুথিত করা হবে সে বিষয়ে তাদের কোন চেতনা নেই।(১)

(১) অর্থাৎ অতি ভক্তের দল এসব সত্তাকে সংকট নিরসনকারী, অভিযোগের প্রতিকারকারী, দরিদ্রের সহায়, ধনদাতা এবং আরো কত কিছু মনে করে নিজেদের প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য ডাকতে থাকে। অথচ এরা আসলে মৃত নিশ্চল বস্তু এগুলোতে কোন রূহ নেই। এগুলো কোন কথা শুনে না, দেখে না, বুঝেও না। আরও অতিরিক্ত হচ্ছে যে, এগুলো জানে না কখন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে, তাহলে তাদের কাছে কিভাবে কোন উপকারের আশা করা যেতে পারে? কিভাবে সওয়াব ও প্রতিদানের আশা তাদের কাছে করা যায়? এটা তো শুধু তার কাছ থেকেই জানা যায় যে সবকিছু জানে এবং সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২১) তারা নিষ্প্রাণ, নির্জীব(1) এবং পুনরুত্থান কবে হবে, সে বিষয়ে তাদের কোন চেতনা (বোধ) নেই।(2)

(1) মৃত বলতে প্রাণহীন ও চেতনাহীন জড় (পাথর)ও বটে এবং মৃত সৎলোকও বটে। কারণ মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের কথা বলা (যে ব্যাপারে তাদের কোন বোধ নেই) জড় ব্যতীত সৎলোকেদের জন্যই বেশী সঙ্গত বলে মনে হয়। তাদেরকে শুধু মৃতই বলা হয়নি; বরং জীবিত নয় বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। যাতে কবর পূজার স্পষ্ট খন্ডন হচ্ছে। যারা বলে কবরে দাফন হওয়া ব্যক্তি মৃত নয়, জীবিত। আর আমরা জীবিতদেরকেই ডাকি। আল্লাহর এই কথার পর জানা গেল মৃত্যু এসে যাওয়ার পর পার্থিব জীবন কেউ পেতে পারে না, আর না পৃথিবীর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকে।

(2) তাহলে তাদের থেকে উপকার বা মঙ্গল কামনা কেমন করে করা যেতে পারে?